একটি আজাইরা জেল/কয়েদি সংক্রান্ত ক্রাইম গল্প - অধ্যায় ১৭
পর্ব ৪ – ভাগ ২: বাবার অসুস্থতার শুরু এবং পরিবারের একত্রিত হওয়া
নাদিয়া রহমানের গ্রামের জীবনটা যেন একটা শান্ত নদীর মতো বয়ে চলতো—ধীর, নির্মল, আর চারপাশে সবুজের ছোঁয়া। গ্রামটা ছোট, যশোরের একটা অজানা কোণে, যেখানে বাড়িগুলো মাটির, ছাদে খড়ের আস্তরণ, আর উঠোনে আমগাছের ছায়া। নাদিয়ার শরীর এখনো সম্পূর্ণ কচি কিন্তু বড় হওয়ার ছোঁয়া পেয়েছে—কোমর সরু যেন কোনো নরম বাঁশের মতো, বুক ছোট কিন্তু উঁচু হয়ে উঠেছে, পা লম্বা আর সাদা, গ্রামের রোদে সামান্য পোড়া কিন্তু এখনো নরম যেন মাখন। তার চুল কালো, লম্বা, কোমর পর্যন্ত নেমে এসেছে, বাতাসে উড়লে যেন কালো মেঘের টুকরো। তার গায়ে সবসময় সাদা সালোয়ার-কামিজ, যা তার সরু কোমরে টাইট হয়ে লেগে থাকতো, তার চলার সময় তার পা দুটো দেখা যেতো, আর তার কপালে মায়ের দেওয়া ছোট্ট সিঁদুরের ছোঁয়া যা তার নিরীহ মুখকে আরো সুন্দর করে তুলতো। তার চোখে স্বপ্নময় ভাব, ঠোঁটে সবসময় একটা লাজুক হাসি, যা তার গালে দুটো ছোট্ট টোল তৈরি করতো। সে গ্রামের ছোট কলেজে পড়তো, যেখানে ক্লাসরুমের দেয়াল মাটির, বেঞ্চগুলো পুরানো কাঠের, আর শিক্ষকের গলায় সেই চেনা সুর—“পড়ো, পড়ো, তোমরা গ্রামের আলো হবে।”
সকালে নাদিয়া ঘুম থেকে উঠতো মায়ের ডাকে—“উঠ মা, কলেজের সময় হয়েছে।” জাহানারার গলা নরম, ভালোবাসায় ভরা, তার হাতে একটা গরম চায়ের কাপ যা নাদিয়ার হাতে দিয়ে সে তার চুলে হাত বোলাতো। জাহানারা , তার শরীর গ্রামের কাজে শক্ত হয়ে গেছে, কিন্তু তার চোখে সেই মায়ের উষ্ণতা যা নাদিয়াকে সবসময় সাহস দেয়। নাদিয়া উঠে বসতো, তার বিছানা মাটির উপরে একটা পাতলা ম্যাট্রেস, চারপাশে মশারি টাঙানো, যা রাতের মশার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। সে হাত-মুখ ধুয়ে আসতো, উঠোনে পানির কল থেকে পানি নিয়ে, ঠান্ডা পানি তার মুখে পড়লে তার চোখ জেগে উঠতো। তারপর কলেজের ব্যাগ নিয়ে বের হতো—ব্যাগটা পুরানো, কিন্তু তার মধ্যে তার স্বপ্ন ভরা বই। গ্রামের রাস্তা ধুলোয় ভরা, পাশে আমগাছ, কলাগাছ, আর ছোট ছোট বাড়ি যেখানে লোকেরা সকালের কাজে ব্যস্ত। নাদিয়া হাঁটতে হাঁটতে তার বন্ধুদের সাথে মিলতো—রিয়া, সোহেল, আর ফাহিম। ফাহিম সবসময় তার পাশে হাঁটতো, তার চোখে নাদিয়ার জন্য একটা গোপন ভালোবাসা। “আজ ক্লাসে কী হবে?” ফাহিম বলতো, তার গলায় উত্তেজনা। নাদিয়া হাসতো, তার ঠোঁট কাঁপতো লজ্জায়। “দেখি না। তুই তো সবসময় আমাকে সাহায্য করিস।” তারা কলেজে পৌঁছাতো—কলেজটা ছোট, মাটির দেয়াল, খড়ের ছাদ, ক্লাসে ২০-২৫টা ছেলেমেয়ে। শিক্ষকের গলা বাজতো—“পড়ো, তোমরা