ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - অধ্যায় ৭৬

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74238-post-6286286.html#pid6286286

🕰️ Posted on August 13, 2026 by ✍️ indonetguru (Profile)

🏷️ Tags:
📖 583 words / 3 min read

Parent
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ) ষষ্ঠসপ্ততিতম পরিচ্ছেদ: বদলার হিসেব সূর্য মন্ডলের সদ্য কেনা পুরোনো একটি ফ্ল্যাটের ভেতরটা আধো অন্ধকার। জানালার পর্দা টানা। টেবিলের উপর দুই কাপ চা ঠান্ডা হয়ে আছে। সূর্য চেয়ারে বসে। রোশনী তার মুখোমুখি সোফায়। দুজনের মুখেই ক্লান্তি, আর তার নিচে জমে থাকা রাগ। ঘরে নীরবতা। শুধু পাখার ধীর শব্দ। নন্দিনী মন্ডলের মৃত্যুর পর সূর্য অনেকদিন চুপ করে ছিল। শ্রাদ্ধ শেষ করেছে, পার্টির কাজে ফিরেছে, কিন্তু রাতগুলোতে ঘুমোতে পারেনি। মায়ের মুখ মনে পড়লে বুকে একটা চাপ বসে যায়। এখন আর চুপ নেই। রোশনীও চুপ করে বসে নেই। মা রুবিনার মৃত্যু, আর নন্দিনী মাসির অপমান— দুটোই তার বুকে বাজছে। সে জানে, মায়ের মৃত্যু শুধু মৃত্যু নয়। তার পেছনে হিসেব আছে। সূর্য আস্তে করে বলল, “আমরা যদি শুধু বসে থাকি, তাহলে ওরা জিতে যাবে। মিতালি সেন এখন পার্টির মহিলা উইংয়ে শক্ত জায়গা করে নিয়েছে। অংশুমানও তার মতো করে চলছে। ওদের যদি না ধরা যায়, তাহলে মায়ের মৃত্যু বৃথা যাবে। নন্দিনী মাসি যেভাবে অপমানিত হয়েছে, সেই অপমানও মুছে যাবে না।” রোশনী মাথা তুলল। চোখে জল নেই, শুধু শুকনো রাগ। “আমিও তাই ভাবি। মাকে ওরা শেষ করেছে। নন্দিনী মাসিকেও। এখন ওরা মুখ তুলে আছে। মিতালি সেন পার্টিতে বড় হয়ে যাচ্ছে। অংশুমানও নিজের মতো করে সবকিছু সামলাচ্ছে। আমি চাই ওরা যেন বুঝতে পারে— কেউ চলে গেলেও হিসেব বাকি থাকে। মায়ের মৃত্যু শুধু মৃত্যু নয়।” সূর্য চেয়ার ছেড়ে উঠে হাঁটতে লাগল। ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। “সরাসরি কিছু করা যাবে না। মিতালি এখন পার্টির লোক। অংশুমান পুলিশ। হাতেনাতে ধরতে গেলে আমরাই ফাঁসবে। তাই অন্যভাবে এগোতে হবে। ওদের দুর্বল জায়গা দিয়ে ধরতে হবে।” রোশনী বলল, “কীভাবে? ওরা তো এখন শক্ত জায়গায়।” সূর্য থেমে দাঁড়াল। জানালার দিকে তাকিয়ে বলল, “মিতালির দুর্বলতা হলো তার অতীত আর লোভ। সে টাকা আর ক্ষমতা দুটোই চায়। পার্টির ভেতরেও কেউ কেউ তাকে পছন্দ করে না। অংশুমানের দুর্বলতা হলো তার সম্পর্কগুলো। ও অনেকগুলো জায়গায় জড়িয়ে আছে। ব্যবসা, মহিলা, ক্ষমতা— সবকিছু একসঙ্গে ধরে রাখতে গিয়ে ও নিজেই ফাঁকা রেখে দিয়েছে। ওদের যদি একসঙ্গে চাপ দেওয়া যায়, তাহলে ওরা ভিতর থেকে দুর্বল হবে।” রোশনী চুপ করে শুনছিল। তারপর বলল, “আমি মায়ের সব কাগজপত্র দেখেছি। কিছু হিসেব আছে যেগুলো অংশুমানের সঙ্গে যুক্ত। গুদাম, টাকার লেনদেন, কিছু নাম। যদি সেগুলো ঠিক জায়গায় পৌঁছে যায়, তাহলে অংশুমানের জন্য মুশকিল হতে পারে।” সূর্য মাথা নাড়ল। “সেটা একটা রাস্তা। আর মিতালির বিরুদ্ধেও কিছু পুরনো কথা আছে। পার্টির ভেতরেই কেউ কেউ তাকে সন্দেহ করে। যদি ওদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করা যায়, তাহলে ওরা নিজেরাই একে অপরের ক্ষতি করবে। আমাদের সরাসরি হাত লাগাতে হবে না।” দুজনে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। ঘরের ভেতর শুধু পাখার শব্দ। বাইরে গাড়ির হর্ন উঠছে। রোশনী আস্তে করে বলল, “আমি চাই ওরা যেন শুধু হারে না। ওরা যেন বোঝে— যারা মাকে শেষ করেছে, তাদেরও শেষ হওয়ার মতো কিছু আছে। আমি মায়ের মুখ ভুলতে পারছি না। নন্দিনী মাসির কথাও ভুলতে পারছি না।” সূর্য জানালার দিকে তাকিয়ে বলল, “তাড়াহুড়ো করব না। একটা একটা করে এগোব। আগে অংশুমানের দিকটা দেখি। তার সম্পর্কগুলো, তার ব্যবসার হিসেব। তারপর মিতালি। ওরা যত নিরাপদ ভাববে, তত বড় ধাক্কা খাবে। আমরা ধীরে এগোব। কিন্তু থামব না।” রোশনী উঠে দাঁড়াল। “আমি আছি। তুমি যা বলবে, আমি করব। মায়ের জন্য। নন্দিনী মাসির জন্য।” সূর্য মাথা নাড়ল। “মায়ের জন্য।” দুজনে আর বেশি কথা বলল না। পরিকল্পনা এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। কিন্তু রাস্তাটা খুলতে শুরু করেছে। কার কাছে কী তথ্য যাবে, কীভাবে অবিশ্বাস তৈরি হবে, কীভাবে চাপ বাড়বে— সেই হিসেব এখন থেকে শুরু। বাইরে বিকেলের আলো ম্লান হয়ে আসছিল। ঘরের ভেতর দুজনের চোখে একটাই সিদ্ধান্ত— বদলা নেওয়া হবে। তবে ধীরে। আর নিশ্চিতভাবে। সূর্য আবার চেয়ারে বসল। রোশনী জানালার দিকে তাকিয়ে রইল। দুজনেই জানে, এবারের লড়াইটা সরাসরি নয়। এটা ছায়ার লড়াই। আর ছায়ায় যারা থাকে, তারাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।
Parent