ছিন্নমূল ঃ কামদেব - অধ্যায় ১২

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-47551-post-4932284.html#pid4932284

🕰️ Posted on August 29, 2022 by ✍️ kumdev (Profile)

🏷️ Tags:
📖 698 words / 3 min read

Parent
দ্বাদশ অধ্যায় সুমনা কাজে বেরিয়েছেন।বিছানায় শুয়ে লাইব্রেরী থেকে আনা বইটায় চোখ বোলাতে থাকে সুখরঞ্জন।বারট্রাণ্ড রাশেলের ইম্প্যাক্ট অফ সোশাল সায়েন্স।কাল জামা প্যাণ্ট কেচে মাড় দিয়ে রেখেছে।মা ফিরে উনুনে আগুন দিলে ওগুলো ইস্ত্রী করতে হবে। গরম বস্ত্র বলতে একটা  হাফ হাতা সোয়েটার।একটা নস্যি রঙের আলোয়ান আছে সেটা গায়ে দিয়ে বিয়ে বাড়ি যাওয়া যায় না।একবার মনে হল আলোয়ানটা কাগজে মুড়ে নিয়ে যাবে।কেন না রাতের দিকে ঠাণ্ডা পড়তে পারে।আবার ভাবল এত দূরের জার্নি চাদর বয়ে নিয়ে যাওয়া এক ঝঞ্ঝাট।তাপস যা বলল তাতে মনে হয় যেতে আসতে চার ঘণ্টা আর খাওয়া দাওয়া আধ ঘণ্টা।যদি ছটায় বের হয় তাহলে ফিরতে ফিরতে এগারো সাড়ে এগারোটা বেজে যাবে। মুসলিম বিয়ে বাড়ীতে বিরিয়ানি হবেই। মালাই কোফতা সিরনি কত কি পদ হয় সব নাম জানে না।অনেককাল ভাল মন্দ খাওয়া হয়নি। বেলা হল মা এখনো ফিরল না।কখন রান্না করবে কখন খাবে কখন  জামা প্যাণ্ট ইস্ত্রী করবে চিন্তা হয়। কালকের কথা মনে পড়তে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।মাকে যেমন নিরীহ মনে হয় তেমন  নয়।পালবাবুর বউকে ভালই জব্দ করেছে।তুমি-তুমি করছে শুনে এমন রাগ উঠেছিল মহিলা না হলে এক চড় কষিয়ে দিত।বইটা রেখে উঠে বসল।বাইরে বেরিয়ে রাস্তার এদিক ওদিক দেখতে থাকে। ওই তো মা আসছে।বাজারের দিক থেকে কেন ভ্রু কুচকে যায়।হাতে মনে হচ্ছে কিসের একটা প্যাকেট। কাছে আসতে জিজ্ঞেস করে,এত দেরী করলে, হাতে কি? সুমনা প্যাকেটটা এগিয়ে দিয়ে বললেন,বরেনবাবুর সঙ্গে দেখা হল তোর কথা জিজ্ঞেস করছিল? প্যাকেট খুলে দেখে একটা বেড কভার।মায়ের দিকে তাকাতে সুমনা বললেন,কিছু তো নিয়ে যেতে হয়।খালি হাতে যাবি? মার সব দিকে খেয়াল তার একথা মনেই হয়নি।এই বেড কভার নিয়ে যাবার কথা ভেবে বিরক্ত হয়।ঝাড়া হাত পা যাবে বেড কভার বগল দাবা করে চলো। সুমনা রান্না ঘরে গিয়ে উনুনে আগুন দিলেন। বরেনদা লাইব্রেরীতে বসেন।কিছু মানুষ থাকে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবার মতো।বরেনদা সেই রকম।অফিস থেকে ফিরে লাইব্রেরিতে বসেন।বলতে গেলে বরেনদার জন্যই টিকে আছে এই লাইব্রেরী।আট থেকে আশি সকলেই বলে বরেনদা।সেও বরেনদাই বলে।বরেনদা বাবার কাছে আসতেন মাকে বলতেন বৌদি।সেই হিসেবে বরেনদাকে কাকা বলার কথা।বরেনদা একদিন বলেছিলেন,হ্যারে মনু তুই কেবল প্রবন্ধের বই পড়িস কবিতা পড়তে ভালো লাগে না?  প্রবন্ধে অনেক বিষয় জানা যায়। বরেন ভৌমিক হাসলেন।চিবুকে হাত দিয়ে কি যেন ভাবলেন তারপর বললেন,প্রবন্ধ যদি দুধ হয় কবিতা জানবি মাখন।বিভিন্ন জ্ঞানের নির্যাস কবিতায় ধরা থাকে।