গুপ্ত বীজ - অধ্যায় ২২

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74178-post-6245943.html#pid6245943

🕰️ Posted on June 22, 2026 by ✍️ tony321 (Profile)

🏷️ Tags:
📖 557 words / 3 min read

Parent
সময় তার নিজের নিয়মেই বয়ে চলল। দেখতে দেখতে প্রায় সাতটা মাস কেটে গেল। শ্রীময়ীর ফ্ল্যাট তলপেট এখন বেশ বড়, গোল আর ভারী হয়ে উঠেছে। তার ফর্সা শরীরে এখন এক অদ্ভুত লাবণ্য ফুটে উঠেছে। সেদিন ছিল শ্রীময়ীর 'সাধ' ভক্ষণের অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই বাড়ি গমগম করছে। উঠোনে সামিয়ানা খাটানো হয়েছে। শ্রীময়ীর বাপের বাড়ির লোকজন, ওহোনা বৌদির পরিবার এবং গ্রামের প্রায় সমস্ত গণ্যমান্য আত্মীয়-স্বজন এসেছেন। শাশুড়ি মহামায়া দেবী বৌমাকে নতুন লাল বেনারসী শাড়ি আর গয়না দিয়ে সাজিয়ে খাটের ওপর বসিয়েছেন। শ্রীময়ীর সামনে কাঁসার থালায় সাজানো রয়েছে পাঁচ রকমের ভাজা, মাছের মাথা, পায়েস আর হরেক পদের মিষ্টি। আমন্ত্রিত অতিথিরা একে একে এসে শ্রীময়ীর কোলে নতুন জামাকাপড়, ফল আর আশীর্বাদী উপহার তুলে দিচ্ছিলেন। ঠিক এই সময়েই উঠোনের এক কোণে কোলাহল একটু বাড়ল। শ্রীময়ী চোখ তুলে তাকাতেই দেখল—আসিফ এসেছে। হ্যাঁ, শ্রীময়ী সেই বৃষ্টিভেজা দুপুরে আসিফকে যে কথা দিয়েছিল, তা সে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। সাধের নিমন্ত্রণপত্রে আসিফের নামও রাখা হয়েছিল। তবে আসিফ একা আসেনি; সে তার  দুই  বউ আর সাথে চার-পাঁচটা ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে নিয়ে বেশ ঘটা করেই রাজকীয় ভঙ্গিতে অন্দরমহলে এসে ঢুকেছে। আসিফের বড় বউ, যে বেশ একটু বয়স্কা ও সরলসিধে, সে হাতে একটা ছোট মোড়ক নিয়ে ভিড় ঠেলে সোজা শ্রীময়ীর খাটের সামনে এসে দাঁড়াল। বড় বউ: "ছোট ভাবি... আমরা তো চাষাভুষো মানুষ, আপনাদের দেওয়ার মতো তো আমাদের সেরকম কিছু নাই। তবু এই ছোট উপহারটুকু আমাদের তরফ থেকে নেন।" শ্রীময়ী কিছুটা উন্মুখ হয়ে এগিয়ে গিয়ে সেই গোলাপি কাগজে মোড়ানো ছোট প্যাকেটটা হাত বাড়িয়ে নিল। কিন্তু প্যাকেটটা খুলতেই শ্রীময়ীর বুকের ভেতরটা এক মুহূর্তে ধড়াস করে উঠল, তার মুখের সমস্ত রক্ত যেন এক সেকেন্ডে শুকিয়ে গেল। কাগজের ভেতরে আর কিছু নয়—উজ্জ্বল আলোয় চকমক করছে একটা সোনার চেইন! হ্যাঁ, এটা সেই চেইন, যেটা বিয়ের পর সৌম্য তাকে প্রথম উপহার দিয়েছিল! সাত মাস ধরে সে ভেবেছিল চেইনটা আসিফ হয়তো বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে, কিন্তু আজ সেটা এভাবে ফিরে আসবে, সে কল্পনাও করেনি। সে আর বেশি কিছু ভাবতে পারল না. সে একটু দূরে তাকাল। দেখল, ভিড়ের মাঝে পুরুষদের সারিতে দাঁড়িয়ে একটা চাদর জড়িয়ে আসিফ তার দিকে তাকিয়ে এক কুৎসিত, বাঁকা ও অর্থপূর্ণ হাসি হাসছে। সেই চোখের চাউনি পরিষ্কার বলে দিচ্ছিল—ভাবি জান, তোমার এই সন্তানের আসল মজুরি কিন্তু আমি ফেরত দিয়ে গেলাম! শ্রীময়ী এক মুহূর্তের মধ্যে নিজেকে সামলে নিয়ে মাথা নিচু করল। এক তীব্র নিষিদ্ধ লজ্জা আর গোপন আশঙ্কায় তার গাল দুটো লাল হয়ে উঠল। সে কোনোমতে আমতা আমতা করে বলল— শ্রীময়ী: "বৌদি... চেইনটা খুব সুন্দর হয়েছে। কিন্তু আপনারা যে কষ্ট করে এতদূর এসেছেন, আমার অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছেন, এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। এসব দামি জিনিসের কী দরকার ছিল বলো তো?" বড় বউ: "আরে না না ভাবি, ওনার খুব ইচ্ছে ছিল আপনাকে এটাই দেওয়ার। " এই বলে বড় বউ ভিড় ঠেলে নিচে নেমে গেল। ঠিক তখনই পাশ থেকে ওহোনা বৌদি গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে এল। সে শ্রীময়ীর ঠিক কানের কাছে মুখটা নামিয়ে, চেইনটার দিকে চোখ রেখে ফিসফিস করে অত্যন্ত রসিয়ে বলল— ওহোনা: "কী রে শ্রীময়ী? সওদাটা তবে শেষ পর্যন্ত তুই-ই জিতলি বল?  তোর বরের চেইনটাও তোর গোপন খাঁচায় ফেরত দিয়ে গেল! " শ্রীময়ী চট করে চারপাশটা দেখে নিয়ে ওহোনার পেটে একটা হালকা চিমটি কাটল। চোখ বড় বড় করে চাপা গলায় বলল— শ্রীময়ী: "চুপ কর একদম বৌদি! পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো একটা কথা যদি শাশুড়ির কানে যায়, তবে এই সাধের আসরেই ...!" ওহোনা বৌদি মুখে আঁচল চাপা দিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠল। আর শ্রীময়ী সেই সোনার চেইনটা নিজের মুঠোর মধ্যে শক্ত করে চেপে ধরে, দূর থেকে আসা আসিফের সেই বুনো চোখের চাউনির দিকে তাকিয়ে নিজের ভারী পেটের ওপর আলতো করে হাত বোলাল—যেখানে এই মুহূর্তেই এক নতুন জীবনের স্পন্দন তীব্র হয়ে উঠছিল।
Parent