সাজু ভাই- সিরিজ নম্বর -০৩(গল্প:- সরি আব্বাজান)( সমাপ্ত গল্প) - অধ্যায় ৮

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-52568-post-6080932.html#pid6080932

🕰️ Posted on November 18, 2025 by ✍️ Bangla Golpo (Profile)

🏷️ Tags: None
📖 1664 words / 8 min read

Parent
 পর্বঃ- ০৭ চায়ের কাপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে লিমন, তার পিছনে দাঁড়িয়ে রাগান্বিত হয়ে নানাধরণের প্রশ্ন করে যাচ্ছে নাসরিন। লিমন সবগুলো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছে, কিন্তু নাসরিন তাকে কথা বলেই যাচ্ছে।  " কি হলো চুপ করে আছো কেন? তোমাকে কিন্তু আমি ভালো ভেবেছিলাম, কিন্তু তুমিও ওদের কথা মতো খুন করতে গেলে? " " যথেষ্ট কারণ আছে, আমি লিমন কারণ ছাড়া কোনকিছু করি না। " " কি কারণ জানতে পারি? " " ওর জন্যই আজকে আমি অপরাধী, সেদিন সেই রাতে তৌহিদ যদি এদের সাহায্য না করতো তবে তো এভাবে আমি ফেঁসে যেতাম না। " " টাকার লোভ সবারই থাকে, তোমার বন্ধু ভুল করেছে কিন্তু তুমি মূল খুনিদের না মেরে তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজের বন্ধুাে খুন করলে? " " বেশ করেছি, তুমি একটু চুপ করবে? " " তোমাকেও কিন্তু এরা ব্যবহার করছে, একদিন তোমাকেও তারা স্বার্থ শেষে মেরে ফেলবে। " " তবুও তার আগে আমার মা-বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী লোকদের আমি খুন করতে চাই। তারপর যদি আমাকে তারা সরিয়ে দেয় তাতে আমার কোন আফসোস নেই। "  " নিজেকে নিয়ে ভাবতে পারো না? " " কিছুদিন আগেও খুব স্বপ্ন দেখতাম, মা-বাবার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সব শেষ হয়ে গেছে। তাদেরকে যখন কবরে দাফন করলাম তখনই মনে হয় সব স্বপ্ন দাফন হয়ে গেছে। "  - তুমি কিন্তু আগের দুটো খুন করোনি, তাই তুমি নির্দোষ প্রমাণ হতে পারতে। কিন্তু তোমার বন্ধুকে খুন করে এখন তুমি খুনি হয়ে গেলে, ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে এই বন্দী থেকে বের হবো। কিন্তু তুমিও...! " " তুমি এখন যাও, বিরক্ত লাগছে। " " ভালো কথা কারোরই ভালো লাগে না, সবাই শুধু এই নরপিশাচদের দলে যোগ দেয়। কেউ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় না, আর এভাবেই ওরা দিনে দিনে অপরাধের পাহাড় গড়ছে। "  " একটা কথা বলবো? " " বলো। " " আমি আমার মা-বাবার খুনিদের শেষ করে যদি এদেরকে শেষ করতে চাই তাহলে কি তোমার সহোযোগিতা পাবো? "  " কিন্তু ততদিনে ওরা তোমাকেও সরিয়ে দেবে। " " ওরা যেভাবে পরিকল্পনা করবে, আমি তার ঠিক উল্টো পরিকল্পনা করবো, আচ্ছা তুমি বলো তো এদের বসের সঙ্গে এরা কীভাবে যোগাযোগ করে সবসময় ? " " নিজাম ভাইয়ের সঙ্গে বসের সরাসরি যোগাযোগ আর বাকি সবাই শুধু কলে কথা বলে আর লিখিত নোটিশ পায়। " " আচ্ছা ঠিক আছে। " " তোমাকে একটা কথা বলতে চাই লিমন। " " বলো " " তুমি চাইলেই কিন্তু পালিয়ে যেতে পারবে কারণ তোমাকে ওরা খুন করার জন্য বাইরে পাঠাবে। কিন্তু আমি চাইলেই পালাতে পারবো না, তাই যদি পারো তাহলে আমাকে মুক্ত করে দিও! " " আমি চেষ্টা করবো, তবে আমার প্রধান লক্ষ্য আমার মা-বাবার খুনিরা। " ★★ সামান্য একটা স্বর্নের পুতুলের জন্য সবকিছু যেন খুবই রহস্যময় হয়ে গেছে। হতে পারে সাজুর কাছে যেটা সামান্য, সেটা অন্যের কাছে অসামান্য হতে পারে, কিংবা অন্যকিছু।  