ছিন্নমূল ঃ কামদেব - অধ্যায় ৩৪

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-47551-post-5002602.html#pid5002602

🕰️ Posted on October 26, 2022 by ✍️ kumdev (Profile)

🏷️ Tags:
📖 959 words / 4 min read

Parent
চতুস্ত্রিংশৎ অধ্যায় সকালে বেলা করে ঘুম থেকে ওঠা তারপর স্নান করে ভাত খেয়ে কলেজ যাওয়া সপ্তাহে তিন দিন পড়াতে যাওয়া রাতে ছাদে গিয়ে ঘণ্টা পাচেক পড়াশোনা।কলেজে নন্দিতা আয়ূষীর সঙ্গে দেখা হয় কথাও হয়।মাসের পর মাস কেটে যায়।দেখতে দেখতে পরীক্ষার সময় হয়ে এল।পরীক্ষাটা মিটলে  মাকে ফেলে এখানে থাকতে হবে না।সেই গোপালপুর পুরানো বন্ধু বন্ধব।লাজোকে পড়ানোও শেষ।অবশ্য যেভাবে বাড়াবাড়ি শুরু করেছে বেশিদিন চালাতে পারবে মনে হয় না।একদিন বলছিল স্যার আপনার নম্বরটা দিন। তার কোনো নম্বর নেই শুনে অবাক হয়েছিল।আজ ক্লাসে কেকেসির ক্লাসে একটা ঘটনা ঘটেছে।উনি পড়াতে পড়াতে বারবার আমাকে দেখছিলেন।ঘণ্টা পড়ার পর আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন,বাবা কি করেন? স্যার আমার বাবা নেই,এক সময় বাংলাদেশে অধ্যাপনা করতেন। আরটিকেলটা তুমি নিজে লিখেছো? হ্যা স্যার। লেখার স্টাইলটা আমার পছন্দ হয়েছে।তোমার ভবিষ্যতের ইচ্ছে কি? দ্বিধা জড়িত গলায় বললাম,টিচিং লাইনে যাওয়ার ইচ্ছে। ভেরি গুড। ক্লাস থেকে বাইরে বেরোতে আয়ূষী বলল,এই নন্দিতা শুনেছিস কেকেসি ওকে কি বলেছেন? হঠাৎ নজরে পড়ে গেটের বাইরে ফুটপাথে ম্যাডাম শেখোয়াত।এখানে উনি কেন?আমাকেই খুজছেন নাতো?দ্রুত বেরিয়ে এলাম।ম্যাডাম হাফাতে হাফাতে বললেন,আভি ঘর চলা যাও। ঘর চলা যাও মানে ঘরে আবার কি হল? তুমার গ্রাম থেকে বিশ্বাসবাবু ফোন করেছিল তোমার মম অসুস্থ। কাকু ফোন করে বলেছেন ব্যাপারটা বুঝতে পেরে আমার হাত-পা অবশ হয়ে এল। ম্যাডাম আমার হাত থেকে বইখাতা নিয়ে বললেন,শোচতে কিউ টিরেন পাকাড়কে এখুনি চলে যাও। দ্রুত শিয়ালদা স্টেশনের দিকে হাটতে শুরু করলাম।কখন ফোন করেছিলেন কাকু ঠিক কি বলেছেন জিজ্ঞেস করা হল না।ট্রেনে চেপে বসে মনে মনে ভগবানকে ডাকি। বারবার চোখের সামনে মায়ের ক্লান্ত মুখটা ভেসে ওঠে।জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি।একলা ঘরে খাটে শুয়ে আছে মা।দৃশ্যটা চোখের উপর ভেসে উঠতে গণ্ড বেয়ে গড়িয়ে পড়ে জল।সামনের আসনে বসা এক বয়স্ক দম্পতি অবাক হয়ে সুখকে দেখতে থাকেন।বাইরে থেকে দৃষ্টি ভিতরে আনতে বয়স্কা মহিলার সঙ্গে চোখাচুখি হতে জিজ্ঞেস করলেন,তুমি কাদছো কেন বাবা? মহিলার গলায় মমতার স্পর্শ পেয়ে ফুপিয়ে কেদে উথল সুখ। কি হয়েছে বাবা? চোখের জল মুছে বলল,আমার মা অসুস্থ। কি হয়েছে মায়ের? আমি বলতে পারবো না। ডাক্তার দেখাও নি? আণ্টি আমি পড়াশুনার জন্য কলকাতায় থাকি।