আমার দুনিয়া ✍️Relax--Session with শাশুড়ি✍️ (চলছে) - অধ্যায় ১০০
Rabby is Back
এখন থেকে রাব্বীলের জবানী জানতে চাইলে
মিমের দুনিয়া থেকে ১-১৫ পর্যন্ত পর্ব
আগে পড়তে হবে।
নয়তো কাহিনি গুলিয়ে যাবে।
মিমের দুনিয়ার লিঙ্কঃ মিমের দুনিয়া
(১০১)
জানতাম সক্কাল সক্কাল মিম আমাকে মেসেজ দিবে। অপেক্ষায় ছিলাম।
আমার সারা রাত ঘুম নাই। কত কি প্লান করে তা কার্যকর করতে হয়েছে।
আমি আমার টিমের সাথে বসে আছি। আজ কেউ ঘুমাইনি আমরা। চা মুড়ি খাচ্ছি। হঠাৎ বউ এর মেসেজ আসলো। আমি সব্বাইকে ইশারাই বললাম, তোদের ভাবি মেসেজ দিয়েছে।
“হাই পোলার বাপ। গুড মর্নিং।”
“বাব্বাহ, বন্ধু আমার এত সকালেই উঠে গুড মর্নিং দিচ্ছে। রাতে কি ঘুমাইনি নাকি?”
“নাগো। ঘুমিয়েছি। আজ মর্নিং টা গুড তো তাই। হি হি হি।”
মিমের মেসেজ পেয়ে আমি মুচকি হাসলাম।
“ওমা তাই নাকি? তা কিসের গুড শুনি? আন্টি আর মামার রহস্য উদঘাটন হয়ে গেছে নাকি?”
“আরেহ নাহ। অন্য ব্যাপারে।”
“তা কি শুনি?”
“শুনলে তুমি চমকে যাবে।”
“প্লিজ, বহুদিন চমকাইনা। জলদি বলো।”
“হি হি হি। ওকে তাহলে শুনো। আমার বর রাব্বীল বেচে আছে।”
“কিইইই?” মনে মনে হেসে চমকানোর অভনয় করছি।
“হ্যা, যা শুনলা সত্যি।”
“কবর থেকে উঠে এলো নাকি?”
“সে অনেক কাহিনি। তোমাকে পরে সব শুনাবো। আপাতত এটাই নিউজ, আমার স্বামি বেচে। থাকো, পরে কথা বলছি।”
বউ লাইন থেকে চলে গেলো। পাশে নাদিম, সৈকত, আবির বসে। আবিরের বউ, মাহি ভাবি আমাদের সামনে বসে। আমরা ৫জন একই রুমে, আবিরের ভাড়া বাসায় বসে আছি। এরা ৪জন আমার প্লানের সঙ্গি। আমি ফোনটা রাখলাম পাশে। ভাবি প্রথম জিজ্ঞেস করলো— “কি বললো মিম? প্লান অনুযায়ী কাজ হয়েছে তো?”
“হ্যা। সব ওকে। এখন সামনের প্লানের জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে।”
নাদিম বললো, “ধর টাকা মামা নিয়ে আসলো, নিবি কোথায় কিভাবে?”
“সেটাই তো প্লান করতে হবে।”
সৈকত বললো, “তোর কি মনে হয়, ওর মামা এই টাকা দিবে?”
“দুদিন থেকে মিমের মুখে ওর মামা বাড়ির ব্যাপারে যা শুনলাম, মনে হয় দিবে। তাছারা না দিয়ে যাবে কই।”
আবির বললো, “দেখ ভাই, প্লানের শেষ টার্ম বাকি। খুব সাবধানে প্লান করতে হবে। নয়তো কোনো মতে যদি ধরা পরিস, সব শেষ।”
মাহি ভাবি বললো, “আমার তো ভয় কাজ করছে, মামা যদি কৌশলে পুলিশে চলে যায়।”
“নাদিম ফোনে যেভাবে কথা বললো, মনে হয়না পুলিশে যাবে। তবুও আমাদের সাবধানে থাকতে হবে। এছারা মিম লাইনে আসলে ওর সাথে কথা বলার ফাকে কৌশনে নিজেই বলে দিব, পুলিশ টুলিশ যেন মামা না করতে যায়, তখন ওরা রাগ করে রাব্বীলকে মেরেই না ফেলে দেই!”
