কাশীপুরের কান্ড - অধ্যায় ২২

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74150-post-6242478.html#pid6242478

🕰️ Posted on June 19, 2026 by ✍️ Toxic boy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 695 words / 3 min read

Parent
ফ্ল্যাশব্যাক : হরিপদ মাস্টারের দাদুর গল্প সেই রাতেও ঘুম আসছিল না হরিপদ মাস্টারের। বিছানায় শুয়ে শুয়ে তিনি জানলার বাইরে তাকিয়ে ছিলেন। কুয়াশা। নিঃশব্দ অন্ধকার। আর দূরে কোথাও কুকুরের ডাক। ⸻ তারপর হঠাৎ মনে পড়ে গেল বহু বছরের পুরোনো একটা কথা। একটা গল্প। না… গল্প নয়। তার দাদুর মুখে শোনা একটা ঘটনা। ⸻ তখন হরিপদ ছোট। দশ-এগারো বছরের বেশি নয়। শীতের রাতে দাদুর গা ঘেঁষে বসে থাকত। আর দাদু মাঝে মাঝে পুরোনো দিনের কথা বলতেন। ⸻ সেইসব গল্পের মধ্যে একটা গল্প ছিল। যে গল্পের শেষ পর্যন্ত তিনি কোনোদিন শুনতে পারেননি। ⸻ দাদু বলতেন— “তুই যে বটগাছটা দেখিস না মাঠের ওদিকটায়… ওটা সবসময় এমন ছিল না।” ⸻ তখনও কাশীপুর এত বড় হয়নি। বাড়িঘর কম। জঙ্গল বেশি। ⸻ একদিন এক লোক এল। কোথা থেকে এসেছে কেউ জানে না। ⸻ লম্বা মানুষ। শুকনো চেহারা। জট বাঁধা চুল। কাঁধ পর্যন্ত নেমে এসেছে। চোখ দুটো অদ্ভুত। কখনও স্থির। কখনও অস্বাভাবিক উজ্জ্বল। ⸻ লোকটা নিজেকে সাধক বলত। ⸻ প্রথমদিকে গ্রামের মানুষ তাকে সম্মানই করত। ⸻ কেউ দুধ দিত। কেউ ভাত। কেউ শীতের রাতে চাদর। ⸻ লোকটা সবসময় হেসে কথা বলত। ধীরে ধীরে। ভদ্রভাবে। ⸻ আর অদ্ভুতভাবে গ্রামের মানুষের কিছু কিছু ব্যাপার আগে থেকেই বলে দিতে পারত। ⸻ কারও গরু হারাবে। কারও ফসল নষ্ট হবে। কারও বাড়িতে অসুখ আসবে। ⸻ সব না। তবু কয়েকটা এত নিখুঁতভাবে মিলেছিল যে গ্রামের মানুষ অবাক হয়ে গিয়েছিল। ⸻ তারপর… কিছু বদলাতে শুরু করল। ⸻ ধীরে। খুব ধীরে। ⸻ কয়েকজন মহিলা তার নাম শুনলে মুখ গম্ভীর করে ফেলতেন। ⸻ কেউ কিছু বলতেন না। কিন্তু অস্বস্তি ছিল। ⸻ কিছু একটা ঠিক ছিল না। ⸻ একদিন গ্রামের একজন বয়স্ক মহিলা বলেছিলেন— “লোকটার চোখ ভালো না।” ⸻ কেউ গুরুত্ব দেয়নি। ⸻ তারপর আরও কয়েক মাস কেটে যায়। ⸻ হঠাৎ একদিন… গ্রামের এক বিবাহিতা মহিলা নিখোঁজ হয়ে যান। ⸻ সারারাত খোঁজাখুঁজি। ⸻ ভোরের দিকে তাকে পাওয়া যায়। গ্রামের বাইরে। একটা ঝোপের কাছে। ⸻ তিনি তখনও কাঁপছিলেন। ⸻ চোখে আতঙ্ক। ⸻ লোকজন জিজ্ঞেস করেছিল— — কী হয়েছিল? ⸻ তিনি উত্তর দেননি। ⸻ শুধু একবার বলেছিলেন— “ওর চোখের দিকে তাকিয়ো না…” ⸻ তারপর আর কিছু বলেননি। ⸻ ঘটনার পরে পুরো গ্রাম অস্থির হয়ে উঠেছিল। ⸻ কিন্তু আসল ঘটনা ঘটল কয়েক সপ্তাহ পরে। ⸻ এক শীতের রাতে। ⸻ কুয়াশা নেমেছে। ⸻ বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে। ⸻ ঠিক তখন গ্রামের কয়েকজন দূরে আগুনের আলো দেখতে পেল। ⸻ বটগাছের দিক থেকে। ⸻ প্রথমে ভাবল কেউ হয়তো আগুন জ্বালিয়েছে। ⸻ কিন্তু আলোটা স্বাভাবিক ছিল না। ⸻ স্থির না। ⸻ নাচছিল। ⸻ আর তার সঙ্গে ভেসে আসছিল মন্ত্রের মতো শব্দ। ⸻ নিচু। ⸻ অস্পষ্ট। ⸻ শুনলে শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। ⸻ গ্রামের কয়েকজন সাহসী লোক এগিয়ে গেল। ⸻ তারা ভেবেছিল চোর। অথবা ডাকাত। ⸻ কিন্তু কাছে গিয়ে… তারা যা দেখেছিল… সেটা নিয়ে পরে কেউ স্পষ্ট করে কথা বলতে চাইত না। ⸻ শুধু দাদু একবার বলেছিলেন— “সেদিন ওর আসল মুখ বেরিয়ে এসেছিল।” ⸻ ছোট হরিপদ জিজ্ঞেস করেছিল— — কী দেখেছিলে? ⸻ দাদু অনেকক্ষণ চুপ ছিলেন। ⸻ তারপর বলেছিলেন— “সব জানতে নেই।” ⸻ সেই ঘটনার পর আর কেউ লোকটাকে সাধু বলত না। ⸻ তার নামও মানুষ মুখে আনত না। ⸻ খবর ছড়িয়ে পড়ল আশপাশের গ্রামে। ⸻ তারপর আরও দূরে। ⸻ অবশেষে কয়েক মাস পরে… কাশী থেকে কয়েকজন তপস্বী এলেন। ⸻ সাধারণ মানুষ না। ⸻ বৃদ্ধ। গম্ভীর। ⸻ তাদের একজন বটগাছটা দেখে অনেকক্ষণ চুপ করে ছিলেন। ⸻ তারপর বলেছিলেন— “এখানে বহুদিন ধরে অশুভ সাধনা হয়েছে।” ⸻ আরেকজন মাটির দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন— “যা জেগেছে, তাকে ধ্বংস করা যাবে না। কেবল বেঁধে রাখা যাবে।” ⸻ তারপর শুরু হয়েছিল কয়েকদিনের এক অদ্ভুত আচার। ⸻ বটগাছের চারপাশে মাটি খোঁড়া হয়েছিল। ⸻ মন্ত্রপাঠ হয়েছিল। ⸻ লাল আর হলুদ সুতো টানা হয়েছিল। ⸻ খুঁটি পোঁতা হয়েছিল। ⸻ মাটির নিচে কিছু পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। ⸻ সেই সময় গ্রামের কাউকে কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। ⸻ শেষদিন সেই বৃদ্ধ তপস্বী গ্রামের মানুষদের বলেছিলেন— “এই গণ্ডির ভেতরে কেউ যাবে না।” ⸻ — কেন? লোকজন জিজ্ঞেস করেছিল। ⸻ বৃদ্ধ মানুষটা উত্তর দিয়েছিলেন— “যে বন্দি আছে… সে মুক্তি চাইবে।” ⸻ — আর যদি কেউ যায়? ⸻ বৃদ্ধ কিছুক্ষণ চুপ করে ছিলেন। ⸻ তারপর বলেছিলেন— “তাহলে সে হয়তো পথ খুঁজে পাবে।” ⸻ এতটুকুই দাদু বলেছিলেন। ⸻ এরপর যতবার হরিপদ প্রশ্ন করেছে— ততবারই দাদু চুপ করে গেছেন। ⸻ আর এখন… এত বছর পরে… অন্ধকার ঘরে বসে হরিপদ মাস্টারের মনে হচ্ছিল— রতন কি সেই পথটাই খুলে ফেলেছে? ⸻ জানলার বাইরে কুয়াশা আরও ঘন হচ্ছিল। ⸻ আর বহু দূরে… অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বিশাল বটগাছটা যেন নিঃশব্দে অপেক্ষা করছিল।
Parent