গোধূলি আলো'র গল্পগুচ্ছ - অধ্যায় ১০৯

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-62343-post-6056082.html#pid6056082

🕰️ Posted on October 13, 2025 by ✍️ Godhuli Alo (Profile)

🏷️ Tags:
📖 452 words / 2 min read

Parent
ভাবছিলাম সরে গিয়ে কোথাও লুকিয়ে পড়বো। কিন্তু দেখলাম তারা একটা বাসে ঢুকে পড়লো। তার মানে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি বাসে ঢুকেই চেক করবে। আমি সরে গেলেও মা ঠিকই ধরা পড়ে যাবে। তাকে একা বিপদের মধ্যে রেখে আমি পালাতে পারি না। তাই ঠাঁয় ওখানেই দাঁড়িয়ে র‌ইলাম। আবার বাবা সভা বসালেন সবাইকে নিয়ে। গম্ভীর স্বরে জানতে চাইলেন, কোথায় যাচ্ছিলে আর সামনে কী করবে বলে ভেবেছিলে? আমি ভেবেছিলাম মা-ই জবাব দেবে। কিন্তু তাকে চুপ দেখে মিনমিন করে বললাম, এসব প্রসঙ্গ তোলা এখন অনাবশ্যক। বাবা মুচকি হেসে বললেন, তবু শুনে দেখি তোমাদের স্বপ্নটা কেমন ছিল? আমি বললাম, সবাই তো দেখেছেই সিলেটগামী বাসে আমরা যাচ্ছিলাম। বাবা বললেন, হুম। তা তো শুনেছিই। কিন্তু ওখানে কোথায়, কার কাছে যাচ্ছিলে? গিয়ে কী করতে? আমি সত্যটাই বলে দিলাম, আমার বন্ধুর বাবার চা বাগানে কাজ করতাম। বাবা আবার‌ও মুচকি হেসে বললেন, আর পড়াশোনা? আমি অগ্রাহ্য করে বললাম, ওসবের আর প্রয়োজন দেখি না। বাবা বললেন, আচ্ছা। তোমরা না হয় ওখানে গিয়ে সুখী হতে। কিন্তু এখানকার অবস্থাটা কী হতো? তোমার মায়ের অবর্তমানে যদি আমি অন্য কাউকে এখানে নিয়ে আসতাম তাহলে এখানে কি কেউ সুখী হতে পারতো? আর পড়াশোনা ছেড়ে চা বাগানে সামান্য চাকরি করে মানবেতর জীবন যাপন করে তোমাদের সুখ‌ও অল্প কয়েকদিনের ভেতরেই পালাতো। জীবন এতো সহজ নয়। আমি বললাম, এছাড়া আর কী করবার ছিল আমাদের? আমরা কেউই এখানে সুখী ন‌ই। বাবা বললেন, তাহলে যাতে তোমরা এখানে সুখী হতে পারো সেই ব্যবস্থাই করা যাক। সবাই অবাক হয়ে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে র‌ইলো। বাবা ধীরে ধীরে বলে চললেন, অনেক ভেবে দেখলাম, নিজের সুখের জন্য চারপাশের সবার শান্তি আমি নষ্ট করতে পারি না। তার চেয়ে ভালো আমি নিজেই যদি এখান থেকে সরে যাই। চিটাগাংয়ের বাড়িতে থেকে ওখানকার ব্যবসায় দেখাশোনা করি আর ওখানেই কাউকে বিয়ে করে নেই। তোমরা সবাই এখানে যেমন ছিলে সেভাবেই থাকো। বাবার কথা শুনে আমি আর মা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। কিন্তু বাড়ির অন্য সবাই খুশি হলো নাকি ব্যথিত হলো সেটি ঠিক বোঝা গেলো না। বড় ভাই তো মরিয়া হয়ে বলেই ফেললো, কিন্তু বাবা .... বাবা তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, কোনো কিন্তু নয়। আমি অনেক ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ রাতেই আমি বাড়ি ছাড়ছি। তোমরা যার যার ঘরে যাও। সবাই চলে যাবার পর বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমিও যাও তোমার মাকে নিয়ে তার ঘরে। আজ থেকে আর কোনোদিন আমি ঐ ঘরে ভাগ বসাতে যাবো না। বাবার কথা শুনে আমি আর মা আপ্লুত হয়ে বাবার পা ধরে সালাম করলাম একসাথে। তিনি আমাদের আশীর্বাদ দিলেন। বাবার ঘর থেকে বেরিয়ে নিজেদের ঘরে গিয়েই আমি দরজা লাগিয়ে দিয়ে মাকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। সে মাখনের মতো আমার বুকে লেপ্টে র‌ইলো। আমি তার পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বললাম, তোমাকে আর কেউ কখনো আমার বুক থেকে আলাদা করতে পারবে না। মা আদুরে বেড়ালের মতো আমার বুকে মুখ ঘষতে ঘষতে বললো, সারা জীবন এভাবেই আগলে রেখো আমাকে। এমনিভাবেই শুরু হলো মায়ের সাথে আমার সংসারের দ্বিতীয় ইনিংস যা এবার নির্বিঘ্নে চলতে লাগলো অবিরামভাবে। সমাপ্ত।
Parent