ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - অধ্যায় ১৫

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74238-post-6273833.html#pid6273833

🕰️ Posted on July 27, 2026 by ✍️ indonetguru (Profile)

🏷️ Tags:
📖 538 words / 2 min read

Parent
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ) চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: সন্দেহের বীজ পরের দিন সকাল সাড়ে সাতটা। গঙ্গার ধারে একটা ছোট ঘাটে কয়েকজন মানুষ জড়ো হয়েছিল। পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে। জল থেকে একটা মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শরীরটা ফুলে গিয়েছিল, মুখটা চিনতে কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু যারা চিনত, তারা চিনতে পেরেছিল — নন্দিনী মন্ডল। খবরটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সূর্য মন্ডল যখন খবরটা পেল, তখন সে তার ফ্ল্যাটে বসে ছিল। ফোনটা হাতে নিয়ে সে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিল না। তার মা আত্মহত্যা করেছে? এটা সম্ভব? সে দ্রুত গাড়ি নিয়ে গঙ্গার ধারে চলে গেল। সেখানে পুলিশ ঘিরে রেখেছে। সূর্যকে দেখে একজন অফিসার এগিয়ে এল। “আপনি কে?” “আমি তার ছেলে,” সূর্য শান্ত গলায় বলল। অফিসার মাথা নিচু করে বলল, “দুঃখিত। মনে হচ্ছে আত্মহত্যা।” সূর্য কিছু বলল না। সে শুধু দূর থেকে তার মায়ের মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখে কোনো জল ছিল না, শুধু একটা শূন্যতা। দুপুরের দিকে সূর্য ওমেন্স ক্লাবে গেল। সেখানে কয়েকজন সদস্য এখনো জড়ো হয়ে আছে। সবাই নিচু গলায় কথা বলছে। সূর্য একজন মহিলা সদস্যকে ডেকে নিয়ে গেল। মহিলাটির নাম রেখা। সে নন্দিনী মন্ডলের বেশ কাছের ছিল। “কী হয়েছিল গতকাল?” সূর্য সরাসরি জিজ্ঞেস করল। রেখা একটু দ্বিধা করে বলল, “মিতালি সেন এসেছিলেন। তার সঙ্গে তোমার মায়ের তুমুল ঝগড়া হয়। মিতালি সেন ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছিলেন। তোমার মা রাজি হননি। শেষে মিতালি সেন রেগে গিয়ে ওয়াক আউট করেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সদস্যও চলে যায়।” সূর্য চুপ করে শুনছিল। রেখা আরও বলল, “তোমার মা খুব রেগে গিয়েছিলেন। কিন্তু… এতটুকুতেই যে তিনি আত্মহত্যা করবেন, সেটা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।” সূর্যের মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল। সে বলল, “আপনি কি মনে করেন… এটা শুধু ঝগড়ার জন্য হয়েছে?” রেখা চোখ নিচু করে বলল, “আমি জানি না। কিন্তু তোমার মা এমন মানুষ ছিলেন না যে এত সহজে হার মেনে নেবেন।” সূর্য কিছু না বলে উঠে দাঁড়াল। তার মনে এখন শুধু একটা কথা ঘুরছিল — এটা সাধারণ আত্মহত্যা নয়। সে সোজা বাড়ি ফিরে এল। তারপর মোবাইলটা তুলে নিয়ে মিতালি সেনকে ফোন করল। ফোন বাজতে লাগল। মিতালি সেন ফোন তুললেন। “হ্যালো?” “আমি সূর্য মন্ডল বলছি,” সূর্য শান্ত কিন্তু ঠান্ডা গলায় বলল। মিতালি সেন একটু থেমে বললেন, “বলুন।” “গতকাল আপনি আমার মায়ের সাথে কী ঝগড়া করেছিলেন?” মিতালি সেনের গলায় এবার একটা তীক্ষ্ণতা এসে গেল। “আপনার মা ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি ছিলেন না। আমি শুধু ক্লাবের কাজ আরও ভালোভাবে চালাতে চেয়েছিলাম।” সূর্য বলল, “আর তারপরই তিনি আত্মহত্যা করলেন? আপনি কি মনে করেন এটা শুধু ঝগড়ার জন্য হয়েছে?” মিতালি সেন এবার সরাসরি আক্রমণ করলেন। “সূর্য, তোমার মা যেমন ছিলেন, তুমিও ঠিক তেমনই। অহংকারী, দাম্ভিক। তোমার মা যখন নিজের চরিত্র নিয়ে এত বড় একটা ঝুঁকি নিতে পারেন, তখন তোমার মতো ছেলে এসে আমাকে প্রশ্ন করবে? লজ্জা করে না?” সূর্যের হাতটা ফোনের ওপর শক্ত হয়ে গেল। “আপনি কী বলতে চাইছেন?” মিতালি সেন হেসে বললেন, “যেমন মা, তেমন ছেলে। তোমার মা যে কী করতেন, সেটা সবাই জানে। তুমিও হয়তো তোমার মায়ের মতোই। তাই না?” সূর্যের শরীরটা রাগে কেঁপে উঠল। “আপনি…,” সে দাঁত কিড়মিড় করে বলল, “আপনি আমার মাকে অপমান করছেন?” মিতালি সেন ঠান্ডা গলায় বললেন, “আমি যা বলছি সত্যি বলছি।” সূর্য আর থাকতে না পেরে ফোন কেটে দিল। সে ফোনটা টেবিলে ছুড়ে ফেলে দিয়ে চেয়ারে বসে পড়ল। তার শরীরটা রাগে কাঁপছিল। চোখ দুটো লাল হয়ে গিয়েছিল। সে আস্তে আস্তে বলল, “এর বদলা আমি নেব।” সে জানালার দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনে এখন শুধু একটা চিন্তা ঘুরছিল — মিতালি সেনকে সে ছাড়বে না।
Parent