খবর পেয়ে বাড়ী ফিরছি। আহা! এতে কান্নার কি আছে।অত চিন্তা করোনা তোমার মা ভাল হয়ে যাবেন। আণ্টি আমার মা ছাড়া কেউ নেই।  ভাগ্যবতী মা,অসুস্থ শুনে ছেলে কাদছে মায়ের জন্য।মহিলার নিজের কথা মনে পড়ল।তাদের একমাত্র সন্তান বিয়ের পরে বউকে নিয়ে আলাদা হয়ে গেল।মায়ের কথা তার মনেও পড়ে না।তিনি তো জীবনের শেষপ্রান্তে চলে এসেছেন।বউ নিয়ে ছেলে যদি সুখে থাকে ভাল। শোনো বাবা শরীর থাকলে অসুখ বিসুখ থাকে।বাড়ি যাও ডাক্তার দেখাও দেখবে তোমার মা ভাল হয়ে যাবেন।অত ভেঙ্গে পড়লে চলে।তোমার মা ছাড়া কেউ নেই।তোমার মায়েরও তুমি ছাড়া কেউ নেই।মাথার উপর ভগবান আছে--।চোখ বুজে আছে দেখে মহিলা আর কিছু বললেন না।মহিলার স্বামী বললেন,অত কথা বলছো কেন? বলি কি সাধে।তুমি ওসব বুঝবে না। ট্রেন নৈহাটি পেরিয়ে গেল।সুখ ঘুমিয়ে পড়েছে।রাতে ঘুমায় না দিনে ঘুম পেয়ে যায়।মহিলা ভাবতে থাকেন,ছেলে চলে যাওয়ায় দুঃখ পেলেও একটা ব্যাপার তাকে বড় আহত করেছে।যাবার আগে তার অভিযোগ  মা নাকি তার বউকে পীড়ণ করতো।নিজের ছেলের মুখে এমন অভিযোগ শুনতে হবে কল্পনাও করেন নি।বউমা তার মেয়ের মতো।হয়তো কখনো শাসনের সুরে কথা বলেছেন,নিজের মেয়ে থাকলেও করতেন।একে পীড়ণ বলে?পেটের সন্তানের মুখে এমন কথা শুনতে কোন মায়ের ভাল লাগে।একটু পরেই রাণাঘাট নামার জন্য প্রস্তুত হতে থাকেন। সুখর দিকে নজর পড়তে মনে হল ছেলেটি বোধ হয় ঘুমিয়ে পড়েছে।গায়ে ঠেলা দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,তুমি কোথায় নামবে? উম-ম।চোখ মেলে তাকায় সুখ। কোথায় যাবে? আমি রাণাঘাটে নেমে যাব।  আমরাও রাণাঘাট নামবো। রাণাঘাট এসে গেছে!চমকে ওঠে সুখ। আসেনি এখুনি আসবে।না ডাকলে তো মুর্শিদাবাদ চলে যেতে। রাণাঘাট আসতে ওরা নেমে পড়ল।সুখকে আবার ট্রেন ধরতে হবে।মায়ের কথা মনে পড়তে আবার চঞ্চল হয় মন।আণ্টি বলছিলেন ডাক্তার দেখালে ঠিক হয়ে যাবে।ভাবছে কাকুর কাছে টাকা ধার চাইবে।ডাক্তার দেখাবার খরচা আছে। বেলা গড়াতে গড়াতে সূর্য হেলে পড়ে পশ্চিমে।কখন গোপাল নগর পৌছে মায়ের সঙ্গে মিলিত হবে সেই চিন্তায় অস্থির মন।গিরিদি মায়ের সঙ্গে গল্প করতে আসতো।গিরিদি কি মাকে একটু দেখাশোনা করবে না?সুবীমামা কি খবর পেয়েছে?মেসে যখন ফোন করেছেন কাকু তিনি নিশ্চয়ই কিছু না কিছু করবেন।এইসব ভাবতে ভাবতে ট্রেন গোপালনগরে ঢুকলো। স্টেশন থেকে বেরিয়ে দ্রুত হাটতে থাকে।বাজার পেরোতে যাবে মনে হল কে যেন তার নাম ধরে ডাকছে।ফিরে দেখল সিধু।