ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - অধ্যায় ৮
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ)
সপ্তম পরিচ্ছেদ: দামি আপস
পরের দিন সকাল সাড়ে দশটা। মিতালি সেন শ্রীলা বসুর বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলেন। শ্রীলা বসু বর্তমানে পার্টির মহিলা উইংয়ের সভানেত্রী। তিনি মিতালি সেনকে বসার ঘরে নিয়ে গেলেন।
দুজনে কিছুক্ষণ সাধারণ কথা বলার পর মিতালি সেন সোজা বিষয়ে চলে এলেন।
“শ্রীলা, আমি সরাসরি কথা বলছি। আমি মহিলা উইংয়ের সভানেত্রী হতে চাই।”
শ্রীলা বসু একটু অবাক হয়ে তাকালেন। তারপর বললেন, “মিতালি, তুমি জানো যে আমি এখনো আছি। আর তুমি তো ভোটে হেরেছ।”
মিতালি সেন শান্ত গলায় বললেন, “জানি। কিন্তু আমি মনে করি, এই পদে নতুন করে কাজ করার দরকার আছে। আমার NGO-এর মাধ্যমে আমি যে কাজগুলো করছি, সেগুলো যদি মহিলা উইংয়ের সাথে যুক্ত করা যায়, তাহলে অনেক বড় সুফল পাওয়া যাবে।”
শ্রীলা বসু একটুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “তুমি কি জানো, এই পদটা ছেড়ে দিতে গেলে আমার অনেক ক্ষতি হবে? আমার অনেক সমর্থক আছে।”
মিতালি সেন এবার সামনে একটা বড় খাম এগিয়ে দিলেন। খামটা মোটা ছিল।
শ্রীলা বসু খামটা হাতে নিয়ে একবার উল্টে দেখলেন। তারপর মিতালি সেনের দিকে তাকালেন।
“এতে কত আছে?” তিনি সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন।
“পঁচিশ লাখ,” মিতালি সেন শান্ত গলায় বললেন। “আর যদি তুমি সুন্দরভাবে পদ ছেড়ে দাও, তাহলে ভবিষ্যতে তোমার জন্য আরও কিছু করা যাবে। তুমি জানো, আমার সংস্থায় অনেক প্রজেক্ট চলে। তোমার পছন্দমতো কিছু কাজ আমি তোমার নামে করে দিতে পারি।”
শ্রীলা বসু খামটা টেবিলে রেখে দিলেন। তার মুখে এখন আর কোনো আপত্তির ছাপ ছিল না। বরং তার চোখে একটা সন্তুষ্টির আভাস দেখা যাচ্ছিল।
“তুমি খুব স্মার্ট মিতালি,” শ্রীলা বসু বললেন। “আমি জানতাম তুমি শুধু কথা বলতে আসবে না।”
মিতালি সেন হাসলেন। “আমি শুধু কথা বলতে আসিনি। আমি একটা সমাধান নিয়ে এসেছি। তুমি যদি সহযোগিতা করো, তাহলে সবাই লাভবান হবে।
শ্রীলা বসু খামটা নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন।
“ঠিক আছে। আমি পার্টি প্রেসিডেন্ট সোমদেববাবুর সাথে কথা বলব। আশা করি, দু-একদিনের মধ্যে বিষয়টা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।”
মিতালি সেনও উঠে দাঁড়ালেন।
“ধন্যবাদ শ্রীলা। আমি জানতাম তুমি বুঝতে পারবে।”
দুজনে হাত মিলিয়ে বিদায় নিলেন।
দুই দিন পর-
পার্টির সদর দপ্তরে একটা ছোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল যে মিতালি সেন এখন থেকে পার্টির মহিলা উইংয়ের সভানেত্রী।
শ্রীলা বসু মঞ্চে দাঁড়িয়ে মিতালি সেনকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানালেন। তার মুখে হাসি ছিল, কিন্তু চোখে সেই পুরনো উজ্জ্বলতা আর ছিল না।
মিতালি সেন মঞ্চে উঠে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিলেন। তিনি বললেন যে তিনি মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য আরও বড় পরিসরে কাজ করবেন এবং পার্টির মহিলা ভোটারদের আরও কাছে নিয়ে আসবেন।
অনুষ্ঠান শেষে যখন মিতালি সেন গাড়িতে উঠছিলেন, তখন তার মোবাইলে একটা মেসেজ আসে।
সোমদেব চ্যাটার্জি:
“কাজ হয়ে গেছে। এবার দেখি তুমি কতটা দিতে পারো।”
মিতালি সেন মেসেজটা পড়ে হালকা হেসে ফোনটা পকেটে রেখে দিলেন।
তিনি জানতেন, এটা শুধু শুরু। এখন থেকে তার সামনে আরও বড় লড়াই অপেক্ষা করছে। কিন্তু আজকের দিনটা তার জন্য একটা বড় জয় ছিল।
তিনি গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বললেন, “চলো।”