নৌকায় ঝরের রাতে মায়ের সাথে। - অধ্যায় ৯৫
এরপরে আরেকবার আমরা খেলাধুলা করলাম এবং ঘুমালাম।
আমি মায়ের বিছানায় আর আমার বউ বাবার কাছেই রাতে থাকলো। সকালে যখন ঘুম ভাঙ্গল দেখি পা পাশে নেই, রাতে দুইবার করেছি। ঘুম রয়েছে চোখে তাই আর উঠলাম শুয়ে আছি। তবে জেগেই আছি। তবে ঘরে যে কেউ নেই সেটা বুঝতে পেরেছি কারো কোন সারাশব্দ নেই। কিছুখন পরে উঠে বের হলাম। বাইরে বেড়িয়ে দেখি মা বাবা এবং আমার বউ তিনজনে বসা, মা রান্না করছে বউ সাহায্য করছে আর বাবা বাইরে বেঞ্চে বসে আছে।
বাবা আয় আমরা কত আগে উঠেছি আর তুই ঘুমিয়ে আছিস। তোর মা চায়ের জল চাপিয়েছে বস।
আমি বাবার পাশে বসে হ্যা কষ্ট তো কম হয়নি তাই ঘুম ভাঙতে দেরী হয়েছে।
বাবা কিরে কেমন তোর মা সত্যি বলবি। আরাম দিয়েছ তো।
আমি সে তোমার বউকে জিজ্ঞেস কর আমি পেরেছি কিনা।
বাবা কি গো কেমন দিল ছেলে।
মা তুমি না বার বার এক কথা জিজ্ঞেস করো কয়বার বলব তোমাকে। সকালে এসেও আগে এই কথা জিজ্ঞেস করেছ। অন্য কিছু থাকলে বল যা হবার হয়ে গেছে বলে লাভ নেই যা হয়েছে আরো হবে।
বাবা তারমানে সত্যি ভালো দিয়েছে ছেলে কি বল।
মা আবার কি ছেলে তো আমার মাকে দেবেনা তো কাকে ভালো দেবে, তুমি পাওনি বউমাকে তো নরম করে দিয়েছ এমনিতে বউকে তো ভালো লাগত না কিন্তু যেই আমার সোনা বউমাকে পেয়েছে কেমন করছিলে দেখিনি, তাই ভাবো ছেলে মাকে পেলে কি করতে পারে।
বউ মা বাবা এসব আর বলতে হবেনা কেউ এসে গেলে শুনে ফেললে বিপদ হয়ে যাবে তারথেকে এসব ঘরে বসেই বলা ভালো।
বাবা আরে না না শোন মা কে শুনবে আর কে বুঝবে অত ভয় করলে হয় না। আজকে আমি কত খুশী যা হয়েছে ভালই হয়েছে আজকে আর হাটে যাবনা ওদের গিয়ে বলে দিয়ে আসবো। আজ হাট করব না।
মা ইস বুড়োর সখ কত সারাদিন মাকে নিয়ে থাকবে তাই না। হাটে যাও তাড়াতাড়ি আসবে রাতে পাবে তো।
বাবা ইস আমি হাটে যাবো আর তোমরা দুজনে করবে আর আমার মা কষ্ট পাবে আমার মায়ের বুঝি ইচ্ছে করবে না। আজকের দিনটা বাড়ি থাকি না কি হয়েছে।
মা তোমার বাবা রাজি তো বউকে দেবে তো, ছেলের কাছে।
আমি দ্যাখ মা আমার কোন আপত্তি নেই তবে মাকে যে আমার চাই।
বউ ঠিক আছে আমিও বাবাকে নিয়ে থাকবো আজকে, ঠিক আছে বাবা হাটে যেতে হবেনা। বারিতেই থাকেন।
আমি দ্যাখ মা দ্যাখ তোমার বউমার বাবাকে কত ভালো লেগেছে হাটে যেতে দেবেনা।
মা ঠিক আছে পেছনের ঘরে বিছানা করে রাখলেই হবে আমরা বাইরে থাকবো ওরা দুজনে যাবো, আবার ওদের হয়ে গেল আমরা যাবো। কি গো ঠিক আছে তো কেউ আসলেও ওইদিকে কেউ যাবেনা।