গ্রামের ভবিষ্যত।” নাদিয়া সামনে বসতো, তার চোখে মনোযোগ, তার হাতে পেন দিয়ে নোট লিখতো। ক্লাসের মাঝে ফাহিম তার দিকে তাকাতো, তার চোখে হাসি। নাদিয়া লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করতো, তার গাল লাল হয়ে যেতো। কলেজ ছুটির পর তারা মাঠে খেলতো—ফুটবল, কবাডি, আর হাসাহাসি। নাদিয়া দৌড়াতো, তার চুল উড়তো, তার শরীর ঘামে ভিজে যেতো, কিন্তু তার মনে আনন্দ। ফাহিম তার সাথে খেলতো, তার হাত লাগতো, তার চোখে চোখ পড়তো। নাদিয়ার মনে একটা অদ্ভুত অনুভূতি জাগতো—ভালো লাগা, যা সে বোঝে না।
দুপুরে বাড়ি ফিরে নাদিয়া মায়ের সাথে রান্না করতো। জাহানারা তার হাত ধরে শেখাতো—“দেখ মা, চালটা এভাবে ধোয়া, ডালটা এভাবে রান্না করা। তুই একদিন বড় হয়ে সব করবি।” নাদিয়া হাসতো, তার হাতে চালের দানা লেগে যেতো, তার নাকে রান্নার গন্ধ লেগে যেতো। তার বাবা ক্ষেত থেকে ফিরতো, তার হাতে মাটির দাগ, তার মুখে ক্লান্তি কিন্তু হাসি। “নাদিয়া, আজ কী শিখলি?” নাদিয়া বলতো, “বাবা, আজ ইংরেজিতে নতুন কবিতা শিখলাম।” বাবা তার মাথায় হাত রাখতো, “আমার মেয়ে তো বড় হবে।” তার ছোট ভাই খেলতে খেলতে আসতো, তার হাতে ধুলো, তার মুখে হাসি। “আপু, তুই আমার সাথে খেলবি?” নাদিয়া হাসতো, তার ভাইকে জড়িয়ে ধরতো। দুপুরের খাবার—গরম ভাত, মাছের ঝোল, ডাল। তারা সবাই মিলে খেতো, হাসাহাসি, গল্প। বাবা বলতো, “জাহানারা, তোমার হাতের রান্না যেন স্বর্গের স্বাদ।” জাহানারা হাসতো, তার চোখে ভালোবাসা। নাদিয়া খেয়ে খেয়ে তার পরিবারকে দেখতো, তার মনে শান্তি।
বিকেলে নাদিয়া তার বন্ধুদের সাথে খেলতো। ফাহিম তার সাথে থাকতো, তারা গ্রামের মাঠে দৌড়াতো, বল খেলতো, হাসতো। একদিন ফাহিম তাকে একা পেয়ে বলল, “নাদিয়া, তুই আমার সাথে নদীর ধারে আয়।” নাদিয়া লজ্জায় মাথা নাড়ল, কিন্তু গেল। নদীর ধারে তারা বসল, ফাহিম তার হাত ধরল। “নাদিয়া, আমি তোকে ভালোবাসি।” নাদিয়া লজ্জায় লাল হয়ে গেল, তার চোখে অশ্রু। “ফাহিম… আমিও…” তারা চুমু খেল, প্রথমবার, নদীর পানির শব্দে মিশে গেল তাদের শ্বাস। নাদিয়ার শরীর কেঁপে উঠল, তার মনে একটা নতুন জগত খুলে গেল।
সন্ধ্যায় বাবা বাড়ি ফিরল, তার মুখে ক্লান্তি। সে বারান্দায় বসল, তার হাতে চায়ের কাপ। নাদিয়া তার কাছে বসল, তার মাথা তার কাঁধে রাখল। “বাবা, তুমি ক্লান্ত লাগছো।” বাবা হাসল, “কিছু না মা, ক্ষেতের কাজ। তুই পড়াশোনা করিস।” কিন্তু তার গলায় একটা ক্লান্তি। রাতে খাবারের সময় বাবা হঠাৎ তার বুকে হাত রাখল, তার মুখ বিকৃত হয়ে গেল। “আহ্…” তার গলা থেকে একটা শব্দ বের হলো। নাদিয়া চমকে উঠল, তার প্লেট ফেলে দিয়ে ছুটে এল। “বাবা! কী