ছায়ার আড়ালে আগুন -Crime Thriller [Part-3: অন্ধকারের অধিশ্বর] - অধ্যায় ৫৮

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-71326-post-6242321.html#pid6242321

🕰️ Posted on June 18, 2026 by ✍️ indonetguru (Profile)

🏷️ Tags:
📖 740 words / 3 min read

Parent
[b]গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৩: অন্ধকারের অধীশ্বর)  [/b] সাতান্নতম[b] পরিচ্ছেদ: [/b]বিশ্বাসঘাতকের প্রতিশোধ তিন দিন পর। সকাল সাড়ে নয়টা। বিন্দুবালা দেবীর বাড়ির সামনে দুটো সাদা পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়াল। একটা গাড়িতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের লোকজন, আরেকটা গাড়িতে উত্তর প্রদেশ পুলিশের ইউনিফর্ম পরা কয়েকজন লোক। মোট তেরো-চোদ্দোজনের একটা দল। তাদের মাঝখানে অংশুমান — সাদা শার্ট পরা, চোখে সানগ্লাস, মুখে কোনো আবেগ নেই। সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখ দুটো ঠান্ডা আর স্থির। বাড়ির দরজায় জোরে টোকা পড়ল। বিন্দুবালা দেবী নিজে দরজা খুলতে গেলেন। তিনি এখনো সকালের চা খাচ্ছিলেন। দরজা খুলতেই তিনি প্রথমে অংশুমানকে দেখলেন। তার পাশে দুজন পুলিশ অফিসার দাঁড়িয়ে আছে। বিন্দুবালার মুখটা মুহূর্তে ফ্যাকাশে হয়ে গেল। তিনি যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে অংশুমান এভাবে পুলিশের সাথে তার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। “অংশু…” বিন্দুবালা অবাক হয়ে বললেন। তার গলায় বিস্ময় আর অবিশ্বাস মিশে ছিল। অংশুমান কোনো কথা বলল না। শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখে কোনো লজ্জা বা অনুতাপ নেই। একজন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অফিসার সামনে এগিয়ে এসে বাংলায় বলল, “ব্রজদাসী দেবী কোথায়?” বিন্দুবালা থমকে গেলেন। তিনি রানির দিকে তাকালেন। রানি পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, তার মুখে থমথমে ভাব। সে কিছু বলল না, শুধু চুপচাপ সব দেখছিল। কয়েক সেকেন্ড পর ব্রজদাসী ভিতর থেকে বেরিয়ে এলেন। তিনি এখনো সকালের কাজ সেরে আসছিলেন। হাতে একটা কাপড়। তিনি দরজার কাছে এসে দাঁড়াতেই উত্তর প্রদেশের একজন পুলিশ অফিসার সামনে এগিয়ে এসে হিন্দিতে বলল, “হাম বৃন্দাবন সে আয়ে হ্যায়। সোনে কা জেওয়ার চোরী কে ইলজাম পে ম্যায় আপকো গ্রিফতার কর রাহা হূँ। হাম আজ আপকো উত্তর প্রদেশ লে কে জা রাহা হূँ!” ব্রজদাসীর মুখটা সাদা হয়ে গেল। তিনি বিন্দুবালার দিকে তাকালেন, যেন সাহায্য চাইছেন। তার শরীরটা কেঁপে উঠল। বিন্দুবালা দেবী বিস্ময়ে ফেটে পড়লেন। “কী বলছেন আপনারা? ব্রজদাসী চুরি করেছে? এটা সম্ভব না! ও আমার সঙ্গী! ও তো কখনো এমন কিছু করতে পারে না! আপনারা ভুল করছেন!” পুলিশ অফিসার তাকে থামিয়ে দিয়ে শান্ত গলায় বলল, “ম্যাডাম, আমাদের কাছে প্রমাণ আছে। আপনি এখন পথে দাঁড়াবেন না।” দুজন পুলিশ অফিসার এগিয়ে এসে ব্রজদাসীর দুই হাত ধরে ফেলল। ব্রজদাসী কাঁপতে কাঁপতে বললেন, “বিন্দু… বিন্দু… আমি কিছু করিনি… আমি কিছু চুরি করিনি… আমাকে বিশ্বাস করো…” বিন্দুবালা রাগে-বিস্ময়ে কাঁপছিলেন। তিনি অংশুমানের দিকে তাকালেন। অংশুমান এখনো চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখে কোনো আবেগ নেই। সে