ছিন্নমূল ঃ কামদেব - অধ্যায় ৬

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-47551-post-4881885.html#pid4881885

🕰️ Posted on July 18, 2022 by ✍️ kumdev (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1446 words / 7 min read

Parent
ষষ্ঠ অধ্যায় বেশ কয়েকমাস পর।মনার স্কুল নেই বরদা রঞ্জন স্কুলে গেছেন।ফোর্থ পিরিয়ডে ক্লাস টেন-এ ক্লাস ছিল।হেড মাস্টারমশায় ক্লাস এইটে একটা বদলি ক্লাস দিয়েছেন।ঘোষবাবু আসেন নি ওর ইতিহাস ক্লাস।ক্লাস এইটের ইতিহাস অসুবিধে হবে না।বিআরবি ইংরেজির শিক্ষক হলেও ওর গলার স্বর এবং পড়াবার স্টাইলের জন্য ছেলে মেয়েরা মুগ্ধ হয়ে শোনে।ছেলেরা বি আর বিকে দেখে মুখ চাওয়া চাওয়ি করে।  ঘো্যবাবু আসেন নি আমি তোমাদের ইতিহাসই পড়াবো। একটা ছেলে বই এগিয়ে দিতে বরদা রঞ্জন বই খুলতে গান্ধীজীর ছবি নজরে পড়ল।জাতির জনক অহিংসায় বিশ্বাসী।গুলি বন্দুক হিংসার বাইরের রূপ আসল হিংসা মানুষের মনে।গান্ধীজীর হিংসার জন্য সুভাষকে কংগ্রেস ত্যাগ করতে হয়েছিল।সুভাষ যখন সীতারামাইয়াকে হারিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হলেন গান্ধীজী বলেচিলেন,সীতারামাইয়ার পরাজয় আমার পরাজয়।একথা বলা কি খুব আবশ্যক ছিল।বরদা রঞ্জন মনে মনে ভাবতে থাকেন।এক সময় উঠে দাঁড়িয়ে শুরু করলেন পড়াতে। সুভাষ বসু গৃহবন্দী।যার রক্তে স্বাধীনতার স্পৃহা তার পক্ষে এই বন্দীজীবন অসহ্য তিনি স্থির করলেন শাসকের দৃষ্টি এড়িয়ে অন্য দেশে চলে যাবেন যেই ভাবা অমনি কাজ।প্রথম তিনি গেলেন সোভিয়েতে সেখানে তখন স্টালিনের শাসন।সোভিয়েতের প্রতি সুভাষের কিছুটা দুর্বলতা ছিল।কয়েকদিন অপেক্ষা করেও স্তালিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলেন না।অগত্যা তিনি জার্মানীর উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।হিটলার তাকে সাদরে বরন করলেন।সুভাষ তার অভিপ্রায়ের কথা জানিয়ে বললেন তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান।কিন্তু হিতলার তাকে সোভিয়েতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বললেন।সুভাষ তখন পাড়ি দিলেন জাপানে।সেখানে ছিলেন রাসবিহারী বসু জাপানের নাগরিকত্ব নিয়ে ভারতীয় যুদ্ধ বন্দীদের নিয়ে আজাদ হিন্দ বাহিনি গঠণ করেছিলেন।সুভাষকে পেয়ে তিনি বাহিনীর দায়িত্ব সুভাষের হাতে তুলে দিলেন। তোজো তার সব শর্ত মেনে নিলেন।...।ঘণ্টা বাজতেই সব ক্লাসের ছাত্ররা হৈ-হোই করে বেরিয়ে পড়ল।বরদারঞ্জন থামলেন বললেন,বাকীটা তোমরা ঘোবাবুর কাছে শুনে নিও। টিফিন হয়েছে।