বাবা একদম ঠিক কথা বলেছ তাই হবে আজকে। জীবনে কম তো কামাই করলাম না আজকে না হয় না গেলাম।
মা তোমাকে আমি চিনিনা একবার পরে গেলে আর ভালো লাগবেনা তার থেকে বলে লাভ নেই চা খেয়ে যাও বউমাকের নিয়ে আমরা এইদিকে আছি তারপর ভাব্বে।
আমি অত সবের দরকার নেই বরং আমি হাটে যাই বাবা বাড়িতে থাক।
বাবা না না সেসবের দরকার নেই আমি যে বলেছি তার কি ভাব্লে তোমরা সে বিষয়ে তো কেউ কিছু বলছ না। আমার বড় মায়ের এখন দুধ আছে আমাকে খাওয়াবে না তোমরা।
বউ হ্যা এত কালকে কি বলল বাবা মনে নেই তোমার কি করবে দিদিকে আনবে নাকি। ওমা আপনি কি বলেন।
মা দ্যাখ একটা কথা যে যা করনা কেন আমি কিন্তু আর কারো সাথে কিছু করতে পারবোনা, আমার একমাত্র ছেলে আর কেউ না। তারপরে যদি পারো তোমরা কর আমার আপত্তি নেই। আমাকে জরাবে না।
বাবা তাহলে হবে নাকি দিতে হবে নিতে হবে।
মা দ্যাখ বড় মেয়েকে তোমার ছেলে রাজি করাতে পাড়বে কিন্তু আমি কিন্তু জামাইয়ের সাথে পারবোনা। আমার ছেলে ঠিক আছে অন্য কেউ হবে না।
আমি ঠিক আছে মা তোমার ভাগ আমি কাউকে দেবো না। বাদ দিয়ে সব করব হবে তো।
মা হ্যা তাহলে কর আমার এতে কোন আপত্তি নেই।
বাবা তবে কি করবি সেটা বল।
মা এই নাও চা বলে আমাদের হাতে চা দিল খেয়ে নাও তারপর কি করবে ভাবো।
আমি চায়ে চুমুক দিয়ে বললাম বাবা চা খেয়ে যাও ঘরে যাও। কি গো ছেলে চাইছে তো দেবেনা।
বউ কি আর করা যাবে শুধু কি ছেলের ইচ্ছে মায়ের ও তো ইচ্ছে করে তাইনা।
আমি যাও বাবা যাও, মাকে গিয়ে শান্ত কর তুমি তোমার একখানা মা যা নেয় না কি বল বাবা।
বাবা চায়ের কাপ রেখে এস তো মা বলে বউর হাত ধরে ঘরের দিকে রওয়ানা দিল। দুজনে যাচ্ছে আমি আর মা তাকিয়ে দেখলাম। দুজনে চলে গেল।
মা বলল দ্যাখ আগে যা হয়েছে কেউ যেন না যানে বলতে হবেনা ওদের আমাদের কালকে থেকে হয়েছে সেটার বেশী জানার দরকার নেই।
আমি হুম ঠিক আছে মা আমিও বলি নাই।
মা দিদিকে রাজি করাতে পারবি তো। তোর বাবার সাথে রাজি হবে তো কি বলিস।
আমি হবে হবে কেন হবেনা, বাবার কথা বললে লাফিয়ে উঠবে তোমার মেয়ের যা খাই।
মা দ্যাখ বাপের ইচ্ছে সব ছেলের পূরণ করা উচিৎ। তুমিও করবে আর আমার কথা মনে থাকে যেন, জামাইকে জরাবে না।
আমি না না একদম না সে কেন হবে তুমি চাইছ না আমি কেন মায়ের ভাগ অন্য কাউকে দেবো। আমার মা শুধু আমার। আমি ওমা ওদের হওয়ার পরে আমাদের হবে রান্না শেষ কর বাবা হাটে যাবে যখন যেতে দাও।
মা হ্যা রান্না তো চাপিয়েছি। হয়ে যাবে ভাত তো আগেই করে ফেলেছি একভাগ দুই ভাগ তরকারী করে দিচ্ছি।
আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে কেউ নেই দেখে লুঙ্গি তুলে মাকে দেখালাম দ্যাখ ছেলেকে তুমি দেবে না।