রাজু আসলো একটু পরে, সাজু তখনও নিজের রুমের বারান্দায় বসে আছে। রাজু আসতেই সে তাকে বললো:- " কি খবর রাজু? তোমাকে মনে মনে স্মরণ করি আর তুমি এসে হাজির। " " আলহামদুলিল্লাহ ভাই, কিন্তু আমাকে হঠাৎ করে খুঁজছিলেন? " " হ্যাঁ একটা কাজ করে দিতে হবে। " " কি কাজ ভাই? " " আমার সিমের যত নাম্বার সবগুলো আমি একটা ডায়েরিতে লিখে রাখি, তাই সেগুলো সব একটা একটা করে সেইভ করে দিতে হবে। "  " ভাইজান, গুগলের মধ্যে কিন্তু নাম্বার সেইভ করে রাখা যায়, আপনি সেখানে রাখেননি? " " না, কেন যেন ইচ্ছে করে না। তাই সবসময় আমি ডায়েরিতে লিখে রাখতে পছন্দ করি, এখন তুমি সেগুলো একটু সময় নিয়ে সেইভ করে দিও। "  " ঠিক আছে ভাই। " " আমি গতকাল রাত থেকে নাম্বারগুলোর জন্য অনেক মন খারাপ করেছি। কিন্তু জ্বরে অচেতন আর মাথাব্যথার জন্য মনেই ছিল না যে আমার ডায়েরিতে লিখে রেখেছি। " " ভাই আমি তো জানতাম যে আপনি অনেককিছু ভুলে যান, তাই যেকোনো মামলার বিষয় নিয়ে আপনি সবকিছু লিখে রাখেন। " " হ্যাঁ, এই মামলার মধ্যেও তাই করছি। আচ্ছা রাজু, আরেকটা প্রশ্ন করবো তোমাকে? "  " হ্যাঁ ভাই নিশ্চয়ই, তাতে অনুমতি লাগে নাকি? " " তুমি তো মোটামুটি এখন রাজনীতির সঙ্গে মনে হয় জড়িয়ে গেছো, কিন্তু আগে তো এমন ছিলে না তাই না? আমি যেবার খুলনা থেকে পাশ করে বের হলাম সেবার তুমি ভর্তি হলে। " " হ্যাঁ ভাই। " " গ্রামের মধ্যে রুবিনা নামের একটা মেয়ের সঙ্গে তোমার রিলেশন ছিল, তাই না? " " জ্বি, কিন্তু তার সঙ্গে আর যোগাযোগ নেই, সে আমাকে ভুলে গেছে। অনেক ভালবেসেছিলাম কিন্তু কোন মূল্য পেলাম না, পাগলের মতো তার জন্য ভালবাসা রেখেছিলাম। " " আজকে সন্ধ্যা বেলা চা খেতে খেতে তোমার আর রুবিনার প্রেমের কাহিনী শুনবো, যদি তুমি বলতে চাও। " " সত্যি বলছেন? আচ্ছা ভাই আপনি কি আমার বাস্তবতাটা আপনার লেখার মধ্যে তুলে ধরবেন? " " আগে শুনি তারপর দেখি। "  " ঠিক আছে ভাই। "  ★★ পিরোজপুরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে রিক্সা নিয়ে বলেশ্বর সেতুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সাজু ভাই। রাজুকে সঙ্গে আনা হয়নি, কেন যেন মনে হয়েছে তাকে আনার দরকার নেই। কারণ পুতুলটা যে সাজুর কাছে থাকবে সেটা যেন সোহাগি নামে সেই মেয়ে আর সে জানে। যদি তৃতীয় কানে পৌঁছে যায় তাহলে সমস্যা হতে পারে তাই একাই এসেছে সাজু ভাই। নিজের বাইকটা বাসস্ট্যান্ডে রেখে এসেছে কারণ কেউ যদি ফলো করে তবে যেন কিছু বাহানা করা যায়।  