কাছে এসে বলল,তুই কলকাতা থেকে আসছিস? হ্যা কেন? শুনেছিস মাসীমার কথা? সেই জন্যই তো আজ চলে এলাম। তা হলে ওদিকে কোথায় যাচ্ছিস?হাসপাতাল যাবি না? মাকে কি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে? এদিকটা তো মনে আসেনি।সুখ বলল,মা হাসপাতালে তার মানে বাড়ি ফাকা? কোনো চিন্তা করিস না কেস এখন কমরেড খোকনদার হাতে। খোকন মানে কাতান খোকন? কি হচ্ছে কি কেউ শুনলে শালা ঝামেলা হয়ে যাবে।হিসিয়ে উঠল সিধু। কাকু কিছু করেনি? কে কাকু? কাকু মানে দেবেন বিশ্বাস। হ্যা উনিও হাসপাতালে গেছিলেন।তুই হাসপাতাল যাবি?দাড়া দোকান থেকে সাইকেলটা নিয়ে আসি। সত্যি মানুষ চেনা অত সহজ নয়।এই সিধুর সঙ্গে পাঞ্চালির জন্য গোলমাল হয়েছিল।পাঞ্চালির দিকে ওর নজর ছিল পাত্তা না পেয়ে ওকে নানাভাবে ডিস্টার্ব করত।ওকে বলেছিল একটি থাপ্পড়ে গালে পঞ্চপাণ্ডবের ছাপ লাগিয়ে দেব। এই পিছনে ওঠ।সাইকেল নিয়ে এসে সিধু বলল। দোকান ছেড়ে চলে এলি? বাবা আছে। মিনিট পনেরো-কুড়ি পর আমরা হাসপাতালে পৌছালাম।বুকের মধ্যে ঢিপ ঢিপ করছে মাকে কেমন দেখব।ঢুকতে যাবো দারোয়ান পথ আটকে বলল,ভিজিটরস আউয়ারস খতম। পাশে দেখলাম সিধু নেই।কি করি এত কষ্ট করে এসে মাকে দেখতে পাব না।এক্টু পরেই সিধু এল সঙ্গে খোকনদা। তুমি কলকাতা থেকে এলে? হ্যা মাকে একবার দেখার ব্যবস্থা করে দিন। এখন তো আইসিতে আছে।দূর থেকে দেখে চলে আসবে। দারোয়ানজী ছোড় দিজিয়ে এক নজর দেখে চলে আসবে। বাইরে সাইকেল রেখে সিধুর সঙ্গে উপরে উঠে গেলাম।একটা ঘরের কাছে নিয়ে কাচের ভিতর দিয়ে দেখলাম,মা শুয়ে আছে।মুখে মাস্কের সঙ্গে নল লাগানো।বুঝলাম স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।ভাল করে লক্ষ্য করি মায়ের বুকটা ওঠা নামা করছে আশ্বস্থ হলাম।কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে আমরা নীচে নেমে এলাম।  খোকনদা বলল,দেখা হল?তুমি এসেছো ভাল হয়েছে।কাল এমআরআই হবে চার হাজার খরচা আছে।সকাল নটার মধ্যে  চলে এসো। কিন্তু অত টাকা? তোমাকে চিন্তা করতে হবে না।তোমার মামা কি নাম আছে? সুবীর রায়। উনি দেবেন টাকা। খোকনদা আপনি যা করেছেন আমি চির ঋণী হয়ে থাকব। কেন করব না?মা আছে না।দেখ ভাই আমি তুমাদের মত শিক্ষিত নাই।তুমি দাঁড়িয়ে আছো কোথায়? মাটিতে। ধরিত্রি তোমাকে ধরে আছে।মা হচ্ছে ধরিত্রী।মা কি জিনিস কেউ না জানুক খোকন মণ্ডল জানে।মার সঙ্গে যে বেইমানী করবে জানবে খোকন মণ্ডল তার পহেলা দুষমন।যাও এখন বাড়ী যাও।হাসপাতালে হলে টাকা লাগতো না বাইরে থেকে করাতে হবে।   চোখের জল আড়াল করতে দ্রুত সেখান থেকে অন্যত্র চলে গেলাম।              
Parent