মা এই কি করে ঢাক ঢাক কেউ এসে যাবে পাগল একটা, মা ছেলে খেলে এসে স্নান করে খাবে তখন আমরা করব। এই বলে তরকারী চাপিয়ে দিল কড়াইতে।
আমি মা আমি একবার দেখে আসি ওরা কি করছে।
মা না যেতে হবেনা ওরা করে করুক গিয়ে পরে নিজেও ঢুকিয়ে দেবে দরকার নেই একটু পরেই আমরা যাবো। তার থেকে গউকে কিছু খাবার দিয়ে আসো যাও আমি রান্না শেষ করি।
আমি আচ্ছা বলে উঠে গরুকে খর দিতে গেলাম। ভালো করে কেটে খর দিলাম আর জল দিলাম তারপর আমি আবার ফিরে এলাম। এসে দেখি মা নেই রান্না শেষ করে ফেলেছে। দাড়িয়ে ভাবলাম মা মনে হয় ঘরে গেছে। বসলাম মায়ের আজ্ঞা ফেলা যাবেনা।
এরমধ্যে এক ঠাকুমা এল কিরে শালা মা কই নতুন বউ পেয়ে ভুলে গেল আমাদের এখন আর যাও না ওদিকে।
আমি হ্যা গো কাজ বেড়ে গেছে।
ঠাকুমা তোর মা কই।
আমি বাঃ ঘরে বাবা বের হবে তো তাই মা সব গুছিয়ে দিচ্ছে তুমি একটু বেলায় এস মা একাই থাকবে আমি দিদি বাড়ি যাবো এখন মায়ের সাথে কথা হবেনা।
ঠাকুমা শালা অত সুন্দর বউ এনে দিয়েছি আমাকে খাঁয়াতে হবে।
আমি আচ্ছা সে তোমাকে খাওয়াবো কয়দিন যাক দিদি আসুক তোমাকে ডাকবো।
ঠাকুমা তোর দিদির ছেলে কেমন আছে ভালো তো। খুব সুন্দর ছেলে হয়েছে একদম তোর মতন। মামার ভাগ্নে।
আমি মনে মনে বললাম হবেনা ছেলেটা তো আমার।
ঠাকুমা কিরে ভাগ্নের নাম নিতেই কেওম ভাবছিস।
আমি হ্যা মা বলছিল নাতিকে কতদিন দেখিনা নিয়ে আয় তাই তো দিদিকে আনতে যাবো।
ঠাকুমা- হ্যা যা যা ওদের নিয়ে আয়, কতদিন বাচ্চা হচ্ছিল না যাক ভগবান মুখ তুলে তাকিয়েছে এবার ভালো হবে। না যাই তোর মায়ের কাছে এসেছিলাম যাক পরে আসবো বলে গুটি গুটি পায়ে চলে গেল।
আমি কি করব ভাবছি এরমধ্যে দেখি মা বাবা আর আমার বউ বেরিয়েছে ঘর থেকে। আমি কাছে গিয়ে কি হয়েছে তোমাদের।
মা দেখিস নে কেমন ঘেমে গেছে বুড়োর গায়ে দম এসেছে। আমি গিয়ে দেখি জোড়া লেগে আছে বুঝলি।
আমি- সব খুলে নিয়েছিলে তোমরা।
মা আরে হ্যা এক চিলতে কাপড় ছিল না দুজনার। এই চাদর তুলে নিয়ে এসেছি ভিজিয়ে দিয়েছে। এই বলে বাবাকে বলল যাও এবার স্নান করে আসো বউমা তুমি যাও স্নান করে আসো।
বাবা হ্যা মা চলো দুজনে স্নান করে আসি।
আমি কি গো আবার জলে গিয়ে ঢোকানোর ইচ্ছে নাকি।
বাবা না না আর হবেনা এত পারাজায়নাকি। বলে দুজনে পুকূর ঘাটে গেল।
মা রান্না ঘরের দিকে যেতে যেতে বলল আয় খাবার রেডি করি। বলে দুজনে গেলাম। মা খাবার রেডি করছে কিরে তুই খাবি।
আমি না আগে মাকে খাবো তারপর ভরা পেটে পারবোনা।
মা আমিও তাই ভাবছিলাম।