ব্রিজের ঠিক মাঝখানে কালো * পরে মুখ আটকে ছাতা মেলে দাঁড়িয়ে আছে সোহাগি। তাকে সনাক্ত করতে খুব বেশি অসুবিধা হয়নি সাজুর, সামনে দাঁড়িয়ে বললো:- " কেমন আছো তুমি? " " জ্বি আলহামদুলিল্লাহ। " " দুঃখিত! তোমাকে খানিকটা অপেক্ষা করতে হয়েছে, আসলে আসরের নামাজ জামাতে আদায় করে আসলাম বাসস্ট্যান্ডে। " " কোন সমস্যা নেই, আমি বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে আর অপেক্ষা করতে চাই না। আপনাকে ওই পুতুলটা দিয়ে আমি চলে যাবো, বাকি সব কথা মোবাইলে বলবো। " " পুতুল গ্রহণ করার আগে আমি তোমার কাছে কিছু প্রশ্ন করবো। নাহলে আমি পুতুল গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবো, কারণ খুবই স্বাভাবিক। " " আচ্ছা বলেন। " " লিমনের বাবা পুতুলটা দেবার সময় তোমাকে কি বলেছিল? নিশ্চয়ই কিছু না বলে এমনি এমনি সে দিয়ে আসেনি! " " আমি এগুলো বিস্তারিত মোবাইলে বলবো, সে অনেক কথা সাজু ভাই, প্লিজ কিছু মনে করবেন না দয়া করে। "  " তোমাকে আমি কতটা বিশ্বাস করতে পারি? যদি তুমি আমার সঙ্গে কোন গেইম খেলতে যাও তবে কি পরিণাম হবে জানো? " - আপনি ভুল বুঝবেন না, আঙ্কেল এটা দেবার সময় আমাকে বলেছিলেন  " তুমি তো আমার লিমনকে খুব ভালবাসো, যদি বেঁচে থাকি তাহলে তোমাকেই আমার ছেলের বউ করবো। আর যদি মারা যাই তাহলে তোমরা যেভাবেই হোক তোমার মা-বাবাকে রাজি করিয়ে বিয়ে করবে। "  তারপর ব্যাগ থেকে পুতুলটা বের করে বলেন যে,  " এটা হচ্ছে স্বর্নের পুতুল, তোমাদের দুজনের উজ্জ্বল এক ভবিষ্যত তৈরি হবে। "  আমি বললাম " কিন্তু আমাকে কেন দিচ্ছেন? "  তিনি বললেন, " এটার পিছনে অনেক শত্রুদের নজর পরেছে, সারাক্ষণ এটা নিয়ে বিপদে আছি। তাই তোমার কাছে রাখতে চাই, যদিও মাটির নিচে কিংবা কোথাও রাখতে পারি। কিন্তু যদি সঠিক সময়ে না থাকি তাহলে তো তোমরা এর সন্ধান বের করতে পারবে না। তুমি যত্ন করে রেখো। " " সাজু ভাই বললেন, আঙ্কেল তাহলে নিজের সব বিপদ অনুভব করতে পেরেছিল, কিন্তু তার ভুল ছিল তিনি এটা অন্য কারো কাছ থেকে এনে নিজে স্বার্থপরের মতো ভোগ করতে চেয়েছিলেন। "  " আপনি এটা নিয়ে যান সাজু ভাই, নাহলে আমি সবসময় আতঙ্কে থাকবো। " " তুমি যে এটা আমার কাছে দিচ্ছ সেটা পৃথিবীর কাউকে বলার দরকার নেই। এমনকি লিমনের কাছেও তুমি বলবে না, কারণ লিমন নিজে এখন অপরাধী হয়ে গেছে। "  " আমি কাউকে বলবো না, তবে আপনার কাছে একটা অনুরোধ রইল, লিমনকে যেভাবেই হোক বাঁচিযে দেবেন, আমি ওকে চাই। " " চেষ্টা করবো, কিন্তু সে গতকাল রাতে তার বন্ধু তৌহিদকে খুন করেছে। আমি আজকে সেখানে যেতাম কিন্তু তোমার জন্য যাইনি, আগামীকাল সকালে খুলনায় সেই মেসে যাবো। "  " ভালো থাকবেন সাজু ভাই। " " তুমিও " পুতুল নিয়ে আবারও রিক্সা করে পিরোজপুরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে এসে নিজের বাইক নিয়ে সরাসরি চলে এলো সাজু ভাই। তাদের গ্রামের স্থানীয় বাজারে যখন এসেছে তখন বাজারের মসজিদে মাগরিবের নামাজ শুরু হয়ে গেছে। তাই তাড়াতাড়ি অযু করে নামাজ পড়তে গেল।  ★★ গল্প যেহেতু আমি লিখি তাই আমার এই পেইজে এড হয়ে থাকার দাওয়াত রইল।  