সুনির্মল বসুর একটা কবিতে খুব সিমপল শোন, আকাশ আমায় শিক্ষা দিল উদার হতে ভাই রে; কর্মী হবার মন্ত্র আমি বায়ুর পাই রে। পাহাড় শিখায় তাহার সমান হই যেন ভাই মৌন-মহান্, খোলা মাঠের উপদেশে— দিল্-খোলা হই তাই রে। ....বিশ্ব-জোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র,  কিরে কেমন লাগল? বরেনদা একটু আবেগ প্রবণ হয়ে পড়েছেন।সবার সঙ্গে সব কথা বলা যায় না,মনের মত শ্রোতা পেলে সকলেই আবেগ প্রবণ হয়ে পড়ে।বললাম,  বাঃ দারুণ! এই প্রকৃতি আমাদের পাঠশালা চোখ মেলে গ্রহণ করতে পারলে এখান থেকেই তুই শিখতে পারবি অনেক কিছু। বরেনদার সঙ্গে কথা বলতে আমারও ভাল লাগছে।কিন্তু বরেনদার গল্প করার সময় কোথা।পাঠকরা আসছে ফরমাস মতো তাদের বই দিতে হচ্ছে। হচ্ছে।বই জমা নিতে হচ্ছে।পাঠকদের বরেনদা খুব খাতির করেন।পাঠকরাই লাইব্রেরীর প্রাণ। খাওয়া দাওয়া শেষ হতে বেলা আড়াইটে বেজে গেল।সুখ রঞ্জন প্রস্তুত হতে থাকে।একটু আগে ইস্ত্রি করা পাট ভাঙ্গা জামা প্যাণ্ট পরল। সোয়েটারটা হাতে ঝুলিয়ে কয়েক পলক দেখে কাধে রাখল।পাচটা বাজে দেরী না করে ভাবল সকাল সকাল বেরোনোই ভাল।মায়ের কাছে গিয়ে বলল,সাবধানে থেকো।  আমার পাহারা দেবার লোক আছে।তুই সাবধানে যাস।মিনুকে আমার কথা বলিস। সুখরঞ্জন বিহবল দৃষ্টিতে মাকে দেখে।পাহারা দেবার কাউকে দেখেছে বলে মনে পড়ল না। তোমাকে পাহারা দেয় কে?  কেন তোর বাবা।সারাক্ষন আমি তাকে পাশে পাশে দেখি।  প্রণাম করার ছলে চোখের জল লুকায়।সুমনা ছেলের চিবুক ছুয়ে আশির্বাদ করলেন।বিচিত্র এই বাঙালী মায়েরা কি গভীর বিশ্বাস নিয়ে বেচে আছেন। বাস স্ট্যাণ্ডে পৌছে জিজ্ঞেস করে বাসে উঠল।লোকজন তেমন নেই পছন্দ মত জানলার ধারে একটা আসন দখল করে বসল।সূর্য ঢলে পড়েছে পশ্চিমে।জানলা দিয়ে উপচে পড়ছে মিঠেল রোদ।দেখতে দেখতে বাস ভরে গেল।একটা ঝিমুনির ভাব আসছে।সুখরঞ্জন চোখ বুজে ঝিমোতে থাকে হকারের উপদ্রব এড়াতে।এক্টু পরেই বাস নড়ে উঠল।সুখরঞ্জন চোখ মেলে বাইরের দিকে তাকায়।এদেশে এসে এই প্রথম বাসে চড়ার অভিজ্ঞতা।কিছুক্ষনের মধ্যে বাস লোকালয় ছেড়ে ফাকা রাস্তা ধরে।দুধারে দিগন্ত ধান ক্ষেত।হাওয়ার আকুলি বিকুলিতে দুলছে।শীতের দিন ছোটো হয় মুহূর্তে ম্লান হয়ে এল চরাচর।বাস ছুটে চলেছে তীব্র বেগে।মাঝে মাঝে থামছে লোক নামছে উঠছে তার বেশী।নৈহাটি কতদূর  বসে থেকে ক্লান্তি এসে গেছে।টিকিট কাটার সময় কণ্ডাক্টরকে বলেছিল নৈহাটি নামিয়ে দিতে।ভীড়ে কণ্ডাকটরকে দেখছে না।তার মনে আছে কিনা কে জানে।পাশে বসা ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করতে বললেন,এইতো সামনে। বাস থামতে কণ্ডাকটর হাক পাড়ে টিশন টিশন। সুখরঞ্জন তড়াক করে উঠে দাড়ালো।   বাস থেকে নেমে সুখরঞ্জন টের পেল বাতাসে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব।মাথা গলিয়ে সোয়েটারটা গায়ে দিল।ফুলহাতা সোয়েটার হলে ভাল হত।একজন পথচারীকে জিজ্ঞেস করে স্টেশনের রাস্তা ধরল।     
Parent