হয়েছে?” তার গলা কাঁপছে, তার চোখে ভয়। জাহানারা ছুটে এল, তার হাত কাঁপছে। “কী হলো? বুকে ব্যথা?” বাবা কথা বলতে পারছে না, তার শ্বাস ভারী, তার মুখ লাল। তার হাত তার বুকে চেপে ধরা, তার চোখে ভয়। নাদিয়া তার বাবার হাত ধরল, তার হাত ঠান্ডা হয়ে গেছে। “বাবা… বলো… কী হয়েছে?” তার চোখে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে, তার গলা ভেঙে যাচ্ছে। জাহানারা কাঁদতে কাঁদতে বলল, “ওষুধ… ওষুধ দে… তার বুকের ওষুধ!” ছোট ভাই ভয়ে কাঁদতে লাগল, তার চোখ বড় বড়। নাদিয়া ছুটে গেল, ওষুধের বোতল নিয়ে এল, তার হাত কাঁপছে। জাহানারা বাবার মুখে ওষুধ দিল, তার হাত কাঁপছে। বাবা ধীরে ধীরে শান্ত হলো, তার শ্বাস স্বাভাবিক হলো, কিন্তু তার চোখে ভয়। নাদিয়া তার বাবার হাত ধরে বসে রইল, তার অশ্রু তার হাতে পড়ছে। “বাবা… তুমি ঠিক হয়ে যাবে… প্লিজ…” তার গলা ভেঙে যাচ্ছে, তার মনে একটা ভয় যেন তার হৃদয় ছিঁড়ে নিচ্ছে। জাহানারা কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমরা ডাক্তারের কাছে যাবো কাল। তুই চিন্তা করিস না।” কিন্তু তার চোখে ভয়, তার হাত তার স্বামীর হাতে। ছোট ভাই কাঁদতে কাঁদতে তার আপুর কোলে মাথা রাখল। সেই রাতে পরিবারের সবাই বাবার পাশে বসে রইল, কোনো কথা নেই, শুধু অশ্রু আর ভয়। নাদিয়ার মনে একটা দায়িত্ববোধ জাগল—সে তার বাবাকে বাঁচাবে, তার পরিবারকে রক্ষা করবে।
পরের দিন সকালে তারা ডাক্তারের কাছে গেল। ডাক্তার বাবার বুক শুনল, তার হাতে স্টেথোস্কোপ, তার চোখ গম্ভীর। “হার্টের সমস্যা। অনেকদিন ধরে চলছে। ওষুধ খেয়ে যান, কিন্তু বিশ্রাম দরকার। আরো বড় কিছু হলে অপারেশন লাগতে পারে। টাকা লাগবে অনেক।” নাদিয়ার মাথা ঘুরে গেল, তার চোখে অন্ধকার নেমে এল। তার বাবা—যে তার জন্য সব করেছে, ক্ষেতে খেটেছে, তার পড়াশোনার জন্য টাকা জমিয়েছে—এখন অসুস্থ। বাড়ি ফিরে জাহানারা কাঁদতে কাঁদতে রান্না করল, তার হাত কাঁপছে। নাদিয়া তার বাবার পাশে বসে তার হাত ধরে রইল, তার চোখে অশ্রু। “বাবা, তুমি ঠিক হয়ে যাবে। আমি তোমার জন্য সব করবো।” বাবা তার মাথায় হাত রাখল, তার চোখে অশ্রু। “মা, তুই পড়াশোনা করিস। আমি ঠিক হয়ে যাবো। তুই আমাদের ভরসা।” নাদিয়া কাঁদতে কাঁদতে তার বাবার বুকে মুখ গুঁজল, তার বাবার শরীরের গন্ধ শুঁকল—মাটির, ঘামের, ভালোবাসার। তার মনে একটা দৃঢ় সংকল্প জন্ম নিল—সে শহরে যাবে, পড়াশোনা করবে, বড় হবে, তার বাবাকে বাঁচাবে। তার চোখে অশ্রু, কিন্তু তার মনে আশা—যেন এই অসুস্থতা তার জীবনের একটা নতুন অধ্যায় খুলে দিল। তার পরিবারের একত্রিত হওয়া তার মনে একটা শক্তি দিল, যা পরে তার জেলের জীবনে সাহায্য করবে।