ভাবি বললো, “ওকে, তাহলে এবার সবাই শান্ত হয়েছো তো? এখন প্লিজ কিছুক্ষণ সবাই ঘুমাও। নয়তো না ঘুমিয়ে তোমরা নিজেরাই শেষ হয়ে যাবে।”
তাই করলাম আমরা। আবির পাশের রুমে চলে গেলো। আমি নাদিম আর সৈকত একই রুমে সুয়ে পড়লাম। আমাদের ঘুম হলে ভাবি নাস্তা দিবে বলে গেলো।
পাশে ওরা ২জন ঘুমালেও আমার চোখে ঘুম নাই। আসলেই লাস্ট ৪০দিন থেকে আমি প্রায় রুগি হয়ে গেছি।
সেদিনের সেবহান আংকেল আর মিমের কথোপকথন রুমের বাইরে থেকে শোনার পর আমার কপ্পনার সাজানো গোছানো “আমার দুনিয়া” টাই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। আজ যদি এক্সিডেন্ট এর প্লান না করতাম তাহলে আমি ঐ পুরো পরিবারটার কাছে একজন মানসিক রুগিতে পরিনত হতাম। সেবহান আংকেল ও আমাকে যতবার দেখতো, একদম বাজে ভাবতো। কারণ উনিই আমার দুনিয়ায় ঢুকে সব পড়ে ফেলেছেন।
সেদিনের পর থেকে আমার প্লানে শুধু একটাই কাজ---এদের মাথায় এমন কিছু ইনস্ট্যান্ট ঢুকানো যাতে আমাকে নিয়ে এসব ভাবনা আর মাথায় না আসে। আমি জানি, দুনিয়ার সবচেয়ে জঘণ্য প্লান এটা। এই ৪০ দিনে আমার বউ যে পরিমাণ কস্ট পেয়েছে, মাঝে মাঝে আমি নিজেই কান্না করতাম। একজন সাদাসিধে মেয়ে, অথচ আমি তাকে কাদাচ্ছি।
এই প্লান করতে গিয়ে প্লানের অংশ হিসেবে আমার বাবা মাকেও নিতে হয়েছে। তাদের এবং আমার এই ৩জন বন্ধুকে প্লানের সত্যটা বলতে পারিনি। কিভাবেই বা তাদেরকে আমার “আমার দুনিয়া”র ব্যাপারে বলবো?
তাই তাদের সাথেও আমাকে অন্য ভাবে প্লান করতে হয়েছে। তাদের বুঝাতে হয়েছে, শ্বশুরের চাকরি থাকা অবস্থায় যত শত্রু তৈরি হয়েছে সবকটাই এখন আমাকে টার্গেক করছে এই বাড়ির জামাই হিসেবে। আর তাই ব্লাকমেইল+জিম্মির প্লান করে যেভাবেই হোক এই বাড়িটা বিক্রি করে যেন আমার শাশুড়ি অন্য জায়গায় মফস্বল কোনো এলাকায় বাড়ি বানাই। আর সেখানেই আমরা সুখে শান্তিতে থাকবো।
তাদেরকে এই প্লান বলার পর প্লানের শেষে এসে ঘটনার মোড় অন্য দিকে ঘুরে গেলো। এখন আজ সকালেই মামাকে ফোন দিয়ে সরাসরি ৩৫ লাখ টাকা দাবি করলাম।
আমার যতটুক ধারণা, মামা এদেরকে বাড়ি বিক্রি আর করতে দিবেনা। মামা নিজেই টাকাটা দিয়ে দিবে।
দিলে তো ভালই। টাকাটা তো আমার পকেটেই আসছে। আমিই তাদের কাছে ফেরত গিয়ে, আমিই মামাকে বলে দিবো, মামা আপনাকে আপনার টাকা আমিই আসতে ধিরে ফেরত দিয়ে দিব।
যদিও এই ৪০ দিনে প্রায় লাখ ৫ খরচ হয়ে গেছে----এক বন্ধুকে দিয়ে মেডিক্যালের নামহীন লাশ ম্যানেজ করে ডাক্তার ম্যানেজ করতে হয়েছে। বন্ধু রাজি হবেনা, কত করে রাজি করানো। নিজের ল্যাপটপ ফোন ভেঙ্গে এসেছিলাম, সেগুলো কিনতে হয়েছে। আছি আবিরের ভাড়া বাসায়, খরচ আছে। সব মিলিয়ে আমার পকেট থেকে ৫ এর উপরে গেছে।
লাস্ট ৪০ দিনের রাত দিনের প্লান এবং টেনশানে, আমার চেহারার যা অবস্থা হয়েছে, আমি উদ্ধার (কথিত) হয়ে যখন ওদের কাছে যাবো, তখন ওরা আমাকে দেখে সত্যিই ভাববে আমি কোথায় একটা জিম্মি ছিলাম।
আমার জীবনি দিয়ে একটা হলিউড সিনেমা বানানো যাবে। কাল্পনিক “আমার দুনিয়া”র রেশ ধরে বাস্তবিক এই ৪০ দিনের যে প্লান, এবং সেটার বাস্তবায়ন যেন সিনেমাকেও হার মানাবে।
যাহোক, চোখ বুঝে আসছে আমার। কিছুক্ষণ ঘুম দরকার। কিছুক্ষণ পরেই হয়তো মামা ফোন দিতে পারে নাদিমের ফোনে।