বরদা রঞ্জন বুকে মৃদু যন্ত্রণা অনুভব  করেন।শিক্ষকরা সবাই ফিরে এসেছে টিচার্স রুমে।কেউ কেউ হাত মুখ ধুয়ে টিফিন বাক্স খুলে টিফিন সারতে ব্যস্ত।পান্নাবাবু ভুড়ি উচিয়ে এক পাশে বসে আছেন।সহকারী প্রধান শিক্ষক অমূল্যবাবু বললেন,পানুবাবু আপনার মধ্য প্রদেশ তো ক্রমশ বেড়েই চলেছে। পান্না বাবু জামা টেনে ভুড়ী ঢেকে মৃদু হেসে বললেন,আমার ওয়াইফ বলে তুমি রোগা হয়ে যাচ্ছো। সকলে হো-হো করে হেসে উঠলেন।হাসির কারণ সবাই  বলে স্ত্রী কিম্বা গিন্নী পানুবাবু বলেন ওয়াইফ।ধীরে ধীরে শুরু হয় আলোচনা অর্থাৎ পরচর্চা।বরদাবাবু এসব আলোচনায় অংশ নেন না আজ আবার শরীরটায় অস্বস্তি জাপটে আছে।মাস কয়েক আগে ড মিত্রকে দেখিয়েছিলেন,হার্টে ব্লকেজ ধরা পড়েছে।সুমনকে সেকথা বলেন নি অযথা চিন্তা করবে।একবার মনে হল হে্ড স্যারকে বলে চলে যাবেন। আবার মনে হল আর তো মোটে একটা ক্লাস দরকার নেই।ঘণ্টা বাজতে টিফিন শেষ হল।একে একে যাদের ক্লাস আছে খাতা নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।বরদাবাবুর ফিফথ পিরিয়ড অফ।      ঘুম ভাঙ্গতে সুমনা উঠে বসেন।দুপুরে ঘুমানোর অভ্যেস নেই হাতে কাজ নেই তাই একটু গড়িয়ে নেওয়া। রান্নাঘরে বাসন গোছাতে গিয়ে একটা কাপ হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।অমঙ্গল আশঙ্কায় বুকের মধ্যে ছ্যৎ করে উঠল।নীচু হয়ে বসে কাপের ভাঙ্গা টুকরগুলো গুছিয়ে তুলতে থাকেন।বাইরে কে যেন ডাকছে।কাপের টুকরোগুলো এক পাশে সরিয়ে রেখে বাইরে বেরিয়ে দেখলেন কাচা পাকা চুল এক ভদ্রলোক দাড়িয়ে।সুমনাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন,মাস্টারমশায় নেই?  ওর ফিরতে দেরী আছে।কিছু বলতে হবে?  এ সময় পাবো না জানতাম।বলবেন পশুপতিবাবু এসেছিলেন।  সুমনা ঘাড় কাত করে সম্মতি জানালেন।  সিক্সথ পিরিয়ড শুরু হয়েছে সবাই ক্লাসে চলে গেছেন।বরদা বাবু বেঞ্চে বসে আছে দেখে অমুল্যবাবু জিজ্ঞেস করলেন,স্যার আপনার ক্লাস নেই?  ঘণ্টা পড়ে গেছে?  আপনার কি শরীর খারাপ চোখ মুখ কেমন লাগছে।  না না তেমন কিছু না।বরদাবাবু চক ডাস্টার নিয়ে ক্লাসে চলে গেলেন। অমূল্যবাবু অবাক হয়ে দেখতে থাকেন,মানুষটা অদ্ভুত কারো সাহায্য নিতে চান না।শুনেছেন পূব বাংলায় কোন কলেজে অধ্যাপনা করতেন।চোখ দুটো কেমন ঘোলাটে বললেন ঠিক আছে।হেড স্যারের সঙ্গে একটা বিষয় আলোচনা করার আছে।অমূল্যবাবু হেডস্যারের ঘরে ঢুকতে গিয়ে অপ্রস্তুত,সেই মহিলা বসে আছেন।ভদ্রমহিলার ছেলে এই স্কুলে পড়ে।হেড স্যারের সঙ্গে এত দরকার কিসের।