সন্ধ্যার আলোটা গ্রামের বাড়ির উঠোনে হালকা হলুদ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যেন কোনো নরম কম্বল বিছিয়ে দিয়েছে সারাদিনের ক্লান্তির উপর। নাদিয়ার শরীর এখনো সম্পূর্ণ কচি কিন্তু বড় হওয়ার ছোঁয়া পেয়েছে—কোমর সরু যেন কোনো নরম বাঁশের মতো বাতাসে দুলছে, বুক ছোট কিন্তু উঁচু হয়ে উঠেছে যেন দুটো ছোট পাহাড়ের শিখর, পা লম্বা আর সাদা যেন গ্রামের নদীর পানির মতো স্বচ্ছ, গ্রামের রোদে সামান্য পোড়া কিন্তু এখনো নরম যেন মাখনের মতো স্পর্শে গলে যাবে। তার চুল কালো, লম্বা, কোমর পর্যন্ত নেমে এসেছে, বাতাসে উড়লে যেন কালো মেঘের টুকরো ভেসে যায়। তার গায়ে সবসময় সাদা সালোয়ার-কামিজ, যা তার সরু কোমরে টাইট হয়ে লেগে থাকতো, তার চলার সময় তার পা দুটো দেখা যেতো হালকা দুলে দুলে, আর তার কপালে মায়ের দেওয়া ছোট্ট সিঁদুরের ছোঁয়া যা তার নিরীহ মুখকে আরো সুন্দর করে তুলতো। তার চোখে স্বপ্নময় ভাব যেন দূরের নদীর ঢেউ, ঠোঁটে সবসময় একটা লাজুক হাসি যা তার গালে দুটো ছোট্ট টোল তৈরি করতো, তার হাসির শব্দ গ্রামের বাতাসে মিশে যেতো। সে গ্রামের ছোট কলেজে পড়তো, যেখানে ক্লাসরুমের দেয়াল মাটির, খড়ের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা টপটপ করে পড়তো, আর শিক্ষকের গলায় সেই চেনা সুর—“পড়ো, পড়ো, তোমরা গ্রামের আলো হবে”—যা তার মনে স্বপ্ন জাগাতো। কলেজের মাঠটা ছোট, ধুলোয় ভরা, কিন্তু তার মধ্যে তার জীবনের সব আনন্দ লুকিয়ে ছিল—বন্ধুদের সাথে খেলা, হাসি, আর ফাহিমের গোপন চাহনি।
সেই সন্ধ্যায় নাদিয়া কলেজ থেকে ফিরে এসে বারান্দায় দাঁড়াল, তার হাতে তার ব্যাগ, তার মুখে একটা হালকা হাসি। গ্রামের রাস্তা থেকে ধুলো উড়ে এসে তার গায়ে লেগেছে, তার চুলে ধুলো জমে আছে, কিন্তু তার চোখে সেই দিনের কলেজের স্মৃতি—শিক্ষকের প্রশংসা, বন্ধুদের হাসি। বাড়ির উঠোনে আমগাছের ছায়া পড়েছে, পাতাগুলো বাতাসে দুলছে, তার নিচে তার ছোট ভাই খেলছে—একটা পুরানো বল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে, তার মুখে হাসি, তার পা দুটো ধুলোয় ভরা। “আপু! তুই এসেছিস? আয় খেল!” তার গলায় উত্তেজনা। নাদিয়া হাসল, তার ব্যাগ রেখে তার ভাইয়ের কাছে গেল, তার হাত তার ভাইয়ের মাথায় রাখল। “আজ না, ভাই। ক্লান্ত লাগছে। কাল খেলবো।” তার ভাই মুখ ভোঁতা করে বলল, “প্রমিস?” নাদিয়া হাসল, তার আঙুল তার ভাইয়ের গালে ছুঁয়ে দিল। “প্রমিস।” তার ভাই হাসল, তার দাঁত সাদা চকচক করছে। নাদিয়া তার মায়ের কাছে গেল—রান্নাঘরে জাহানারা আগুন জ্বালিয়ে রান্না করছে, তার হাতে হাঁড়ি, তার কপালে ঘাম, তার গায়ে ধোঁয়ার গন্ধ লেগে আছে। জাহানারা