অঘটনঘটন পটিয়সী (নতুন আপডেট ৩৭) - অধ্যায় ২৩৫

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-52771-post-6289764.html#pid6289764

🕰️ Posted on August 17, 2026 by ✍️ কাদের (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1205 words / 5 min read

Parent
ঙ সাফিনাদের বেশ বড় ডাইনিং টেবিল। টেবিলের দুই সাইডে তিন তিন ছয় জন বসতে পারে আর দুই মাথায় দুই জন। মোট আট জন। বড় মেহগনি কাঠের ডাইনিং টেবিল, কাল রঙের বার্নিশ করা। টেবিলের উপর একটা খুব সুন্দর ওয়ান টাইম টেবিল ক্লথ বসানো। খাবার শেষে যেন ইজিলি সেই টেবিল ক্লথ তুলে ফেলা যায়। টেবিল পরিষ্কার করার বেশি ঝামেলা নেই এতে। বাসায় লোক আছে নয় জন। আসমা বেগম, মিজবাহ, সাফিনা, নুসাইবা, আরশাদ, সাবরিনা, সাদমান, সিনথিয়া এবং মাহফুজ। একটা প্লেস শর্ট। কে বসবে কে বসবে না এটা নিয়ে প্রথমে কতক্ষণ দর কষাকষি হল। সাফিনা বলল আমি বাড়ির হোস্ট আমি পরে খাব। বাকিরা মানতে নারাজ। পরে একটা চেয়ার জুড়ে দেওয়া হল এক্সট্রা। এত এত খাবারের আয়োজন তার উপর একটা এক্সট্রা চেয়ার হওয়াতে সবাই বেশ জড়সড় হয়ে বসতে হলো। টেবিলের এক মাথায় আসমা বেগম আর আরেক মাথায় সাফিনা করিম। সাফিনা করিমের দুই সাইডে বসল সিনথিয়া আর মাহফুজ। আর মাহফুজের পাশে নুসাইবা। নুসাইবার পাশে সাদমান আর অপজিটে আরশাদ। সাবরিনা আর মিজবাহ করিম আসমা বেগমের দুই পাশে। টেবিল ভর্তি নানা পদের রান্না। এই কয়দিন বেশ রিচ ফুড খাওয়া হচ্ছে দেখে আজকে সব দেশী খাবার। মাছ আছে তিন রকমের। ঝাল মুরগী, গরু, ডাল, লাল শাক। মিজবাহ বলল এত খাবার তো অনেক কাল চোখে দেখি না। সাফিনা বলল দুই জামাই একসাথে বাসায় এর থেকে কম রান্না করা যায় নাকি। এইবার মিজবাহের পাশে বসা আসমা বেগম বললেন বাবা তুমি তো আমার বাড়ির জামাই। তুমি ময়মংসিং আস তোমারে আর বেশি রান্না করে খাওয়াবো। টেবিলে হাসির রোল উঠল। খাওয়া দাওয়া চলছে এর মাঝে কথা বার্তা। মাহফুজের পাশে বসা সাফিনা একের পর এক খাবার একটু পর পর পাতে বেড়ে দিচ্ছে। মাহফুজ যত না না করছে সাফিনা তত বলছেন আরে আরেকটু খাও। ঐদিকে নুসাইবা কে বললেন সাদমান কে যেন খাবার বেড়ে দেয়। দুই জামাইয়ের যত্নের যাতে অভাব না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছেন। এর মাঝে কোন বাটির খাবার কম পড়লে নিজে উঠে গিয়ে রান্না ঘর থেকে সে বাটি রিফিল করে আনছেন। এই কথা বার্তা খাওয়া দাওয়ার মাঝে মাহফুজ হঠাত টের পেল ওর পায়ে পা ঘষছে একটি নরম পা। চমকে উঠে আশেপাশে তাকালো। সাফিনা, নুসাইবা আর সিনথিয়া। সাফিনা কথা বলছেন সিনথিয়ার সাথে। নুসাইবা ঐ পাশে সাদমানের প্লেটে কিছু একটা তুলে দিতে ব্যস্ত। কার পা? আবার ওর পায়ের গোড়ালি বরাবর পা ঘষছে। পাঞ্জাবী পড়ায় আজকে পা খালি। সেই খালি পায়ে উষ্ণ নরম পায়ের স্পর্শ একটা শিরশিরে অনুভূতি বয়ে যায় ওর শরীরে। সিনথিয়ার দিকে আবার