দরজায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করেন,স্যার আসবো? হেড স্যার সত্যেনবাবু বিবাহিত অমূল্যবাবুর চেয়ে বয়স অনেক কম চোখ তুলে বললেন,আসুন।শুনুন মিসেস মুখার্জী আপনার ছেলের উপর আমাদের নজর আছে--।মহিলা ততক্ষনে উঠে দাড়িয়েছেন হেসে বললেন,আজ আসি স্যার।মিসেস মুখার্জি বেরোতে যাবেন কয়েকটি ছেলে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে বলল,স্যার পড়ে গেছেন। পড়ে গেছেন?এরকম একটা কিছু হবে অমূল্যবাবু ছুটলেন ক্লাস নাইনের দিকে।হেডস্যারও ছুটলেন।খবর পেয়ে আরও অনেক স্যার চলে এলেন ক্লাস ছেড়ে।বরদাবাবু দেওয়ালে হেলান দিয়ে মেঝতে বসে।  স্যার কি হয়েছে?  বুকের মধ্যে অসহ্য পেইন। সবাই ধরা ধরি করে টিচার্স রুমে নিয়ে গিয়ে টেবিলের উপর শুইয়ে দিলেন।  এখন কেমন লাগছে স্যার? হাত তুলে কি যেন বলতে চাইলেন কিন্তু কিছু বলার আগেই নিস্তেজ হয়ে গেলেন।  ডাক্তারকে খবর দিন।  এখন কোনো ডাক্তারখানা খোলা পাবেন।  ডক্টর মিত্রকে ফোন করুন।   এখন কি ওকে বাড়ীতে পাওয়া যাবে?  ফোন না করলে কি করে বুঝবেন?   মাস্টার মশাইয়ের নাম বলবেন। একজন হেডস্যারের ঘরে গিয়ে ফোন করতে গেল।অমুল্যবাবু বললেন,ওকে দেখেই আমার কেমন মনে হয়েছিল।  আপনি ক্লাসে যেতে দিলেন কেন?  ভদ্রলোক ভীষণ চাপা নিজের কথা কাউকে বলতে চান না।  আগে অধ্যাপনা করতেন এখন স্কুলের চাকরি একটা ফাস্ট্রেশন ছিল।  ডাক্তার মিত্র আসছেন।স্যারকে ভালই চেনেন।বেশ উদবিগ্ন মনে হল।  ড.দেবাঞ্জন মিত্রের আজ হাবড়া চেম্বারে বসার কথা।তারই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।এমন সময় ফোন  আসতে কিছুটা বিরক্ত হয়ে ফোন ধরলেন।মাস্টার মশায়ের কথা শুনে আপত্তি করতে পারলেন না।ডক্টর মিত্র দ্রুত প্রস্তুত হতে থাকেন।পলি জিজ্ঞেস করল,বাপি কোথায় যাচ্ছ?  তোমার মাস্টার মশায় স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ড মিত্র নিজেই গাড়ী ড্রাইভ করেন।  গাড়ী নিয়ে বের হলেন।স্টিয়ারিং এ বসে মনে পড়ল প্রথম সাক্ষাতের কথা।ওর নাম শুনেছিলেন কারও বাড়ীতে গিয়ে উনি পড়ান না জানতেন।ওর কাছে ইংরেজী পড়ার জন্য পলির খুব আগ্রহ।মাস্টার মশায়কে চেম্বারে দেখে মনে হল মেঘ না চাইতে জল।দীর্ঘ টান টান শরীর চোখের দিকে সরাসরি তাকানো যায় না। ড মিত্র বললেন আসুন মাস্টার মশায়।  আমি  প্রথম নই  তিন নম্বরে।  উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে বরদাবাবুর দিকে তাকায় যেন কোনো অদ্ভুত মানুষ দেখছে।সুযোগ পেয়েও সুযোগ নেয় না এমন মানুষ হয় নাকি।ড মিত্রের মুখে কথা যোগায়না তিনি এয়াণ্টি চেম্বারে ঢুকে গেলেন।