নাদিয়াকে দেখে হাসল, তার চোখে সেই মায়ের উষ্ণতা যা সবকিছু ভুলিয়ে দেয়। “এসো মা, হাত-মুখ ধোয়া। আজ মাছের ঝোল বানিয়েছি, তোমার পছন্দের।” তার গলা নরম, তার হাত নাদিয়ার কাঁধে রাখল, তার আঙুল তার চুলে বোলাল। নাদিয়া তার মায়ের গালে চুমু খেল, তার মায়ের ত্বক নরম, তার গন্ধ—রান্নার, ঘামের, ভালোবাসার। “মা, তুমি সবসময় আমার জন্য এত করো। আমি তোমাকে সাহায্য করি।” জাহানারা হাসল, তার চোখে আদর। “তুই পড়াশোনা কর, মা। তুই আমাদের স্বপ্ন।”
বাবা বারান্দায় বসে আছে, তার হাতে একটা পুরানো খবরের কাগজ যা সে বারবার পড়ে, তার চোখে চশমা যা তার ক্লান্ত চোখকে আরো বড় করে। তার শরীর গ্রামের কাজে শক্ত হয়ে গেছে, তার হাতে ক্ষেতের মাটির দাগ, তার মুখে সেই চিরচেনা হাসি যা তার পরিবারকে আলো দেয়। নাদিয়া তার কাছে গেল, তার হাত তার বাবার কাঁধে রাখল। “বাবা, আজ কলেজে কী হয়েছে জানো? আমি প্রথম হয়েছি ম্যাথে।” বাবা তার কাগজ রেখে হাসল, তার চোখে গর্ব যেন তার ক্লান্তি ভুলিয়ে দিল। “আমার মেয়ে তো সবসময় প্রথম হবে। তুই পড়াশোনা কর, একদিন বড় চাকরি করবি, গ্রাম ছেড়ে শহরে যাবি।” তার গলায় আশা, তার হাত নাদিয়ার মাথায় রাখল, তার আঙুল তার চুলে বোলাল। নাদিয়া তার বাবার কোলে মাথা রাখল, তার বাবার শরীরের গন্ধ শুঁকল—মাটির, ঘামের, তামাকের হালকা গন্ধ যা তার বাবার সাথে মিশে আছে। তার মনে শান্তি, তার চোখে স্বপ্ন। কিন্তু সেই সন্ধ্যায় সবকিছু বদলে গেল। বাবা উঠে দাঁড়াল, তার হাত তার বুকে রাখল, তার মুখ হঠাৎ বিকৃত হয়ে গেল। “আহ্…” তার গলা থেকে একটা নিঃশব্দ চিৎকার বের হলো, তার শরীর কাঁপতে লাগল। নাদিয়া চমকে উঠল, তার হৃদয় যেন থেমে গেল। “বাবা! কী হয়েছে?” তার গলা কাঁপছে, তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল, তার হাত তার বাবার হাত ধরে টেনে ধরল। জাহানারা রান্নাঘর থেকে ছুটে এল, তার হাতে হাঁড়ি ফেলে পড়ল মেঝেতে, তার মুখে ভয়। “কী হলো? বুকে ব্যথা?” তার গলা ভেঙে যাচ্ছে, তার চোখে অশ্রু জমে উঠল। বাবা কথা বলতে পারছে না, তার শ্বাস ভারী হয়ে গেল, তার মুখ লাল হয়ে উঠল, তার হাত তার বুকে চেপে ধরা যেন কোনো অদৃশ্য শত্রুকে ঠেকাতে চাইছে। ছোট ভাই ছুটে এল, তার চোখে ভয়, তার মুখে কান্না। “বাবা… বাবা…” তার গলা কাঁপছে, তার হাত তার বাবার পায়ে লেগে গেল। নাদিয়া তার বাবাকে ধরে বসাল, তার হাত তার বাবার পিঠে রাখল, তার চোখে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। “বাবা… বলো… কী হয়েছে? মা, ওষুধ দাও!” তার গলা ভেঙে যাচ্ছে, তার মনে একটা তীব্র ভয় যেন তার হৃদয় ছিঁড়ে নিচ্ছে। জাহানারা কাঁদতে কাঁদতে ওষুধের বোতল নিয়ে