যেন সবকিছু আগে থেকেই জানত। পুলিশ ব্রজদাসীকে নিয়ে গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে লাগল। ব্রজদাসী কাঁদতে কাঁদতে বিন্দুবালার দিকে তাকিয়ে রইলেন। বিন্দুবালা তাঁর দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন, “ব্রজু… ব্রজু… তুই চিন্তা করিস না। আমি দেখছি…” কিন্তু পুলিশ তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেল। গাড়ি দুটো চলে যাওয়ার পর অংশুমান এখনো সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। বিন্দুবালা দেবী ধীরে ধীরে অংশুমানের দিকে এগিয়ে এলেন। তাঁর চোখ দুটো রাগে জ্বলছে। তিনি অংশুমানের মুখের সামনে এসে দাঁড়িয়ে তীব্র গলায় বললেন, “শুয়োরের বাচ্চা!” অংশুমান হালকা হেসে বলল, “মাইন্ড ইয়োর ল্যাঙ্গুয়েজ, মাসী। নাহলে কিন্তু তোমাকেও জেলে যেতে হবে।” বিন্দুবালা দেবী আরও কাছে এগিয়ে এসে বললেন, “তুই আমার বাড়িতে এসে আমার সঙ্গীর সোনা চুরি করেছিস… আর এখন পুলিশ নিয়ে এসে তাকে গ্রেপ্তার করালি? তুই বিশ্বাসঘাতক! শালা! আমি তোকে বিশ্বাস করেছিলাম!” অংশুমান শান্ত গলায় বলল, “আমি শুধু আইনের সাহায্য নিয়েছি, মাসী। ব্রজদাসী চুরি করেছে। প্রমাণ আছে।” বিন্দুবালা রাগে কাঁপছিলেন। তিনি বললেন, “তুই আমার বাড়িতে এসে আমার বিশ্বাস নষ্ট করেছিস… আমি তোকে বিশ্বাস করেছিলাম! তুই আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলি!” ঠিক তখন রানি দরজার কাছ থেকে একটা বন্দুক নামিয়ে নিল। সেটা বাড়ির দেওয়ালে টাঙানো ছিল। সে বন্দুকটা তুলে অংশুমানের দিকে তাক করে ধরল। তার চোখ দুটো ঠান্ডা আর দৃঢ়। হাতটা কাঁপছিল না। “দেখি, আর কতজনকে জেলে পাঠাতে পারিস তুই?” রানি শান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ গলায় বলল। অংশুমান অট্টহাসি দিয়ে উঠল। তার হাসি এত জোরে ছিল যে চারপাশে প্রতিধ্বনি তুলল। সে হাসতে হাসতে বলল, “বন্দুকে গুলি আছে তো?” রানি বন্দুকের ট্রিগারে আঙুল রেখে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখে কোনো ভয় নেই। বিন্দুবালা দেবী রানির দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙিয়ে বললেন, “রানি! ভেতরে যা!” রানি কয়েক সেকেন্ড অংশুমানের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বন্দুকটা নামিয়ে ভেতরে চলে গেল। বিন্দুবালা দেবী এবার অংশুমানের দিকে আঙুল তুলে বললেন, “তোকে আমি দেখে নেব।” অংশুমান হালকা হেসে বলল, “দেখবেন মাসী। আমি অপেক্ষা করছি।” বিন্দুবালা দেবী দাঁত কড়মড় করে বললেন, “তুই যা করেছিস, তার শাস্তি পাবি। আমি তোকে ছাড়ব না।” অংশুমান ঘুরে দাঁড়িয়ে গাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল। পথে সে একবার ঘুরে বিন্দুবালার দিকে তাকিয়ে বলল, “মাসী, আপনি যদি বেশি চিৎকার করেন, তাহলে হয়তো আপনাকেও একদিন পুলিশের গাড়িতে উঠতে হবে।” বিন্দুবালা দেবী রাগে কাঁপতে কাঁপতে দাঁড়িয়ে রইলেন। অংশুমান গাড়িতে উঠে চলে গেল। বিন্দুবালা দেবী ঘরের ভিতরে ঢুকে দরজা জোরে বন্ধ করে দিলেন। তাঁর চোখ দুটোতে এখন আর শুধু রাগ ছিল না — একটা গভীর, জ্বলন্ত প্রতিশোধের আগুন জ্বলছিল। রানি এক কোণে দাঁড়িয়ে চুপচাপ সব দেখছিল। তার হাতে এখনো সেই বন্দুকটা ছিল। বিন্দুবালা দেবী তার দিকে তাকিয়ে বললেন, “রানি… এবার যুদ্ধ শুরু হলো।”
Parent