হেমন্তের অরণ্যে - অধ্যায় ৬

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-50151-post-4976372.html#pid4976372

🕰️ Posted on October 5, 2022 by ✍️ Henry (Profile)

🏷️ Tags:
📖 748 words / 3 min read

Parent
অরুণাভ অফিস থেকে ফিরে দেখল বাড়িটা নিঃঝুম হয়ে আছে। ড্রয়িং রুমের আলো নেভানো। তাতান এখনো ফেরেনি। পাপান এখনো ঘুমোচ্ছে। মা থাকলে এতক্ষণ ঘুমানোর জো নেই ওর। বকাঝকা দিয়ে ঠিক ডেকে তুলবেই। অসীম মোজা খুলতে খুলতে গম্ভীর গলায় হাঁক দিল----পাপান! ধড়ফড় করে উঠে বসল পাপান। ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখল রাত্রি ন'টা। চোখ ডলতে ডলতে বেরিয়ে এলো ও। ---এটা ঘুমোবার সময় হল? ধমক দিয়ে উঠল অরুণাভ।---মা ফোন করেছে? ---না তো। ---মালতী এসেছিল? ---হ্যা রান্না করে দিয়ে গেছে। ---তোর মায়ের ট্রেনটা যেন কটায় ছিল? কাঁধে তোয়ালে নিয়ে বাথরুমে ঢোকার মুখে বলল অরুণাভ। বেসিনে চোখে জলের ঝাপটা দিয়ে মুখটা মুছতে মুছতে পাপান বাবার দিকে তাকালো খানিকটা বিস্ময়ে---মা তো ট্রেনে যায়নি। হেমেন মামা গাড়ি এনেছিল। অসীম কাকুও ছিল। ---অসীম! কুঁচকে উঠল অরুণাভর ভ্রু জোড়া। অসীমকে কেন যেন অরুণাভর পছন্দ নয়। বাড়ীতে কবিতার আসর বসাতো, যা অরুণাভর একবারে নাপসন্দ ছিল। অসীম যে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় কাবেরীর প্রেমে পড়েছিল, এ কথা অরুণাভ জানতো। তা নিয়ে কখনো মাথা ঘামায়নি অরুণাভ।এখন অরুণাভ-কাবেরী কিংবা অসীম, তারা প্রত্যেকেই মধ্যবয়সের নরনারী, নতুন করে প্রেম-প্রণয়ের বিষয় নেই। বিষয়টি হচ্ছে বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে ওই গান-বাজনা, বিদঘুটে সব কাব্য আলোচনা আর ঘনঘন চা এসব দেখলেই গা জ্বলে যেত অরুণাভর। অদ্ভুত এক প্রাচীন পরিবেশ মনে হচ্ছে কাবেরীর। দোতলা বিরাট সেকেলে বাড়িটাকে জোছনা রাতের আবছা আলোয় দৈত্য বলে মনে হচ্ছে। দিনের আলো ছাড়া চারপাশ বোঝা দায়। আলমগীর আর অসীম হাত লাগিয়ে ব্যাগ পত্তর নামিয়ে এনেছে। এই বাড়িতে কোথাও বিদ্যুৎ নেই। চওড়া বারান্দায় টেবিলের ওপর যেটা জ্বলছে, সেটা হ্যারিকেন। একটা পনেরো-ষোল বছরের আদিবাসী মেয়ে বাতি দিয়ে জ্বেলে দিল আরো দুটো, সব মিলিয়ে তিনটে হ্যারিকেন এখন। হ্যারিকেন জিনিসটাকে কতদিন পরে দেখল কাবেরী। তাতান-পাপান থাকলে, তাদের কাছে নিঃসন্দেহে এটা প্রাগৈতিহাসিক মনে হত। হেমেন দা আদিবাসী মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললেন---এই হল কুন্তী। মহাভারতের নয়। হাঁসড়ার মুন্ডা পাড়ার মেয়ে। যখন যা প্রয়োজন একেই বলে নিস। কাবেরী ব্যাগ থেকে জিনিস পত্তর বের করাতে করাতে বলল--বাংলা বোঝে তো? হেমেন দা হেসে বলল---এই এলাকার বৈচিত্র্য এই যে, এখানে সকলে বাংলা, হিন্দি আর মুন্ডাদের নিজের ভাষা মুন্ডারা বোঝে আর বলতে পারে। কাবেরী একবার স্নানে যেতে চায়। হাতের ওপর শাড়ি-ব্লাউজ, তোয়ালে নিয়ে বলল---কুন্তী আমাকে একবার বাথরুমটা দেখিয়ে দাও দেখি। হ্যারিকেন হাতে ঝুলিয়ে মেয়েটা এগোতে লাগলো। মান্ধাতা আমলের বাথরুম। দেওয়ালে অজস্র ফাটল। লতাপাতা, বটের চের গজিয়েছে তার ভেতরে। তবে বেশ বড় বাথরুমটা। লম্বাটে। একটা বড় চৌবাচ্চা জলে পরিপূর্ণ। শাড়ির ভেতর হাতটা নিয়ে গিয়ে ব্লাউজের হুকটা আলগা করে দিল কাবেরী। লক্ষ্য করল কুন্তী তখনও হ্যারিকেন হাতে দাঁড়িয়ে। ---হ্যারিকেনটা রেখে তুমি চলে যাও। মেয়েটা কোনো কথা না বলে তাই করলো। দরজাটা বন্ধ করে দিল কাবেরী। বাথরুমের ভেতরে হ্যারিকেনের আলো। মগে করে চৌবাচ্চা নিয়ে গায়ে জল দিতেই বুঝতে পারলো, ভারী শীতল জল। অরুণাভ সকালের কাগজ রাতে পড়ে। তাতান ফিরেছে। টিভিটা অন করে ও ততক্ষণ ধরে একটা পুরোনো খেলার হাইলাইটস দেখে যাচ্ছে। পাপান পড়ার ঘরে। টেলিফোনটা রিং হতেই কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে অরুণাভ তাকালো রিসিভারের দিকে। তাতানই উঠে গিয়ে ধরল ফোনটা। ----মা? --কিরে বাপি এসেছে? ---হ্যা। তুমি পৌঁছেছ? ---হ্যা। ভাই কি করছে? ---পড়ার ঘরে। ---মালতী এসেছিল? ---হ্যা। রান্না করে দিয়ে গেছে। ---ছাদে কাপড়-চোপড়গুলো নামিয়ে রেখেছে? ---ভাই জানে, আমি তো বিকেলে ছিলাম না। ---তোর বাপি কোথায়? তাতান বাবার দিকে চেয়ে রইল। অরুণাভ ফোনটা ধরতেই কাবেরী বলল---চা খেয়েছ? ---এই তো খেলাম, নিজে বানিয়ে। হাসলো কাবেরী---এবার নিজে বানিয়ে খেতে শেখো। ---পৌঁছালে কখন? ---আর বলো না। এত রাস্তা! ---তা পূর্বপুরুষের জমিদারী কেমন দেখলে? ---দেখলাম কি? দিনের আলোয় গোটা বাড়িটা দেখতে পাবো। মালতী কি রান্না করে দিয়ে গেছে গো? ---দেখিনি। ওই বিস্বাদ খাবার খেতে হবে কতদিন এবার। ---আঃ লক্ষ্মীটি, বেশি বাইর থেকে খাবার আনিও না। পাপানটা কাল থেকে পেটটা খারাপ বলছিল। একটু দেখো। অরুণাভ হাসলো। বলল---কাবেরী, বেড়াতে গেছ, এসব ভাবলে চলে? তা তোমার কবি বন্ধু গেছে শুনলাম। ---হ্যা অসীম যে হেমেন দার ছাত্র তোমাকে তো আগেই বলেছিলাম। তবে ললিতা আসেনি জানো। ---তাহলে তো অসীমের প্রেমিক ভাগ্য খুলে গেল। দেখো ঘন ঘন রোমান্টিক কাব্য শুনিয়ে তোমাকেই না পাগল করে দেয়। ---ধ্যাৎ। শোনো না, ছাদে বোধ হয় কাপড়গুলো রয়ে গেছে। মালতীটার কোনো জ্ঞানগম্য নেই। আর হ্যা রাতে ওষুধগুলো খাবে। বৃষ্টি হলে ঘরের জানলাগুলো.... ---এই রে বৃষ্টি এসেছে! অরুণাভ অফিস থেকে ফেরার সময়ই লক্ষ্য করেছিল হালকা গুমোট ভাব।আকাশের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে ঈষৎ মেঘ ছিল। ছাদের ওপর দীর্ঘদিন পর উঠল অরুণাভ। এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত টানা দড়িতে তাতান-পাপানের শর্টস, টিশার্ট, কাবেরীর শাড়ি, সায়া ব্লাউজ, অরুণাভর ট্রাউজার মেলা। আজ সকালেই মালতীকে ঘর মোছার কাজে লাগিয়ে এতগুলো জিনিস কেচেছে কাবেরী। অরুণাভ কতবার বলেছে, তবু ওয়াশিং মেশিনে কাচা পছন্দ হয় না ওর। হেমেন দা বড় বারান্দায় সিগারেট ধরিয়ে বসেছেন। পাশেই পাজামা পরে অসীম খালি গায়ে বসে রয়েছে। অসীমের গায়ের রঙ কাবেরী বা অরুণাভর মত ফর্সা নয়। অসীম খানিকটা শ্যামলা। হেমেন দা বললেন---খুকী কুন্তীকে বলে একটু রান্না ঘরটা দেখিস। কাবেরী বড় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল সাড়ে দশটা। ভাতে ভাতে রেঁধে ফেলার উপক্রম করা ছাড়া উপায় নেই। নিজেই হাত লাগালো রান্না ঘরে। +++++++
Parent