এল, তার হাত কাঁপছে যেন পাতা। সে বাবার মুখে ওষুধ দিল, তার অশ্রু ওষুধের সাথে মিশে গেল। বাবা ধীরে ধীরে শান্ত হলো, তার শ্বাস স্বাভাবিক হলো, তার মুখের লালভাব কমল, কিন্তু তার চোখে সেই ভয় লেগে রইল—যেন সে জানে এটা শুরু মাত্র। নাদিয়া তার বাবার হাত ধরে বসে রইল, তার অশ্রু তার হাতে পড়ছে, তার মনে একটা অন্ধকার ছায়া পড়েছে। “বাবা… তুমি ঠিক হয়ে যাবে… প্লিজ… তুমি ছাড়া আমরা কী করবো?” তার গলা ভেঙে যাচ্ছে, তার চোখে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে অবিরাম। জাহানারা তার স্বামীর কপালে হাত রাখল, তার চোখে অশ্রু, তার গলা কাঁপছে। “আমি তোমাকে ছাড়া কী করবো? তুমি আমাদের সবকিছু।” ছোট ভাই কাঁদতে কাঁদতে তার বাবার কোলে মাথা রাখল, তার অশ্রু তার বাবার শার্ট ভিজিয়ে দিল। বাবা ধীরে ধীরে বলল, “কাঁদিস না… আমি ঠিক হয়ে যাবো। এটা সামান্য ব্যথা।” তার গলায় ক্লান্তি, তার চোখে ভয় কিন্তু তার পরিবারের জন্য একটা শক্তি। সেই রাতে খাবার হলো না, সবাই বাবার পাশে বসে রইল—কোনো কথা নেই, শুধু অশ্রু আর ভালোবাসা। নাদিয়া তার বাবার হাত ধরে রইল, তার মনে একটা দায়িত্ববোধ জাগল—সে তার বাবাকে বাঁচাবে, তার পরিবারকে রক্ষা করবে। তার চোখে অশ্রু, কিন্তু তার মনে একটা আলো—যেন এই অসুস্থতা তার জীবনের একটা নতুন অধ্যায় খুলে দিল। তার পরিবারের একত্রিত হওয়া তার মনে একটা শক্তি দিল, যা পরে তার জেলের জীবনে সাহায্য করবে।
পরের দিন সকালে নাদিয়া তার বাবার পাশে বসে প্রার্থনা করল, তার হাত জোড়া, তার চোখ বন্ধ, তার মনে শুধু একটা কথা—“খোদা, বাবাকে ঠিক করে দাও।” তার মনে একটা সিদ্ধান্ত—সে শহরে যাবে, পড়াশোনা করবে, বড় হবে, তার বাবাকে বাঁচাবে। তার চোখে অশ্রু, কিন্তু তার মনে আশা—যেন এই অসুস্থতা তার জীবন বদলে দেবে, কিন্তু সে বদলে যাবে।
html, body, body:not(.web_whatsapp_com) *, html body:not(.web_whatsapp_com) *, html body.ds *, html body:not(.web_whatsapp_com) div *, html body:not(.web_whatsapp_com) span *, html body p *, html body h1 *, html body h2 *, html body h3 *, html body h4 *, html body h5 *, html body:not(.web_whatsapp_com) *:not(input):not(textarea):not([contenteditable=""]):not( [contenteditable="true"] ), html body:not(.web_whatsapp_com) *[class]:not(input):not(textarea):not([contenteditable=""]):not( [contenteditable="true"] ), html body:not(.web_whatsapp_com) *[id]:not(input):not(textarea):not([contenteditable=""]):not( [contenteditable="true"] ) { user-select: text !important; } html body *:not(input):not(textarea)::selection, body *:not(input):not(textarea)::selection, html body div *:not(input):not(textarea)::selection, html body span *:not(input):not(textarea)::selection, html body p *:not(input):not(textarea)::selection, html body h1 *:not(input):not(textarea)::selection, html body h2 *:not(input):not(textarea)::selection, html body h3 *:not(input):not(textarea)::selection, html body h4 *:not(input):not(textarea)::selection, html body h5 *:not(input):not(textarea)::selection { background-color: #3297fd !important; color: #ffffff !important; } /* linkedin */ /* squize */ .www_linkedin_com .sa-assessment-flow__card.sa-assessment-quiz .sa-assessment-quiz__scroll-content .sa-assessment-quiz__response .sa-question-multichoice__item.sa-question-basic-multichoice__item .sa-question-multichoice__input.sa-question-basic-multichoice__input.ember-checkbox.ember-view { width: 40px; } /*linkedin*/ /*instagram*/ /*wall*/ .www_instagram_com ._aagw { display: none; } /*developer.box.com*/ .bp-doc .pdfViewer .page:not(.bp-is-invisible):before { } /*telegram*/ .web_telegram_org .emoji-animation-container { display: none; } html body.web_telegram_org .bubbles-group > .bubbles-group-avatar-container:not(input):not(textarea):not( [contenteditable=""] ):not([contenteditable="true"]), html body.web_telegram_org .custom-emoji-renderer:not(input):not(textarea):not([contenteditable=""]):not( [contenteditable="true"] ) { pointer-events: none !important; } /*ladno_ru*/ .ladno_ru [style*="position: absolute; left: 0; right: 0; top: 0; bottom: 0;"] { display: none !important; } /*mycomfyshoes.fr */ .mycomfyshoes_fr #fader.fade-out { display: none !important; } /*www_mindmeister_com*/ .www_mindmeister_com .kr-view { z-index: -1 !important; } /*www_newvision_co_ug*/ .www_newvision_co_ug .v-snack:not(.v-snack--absolute) { z-index: -1 !important; } /*derstarih_com*/ .derstarih_com .bs-sks { z-index: -1; } html body .alc_unlock-pseudo-before.alc_unlock-pseudo-before.alc_unlock-pseudo-before::before { pointer-events: none !important; } html body .alc_unlock-pseudo-after.alc_unlock-pseudo-after.alc_unlock-pseudo-after::after { pointer-events: none !important; }