তাকায়, মায়ের সাথে কথা বলতে বলতে হঠাত করে ওর দিকে তাকিয়ে একটা চোক টিপ দেয় সবার অলক্ষ্যে। মাহফুজ বুঝে এইবার কার পা। সিনথিয়ার পাগলামী। এই এক কারণে আর সবার থেকে আলাদা সিনথিয়া। মাহফুজ পাত্তা না দেবার চেষ্টা করে। কিন্তু এই যে পাত্তা না দেবার চেষ্টা এটা সিনথিয়ার জেদ আর বাড়িয়ে দেয়। সিনথিয়া জানে মাহফুজের কোন বাটন পুশ করতে হবে। পায়ের গোড়ালি থেকে হাটু অবদি পা দিয়ে ঘষে দিতে থাকে। একটু আগে নুসাইবা যে আগুন জ্বালিয়েছিল সেই আগুন নিভে নি পুরোপুরি। এই ভরা টেবিলে সিনথিয়ার এই গোপন আক্রমণ ওর ভিতরের সেই আগুনে আবার পেট্রোল ঢেলে দিল। মাহফুজ একবার পা সরিয়ে নিতে চাইল পারল না সিনথিয়া আবার পা সরিয়ে ঠিক ওর পায়ের খোজ পেয়ে গেল। এর মাঝে সাফিনা নতুন জামাই এর সাথে খেতে খেতে আলাপ শুরু করলেন। মাহফুজ বই পড়ে শুনে বেশ অবাক হয়েছেন। সিনথিয়া অন্য দিক থেকে বলল আম্মু আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম ওর বই পড়ার অভ্যাসের কথা। তুমি ও পলিটিক্স করে শুনে পরে বাকি কথা আর কিছু মনে রাখ নাই। সিনথিয়ার ডাইরেক্ট কথায় একটু হতচকিত হয়ে যান সাফিনা। এইভাবে নতুন জামাই এর সামনে সিনথিয়া বলবে বুঝত পারেন নি।  সাফিনা কথা ঘুরানোর জন্য বলেন আরেহ নাহ, আজকাল যখন কেউ বই পড়ে বলে দেখা যায় বেশির ভাগ হালের কিছু চলতি রাইটারদের কথা বলে যাদের বাক্য গঠন ঠিক নেই। এর থেকে বেশি হলে বড় জোর হুমায়ুন আর সমরেশ। এটার সাথে ওর পলিটিক্সের কোন সম্পর্ক নেই। মাহফুজ এইবার শাশুড়ি কি উদ্ধার করতে নিজে এগিয়ে আসে। বলে আপনি ঠিক বলেছেন আজকাল পড়ার অভ্যাস অনেক কমে গেছে মানুষের। সাফিনা এইবার সিনথিয়ার দিকে তাকিয়ে বলেন দেখেছিস তোর মত কথায় কথায় ভুল ধরে না মাহফুজ ভাল ছেলে। সিনথিয়া টেবিলের তলা দিয়ে মাহফুজের পায়ে সুরসুরি দেয় আর মা কে বলে এত বছর ধরে মেয়ে ছিল পাশে আর জামাই কে কয়দিন পেয়ে খুব পাত্তা দিচ্ছ তাই না। সিনথিয়ার গলায় দুষ্টমির সুর। সাফিনা বলে তুই তো সব সময় ছিল তোকে আমি জন্মের আগে থেকে চিনি। আমার থেকে তোর জন্ম। আর মাহফুজ তো আমাদের পরিবারের অংশ হল অল্প কিছুদিন তাই ওকে আমাদের আরো জানতে হলে তো কথা বলতে হবে তাই না। সিনথিয়া বলে আমিও কিন্তু পড়ি মা কিন্তু তুমি আমার সাথে এগুলো নিয়ে কথা বলো না। সাফিনা বলেন তুই তো খালি মাংগা পড়িস মা, এই মাংগা জাপানিজ কার্টুন তো আমি বুঝি না। সিনথিয়া বলল সাবধান মা মাংগা কে কার্টুন বলবে না। সাফিনা হেসে উঠেন আচ্ছে আচ্ছা। তারপর মাহফুজের দিকে ঘুরে বললেন তুমি কি মাংগা পড় নাকি? মাহফুজ বলল সিনথিয়ার সাথে থেকে থেকে কিছু পড়েছি। সাফিনা আবার জিজ্ঞেস করলেন বাংলা কার কার লেখা পড়? মাহফুজ বলল নতুন পুরাতন অনেকের লেখা পড়ি। তবে হয়ত আপনার মত অত পড়া হয়নি। সাফিনা, মাহফুজের ফ্লাটারি গায়ে মাখলেন কিনা বুঝা গেল না। আবার জিজ্ঞেস করলেন