এক নম্বর রোগীর ডাক পড়ল।দুজন রোগীর পর বরদাবাবুর ডাক পড়ল।ড মিত্র মনে মনে নিজেকে প্রস্তুত করেন কি ভাবে কথাটা বলবেন।স্টেথো সারা শরীরে বুলিয়ে মনে হল হার্টে সমস্যা আছে।প্রেস্ক্রিপশন লিখে দিলেন সেই সঙ্গে ইসিজি করার পরামর্শ।  আপনার ফিজ?বরদাবাবু দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন।  বসুন মাস্টার মশায়,ফিজের জন্য চিন্তা করতে হবে না।    আপনার ফিজ।বরদা বাবু বসে বললেন।  আমার মেয়ে এবার স্কুল ফাইন্যাল দেবে।  আমি বাড়ীতে গিয়ে পড়াই না।  স্যার আমি ডাক্তার নয় একজ বাবা হিসেবে অনুরোধ করছি সপ্তাহে একটা দিন পলিকে যদি ইংরেজীটা দেখিয়ে দেন চির কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো।  যে যেই পেশায় থাকুক সবার মধ্যেই একজন বাবা থাকে।বরদাবাবু হাসলেন।  স্যার প্লীজ  ঠিক আছে ।অনেককে ফিরিয়ে দিয়েছি এই প্রথম পারলাম না।  থ্যাঙ্ক ইয়ু স্যার থ্যাঙ্ক ইয়ু। গাড়ী স্কুল কম্পাউণ্ডে ঢুকিয়ে গাড়ী থেকে নামলেন দেবাঞ্জন মিত্র।সবাই ছুটে এল।  মাস্টার মশায় কোথায়?  টিচার্স রুমে শুইয়ে রেখেছি।  কতক্ষন আগে হয়েছে?  তা আধ ঘণ্টা কি চল্লিশ মিনিট হবে।  করেছেন কি?আধ ঘণ্টার উপর এমনি ফেলে রেখেছেন?ফোন কোথায় আছে?  হেড স্যারের ঘরে। ড মিত্র ঘুরে হেড স্যারের ঘরে দিকে চললেন।ডায়াল ঘুরিয়ে বললেন,ড দেবাঞ্জন মিত্র বলছি দ্রুত একটা আয়াম্বুলেণস পাঠান। ফোন রেখে বললেন,বনগা হাসপাতাল থেলে আয়ামুলেন্স আসছে।চলুন কোথায় মাস্টার মশায়।  সবাই টিচার্স রুমে ফিরে এলেন।বিশাল টেবিলে দীর্ঘ দেহ টান টান শায়িত চোখের পাতা বন্ধ।ড মিত্র ঝুকে একটা হাত তুলে নিয়ে চমকে উঠলেন।একেবারে ঠাণ্ডা তারপর হাতের উলটো পিঠে শরীরে বুলিয়ে কিছু বোঝার চেষ্টা করেন।এক সময় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে চশমা খুলে রুমাল বের করে চোখ মুছলেন।  ডাক্তারবাবু কেমন দেখলেন?  ওর বাড়ীতে খবর দিয়েছেন?  আমি তো বলেছিলাম বাড়ীতে নিয়ে যাবার কথা।সত্যেনবাবু বললেন। ড মিত্র চোখ তুলে তাকালেন,এই ভদ্রলোক হেডমাস্টার হিসেবে নতুন এসেছেন।বললেন,যাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে তাকে বাড়ীতে নিয়ে যাবেন কেন? একজন মাস্টার মশায় ভীড় করে থাকা ছেলেদের বললেন,যাতো স্যারের বাড়ীতে খবর দিয়ে আয়।বলবি স্যার অসুস্থ হয়ে পড়েছে চিন্তার কিছু নেই। এয়াম্বুলেন্স আসতে স্ট্রেচারে করে বরদাবাবুকে তোলা হল।মুখে অক্সিজেন মাস্ক দিতে একটু নড়ে উঠলেন।একজন নীচু হয়ে ডাকলেন,স্যার। কোনো সাড়া পাওয়া গেল না।