পেইজ মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীব  ★★ নামাজ শেষ করে বাজার থেকে রাজুকে নিয়ে বাড়িতে ফিরলো সাজু, রাজু তার দায়িত্ব পালন করে রেখেছে। সাজু ভাই মোবাইলের ডাটা চালু করে কিছুক্ষণ অনলাইনে হাটাহাটি করছে। হঠাৎ করে চোখে পরলো বেশ কিছু মেসেজ রিকোয়েস্ট জমা হয়ে গেছে। গতকালও ছিল, লেখালেখির জন্য অনেকেই মেসেজ করে, সাজু সময় নিয়ে তাদের সঙ্গে গল্প করতে পছন্দ করে। অনেকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করে, সাজুর রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস ডিভোর্স দেখে অনেক প্রশ্ন করে। সাজুর সেই জবাব দিতে মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগে তবুও সে যতটুকু সম্ভব রিপ্লাই করে।  এক এক করে মেসেজ রিকোয়েস্ট চেক করেই হঠাৎ " সাদিকুল ইসলাম তৌহিদ " আইডি দেখে থমকে গেল। অনেক মেসেজ দিয়েছে তাও ২৬ ঘন্টা আগে, তারমানে গতকাল সন্ধ্যা বেলা।  " সাজু ভাই, হঠাৎ করে লাইন কেটে গেল আর আপনার নাম্বার বন্ধ। আপনার কাছে তাই মেসেজ করতে বাধ্য হলাম, আশা করি আপনার দৃষ্টিতে পরবে। আমি ভুল করেছি সাজু ভাই, সেদিন রাতে লিমন মনিরুল ভাইয়ের বাসায় মাটি খুঁড়ে বের হয়নি। আমিই মাটি খুঁড়ে বের হয়েছিলাম তবে তার আগেই লিমনকে অজ্ঞান করেছিলাম। আর সবকিছুর ব্যবস্থা করেছিল বাহির থেকে অজ্ঞাত তিনটা মানুষ। আমি তাদের চিনি না কিন্তু আমার ছাত্রজীবনে পাঁচ লাখ টাকার মালিক হবার লোভ সংবরণ করতে পারিনি। যার জন্য এখন জীবন নিয়ে ঝুঁকিতে আছি, তাই নিজের খানিকটা ভুলের কারণে লিমন বিপদে পরেছে আর আমি হলাম পাপী। মনির ভাইকে খুন করেছে বাহিরে কিছু মানুষ, আর লিমন তখন অজ্ঞান ছিল। খুনের মধ্যে লিমনের এলাকার চেয়ারম্যান সাহেবের হাত আছে। আর,,,,  বাকিটা শেষ করার আগেই সাজুর দাদি মোবাইল টান দিয়ে নিয়ে গেল। সাজু অসহায় হয়ে তাকিয়ে রইল, আর দাদি বললো:- " কতক্ষন ধরে চা খেতে ডাকছি, সবসময় শুধু মাথাব্যথা বলে চেচামেচি করো। আর মোবাইলের দিকে এতো তাকিয়ে থাকো কেন? তাড়াতাড়ি চা শেষ করো নাহলে ঠান্ডা হয়ে যাবে। " " গুরুত্বপূর্ণ একটা খবর পড়ছি দাদি। " " আগে চা তারপর গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু। " বাধ্য হয়ে সাজু ভাই সামনে রাখা প্লেট থেকে দুটো বিস্কুট তুলে নিল, রাজুর দিকে তাকিয়ে বললো  " শুরু করো রাজু। " ★★ এদিকে,  মাগরিবের একটু পরে নিজের বিছানায় শুয়ে ছিল লিমন, আর তখনই নিজাম উদ্দিন রুমের মধ্যে প্রবেশ করলো। লিমন আস্তে করে বিছানায় উঠে বসলাে, নিজাম উদ্দিন বলল:- " আজকে রাতে তোমার এলাকার চেয়ারম্যানকে চিরনিদ্রায় শায়িত করতে হবে। তিনিও তোমার মা-বাবার সঙ্গে জড়িত, তোমাকে চেয়ারম্যান বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হবে। তারপর তুমি কীভাবে খুন করে ফিরে আসবে সেটা তোমার দায়িত্ব। আর যদি উল্টাপাল্টা কিছু করো তাহলে কিন্তু তোমার জন্য জেলের দরজা খোলা। "  " লিমন শুধু বললো, চেয়ারম্যানকেও খুন করতে হবে? " .   .  
Parent