তিন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা পড়া হয়েছে। মাহফুজ বলল হ্যা, তব সব গুলো নয়। কাকে বেশি পছন্দ এই দিন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাঝে? মাহফুজ বলল মানিক। সাফিনা উহ করে একটা শব্দ করলেন বললেন আমারো তো মানিক পছন্দ। এইবার মাহফুজের পালটা প্রশ্ন তাই? মানিকের প্রিয় লেখা কোনটা আপনার? পতুল নাচের ইতিকথা। মাহফুজ সংগে সংগে বলে উঠল- “শরীর! শরীর! তোমার কি মন নাই কুসুম?”। মাহফুজের কথা শুনে সাফিনার চোখে মুখে খুশির ঝিলিক দিয়ে উঠল। সিনথিয়া ঐপাশ থেকে জিজ্ঞেস করল এই লাইনের মানে কি? সাফিনা এইবার হাসি দিয়ে বলল মাই ডীয়ার গার্ল, ইউ হ্যাভ টু রিড মানিক টু আন্ডারস্ট্যান্ড দ্যাট। সিনথিয়া বলল মা তুমি একদম টিচার টিচার। সাফিনা বলল কেন? সিনথিয়া বলল কারণ টিচারদের কোন প্রশ্ন করলে সহজ উত্তর দিবে না তুমিও তাই। সারাদিন ছাত্র পড়াতে পড়াতে এখন আর সরাসরি উত্তর দাও না। হেসে দেয় সাফিনা। মাহফুজ মাঝে সমঝোতা করবার জন্য বলে আসলে এই গল্পের অন্যতম মূল চরিত্র শশী ডাক্তার তার লাভ ইন্টারেস্ট কে বলে এই কথাটা। ফ্রয়েড তো বুঝ, আমাদের অবদমিত ইচ্ছার একটা বহিঃপ্রকাশ বলতে পার এই লাইন। সিনথিয়া এইবার একটু হেসে বলল কংগ্রেচুলেশন মা, এইবার বাসায় তোমার ভাষায় তোমার মত সাহিত্য আলোচনা করার মত আরেকটা লোক পেয়ে গেলে। এইবার তিনজন  একসাথে হেসে উঠে। সাফিনা বলে টা কি খারাপ। সিনথিয়া বলে তা না তবে আমি বই পড়লেও আমার রুচি তোমার থেকে আলাদা আবার দেখা যাচ্ছে মাহফুজের সাথে তোমার পড়ার রুচির মিল আছে তাহলে তো একজনের সাথে অন্তত  তুমি এই বিষয়ে গল্প করতে পারবে। তা মাহফুজ কত পেল তোমার কাছে এই বিষয়ে? সাফিনা একবার মাহফুজের দিকে তাকান, মাহফুজ একটু টেন্সড হয়ে অপেক্ষা করে কারণ এই প্রথমবার সিনথিয়া ওর সামনে শাশুড়ি কে সরাসরি ওর ব্যাপারে কোন প্রশ্ন করেছে। কয়েক সেকন্ড বিরতি দিয়ে বলেন, মাহফুজ ইজিলি ৮০% পেয়ে যাবে আমার কাছে এই বিষয়ে। সেখান থেকে আবার হাসাহাসি শুরু হয়। সিনথিয়া ডাক দিয়ে টেবিলের সবাই কে বলতে থাকে কিভাবে সাহিত্য আলোচনায় মাহফুজ ৮০% মার্কস পেয়েছে মায়ের কাছে। সবাই এটা নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে। কংগ্রেচুলেশন দেয় মাহফুজ কে। মিজবাহ টেবিলের ওপর পাশ থেকে বলে তোমার শাশুড়ির কাছে কিন্তু ৮০% পাওয়া যা তা না, আমি এখনও পাই নি কখনো। আমি ৬০% পেলেই খুশি যে কোন বিষয়ে। হাসির রোল উঠে আরেকবার। আসমা বেগম তার জামাই এর সাথে যোগ দিয়ে বলেন আমাকে মা হিসেবে ৬০% দিবে বলে মনে হয় না সাফিনা। এইবার অট্টহাসির রোল উঠে। সাফিনা বলেন মা তুমিও ওদের দুষ্টমীতে যোগ দিলা। আসমা বেগম এইবার বললেন আমার বয়স হয়েছে তবে তোর মত বুড়ো হই নি। এইবার আরেকদফা হাসির রোল উঠলো। সিনথিয়া বলল আমার গ্রেট নানী, আমি তোমার পক্ষে। এইভাবে হাসি ঠাট্টায় ডিনার এগিয়ে চলল।
Parent