ড মিত্র হেড স্যারের ঘরে গিয়ে হাবড়ার চেম্বারে ফোন করে জানালেন জরুরী কাজে আটকে গেছেন যেতে পারবেন না।ফিরে গাড়ীতে স্টার্ট করে বললেন,আপনারা আসুন আমি হাসপাতালে আছি। সুখদা রঞ্জন শুয়ে শুয়ে বই পড়ছিল।সুমনা দেবী এক কাপ চা নিয়ে ঢুকে চৌকির একপাশে বসে চায়ে চুমুক দিলেন।মনু চা খায়না বই থেকে মুখ সরিয়ে মায়ের দিকে একবার দেখল।  কিছু ভাবছো?  হঠাৎ হাত থেকে পড়ে কাপটা ভেঙ্গে গেল।  বাইরে কারা যেন ডাকাডাকি করছে ঘর থেকে বেরিয়ে সব শুনে ভাবলেন,আমি জানতাম এই মনু তাড়াতাড়ি স্কুলে যা তোর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ধড়ফড়িয়ে উঠে একটা জামা গায়ে দিয়ে স্কুলের দিকে ছুটলো সুখদা রঞ্জন।সুমনা গালে হাত দিয়ে চৌকিতে বসে পড়েন। অন্ধকার ঘনিয়ে আসে সুমনা দেবী উঠে ঠাকুরকে জল বাতাসা দিলেন।ঠাকুরের সামনে দাঁড়িয়ে করজোড়ে কিছুক্ষন স্বামীর মঙ্গল কামনা করেন।সময় কাটতে চায়না একবার ঘর একবার বাহির করতে থাকেন। খবর পেয়ে সুবীর রায় সাইকেল নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।অল্পদিনের মধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়েছেন জামাইবাবু।কি এমন হয়েছে একেবারে হাসপাতালে আনতে হল।দ্রুত পাডেলে চাপ দিলেন।হাসপাতালের নিচে বেশ ভীড়।ভীড় সরিয়ে জিজ্ঞেস করে সব জানতে পারলেন।বাড়ীর কাউকে দেখছেন না। সুমনাদেবী বাইরে গিয়ে বসলেন।রাস্তা দিয়ে যথারীতি চলাচল করছে লোকজন।ছেলের উপর রাগ হয়।তোর একটা আক্কেল নেই।সেই কখন গেছে বাসায় মা চিন্তা করবে।আবার ঘরে এসে বসলেন।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন কাটা নটার ঘর পেরিয়ে চলেছে।এত রাত হয়ে গেল করছে কি?সেই রাতের কথা মনে পড়ল।মনুর পড়া চালিয়ে যেও।সেই কথা কি শেষে সত্যি হবে ভগবান।আচলে চোখ মুছলেন।  তিনি কি একবার এগিয়ে স্কুলের দিকে যাবেন? শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখলেন,সাইকেল নিয়ে একটা ছায়ামূর্তি বাড়ীতে ঢুকছে।কাছে আসতে বুঝতে পারেন সুবীর।পাইকপাড়া থেকে সুবীর হঠাৎ কি মনে করে।  কি রে সুবি তুই?  জামাইবাবুর খবর পেয়ে এসেছিলাম।  তোর জামাইবাবু কই? মাথা নীচু করে সুবীর সাইকেল স্ট্যাণ্ড করছেন।  কি রে তোর জামাইবাবু কই?  আসছে। বাড়ীর সামনে ভীড় জমে গেল।ফুলে সজ্জিত একটা ম্যাটাডোর এসে দাড়ালো।সুমনার মুখে কথা সরেনা।ম্যাটাডোরে শায়িত বরদা রঞ্জন ফুলে ফুলে ঢাকা।মাথার কাছে নিশ্চল বসে মনু।সুমনা রাস্তায় গিয়ে বেরিয়ে থাকা পা জোড়া ধরে গালে মুখে বোলাতে থাকেন।সকলের অলক্ষ্যে দড়িয়ে পাঞ্চালি চোখ মুছচে। 
Parent