কাশীপুরের কান্ড - অধ্যায় ২৫

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74150-post-6242482.html#pid6242482

🕰️ Posted on June 19, 2026 by ✍️ Toxic boy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 788 words / 4 min read

Parent
অধ্যায় ২৪ : প্রতিমার অস্বস্তি হরিপদ মাস্টারের মৃত্যুর পর তিন দিন কেটে গেছে। গ্রামের জীবন আবার ধীরে ধীরে আগের ছন্দে ফিরছে। ⸻ নরুর দোকানে আবার আড্ডা বসছে। ⸻ পুকুরঘাটে আবার মহিলাদের হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে। ⸻ কলেজে ক্লাস চলছে। ⸻ মাঠে খেলাও হচ্ছে। ⸻ তবু… কিছু কিছু ঘটনা গ্রামের স্মৃতি থেকে এত সহজে মুছে যায় না। ⸻ হরিপদ মাস্টারের নাম এখনও মাঝেমধ্যে উঠে আসে। ⸻ আর কার্তিক এখনও আগের মতো হয়নি। ⸻ রতনও সেটা বুঝতে পারে। ⸻ তবু সে নিজেও আজকাল নিজের মধ্যেই যেন হারিয়ে যাচ্ছে। ⸻ সকালে প্রতিমা ডাকলেন, — রতন! ⸻ কোনো উত্তর নেই। ⸻ — রে রতন! ⸻ তবুও না। ⸻ প্রতিমা ভাবলেন, হয়তো পড়ছে। ⸻ রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখলেন, রতন উঠোনে বসে আছে। ⸻ চুপচাপ। ⸻ একদৃষ্টে তাকিয়ে। ⸻ সামনের আমগাছটার দিকে। ⸻ — ডাকছি, শুনতে পাচ্ছিস না? ⸻ রতন চমকে উঠল। ⸻ যেন অনেক দূর থেকে ফিরে এল। ⸻ — হ্যাঁ? ⸻ — কতক্ষণ ধরে ডাকছি। ⸻ — শুনিনি। ⸻ — কী ভাবছিলি? ⸻ রতন উত্তর দিল না। ⸻ কারণ সে নিজেও জানত না। ⸻ সে সত্যিই কী ভাবছিল? ⸻ মনে করার চেষ্টা করল। ⸻ পারল না। ⸻ শুধু মনে হলো… কিছু একটা প্রায় মনে পড়ে গিয়েছিল। ⸻ তারপর আবার হারিয়ে গেছে। ⸻ সেদিন দুপুরে খাওয়ার সময় একটা ছোট ঘটনা ঘটল। ⸻ খুব ছোট। ⸻ কিন্তু প্রতিমার অস্বস্তি হলো। ⸻ কারণ তিনি রতনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, — ডাল দেব? ⸻ রতন মাথা না তুলেই বলল, — আগে নুনটা সরাও। ⸻ প্রতিমা অবাক। ⸻ — কেন? ⸻ — নুনের বাটি ওইখানে থাকলে পড়ে যাবে। ⸻ প্রতিমা বাটিটার দিকে তাকালেন। ⸻ ভালোভাবেই রাখা। ⸻ পড়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। ⸻ তিনি কিছু বললেন না। ⸻ কিন্তু ঠিক আধ মিনিট পরে… তাকের ওপর বসে থাকা একটা বেড়াল লাফ দিল। ⸻ ধাক্কা খেল। ⸻ আর নুনের বাটিটা নিচে পড়ে গেল। ⸻ ঝনঝন শব্দ। ⸻ সাদা নুন ছড়িয়ে পড়ল মেঝেতে। ⸻ প্রতিমা স্থির হয়ে গেলেন। ⸻ রতনও থেমে গেল। ⸻ কারণ সে নিজেও জানত না সে কথাটা কীভাবে বলেছিল। ⸻ একটা কাঁটা যেন তার বুকের ভেতর বিঁধল। ⸻ এটা কি আন্দাজ? ⸻ নাকি… ⸻ সে আর ভাবল না। ⸻ সন্ধ্যায় মাঠে গিয়ে খেলল। ⸻ সব ঠিক। ⸻ সব স্বাভাবিক। ⸻ কিন্তু কার্তিক হঠাৎ বলল, — তুই ঠিক আছিস তো? ⸻ — কেন? ⸻ — জানি না। ⸻ রতন হেসে উড়িয়ে দিতে গেল। ⸻ কিন্তু পারল না। ⸻ কারণ একই প্রশ্ন সে নিজেকেও করছে। ⸻ রাতে খাওয়া শেষ করে রমাপদ হারিকেনের আলোয় খাতা দেখছিলেন। ⸻ প্রতিমা চাল বাছছিলেন। ⸻ রতন বই খুলে বসেছিল। ⸻ হঠাৎ সে বলল, — বাবা। ⸻ — কী? ⸻ — হরিপদ দাদু কি ভয় পেত? ⸻ রমাপদ চশমার ওপর দিয়ে তাকালেন। ⸻ — সবাই কিছু না কিছু ভয় পায়। ⸻ — উনি কী ভয় পেতেন? ⸻ প্রশ্নটা শুনে প্রতিমাও তাকালেন। ⸻ কারণ প্রশ্নটা অদ্ভুত। ⸻ রতন নিজেও জানে না কেন জিজ্ঞেস করল। ⸻ রমাপদ হেসে বললেন, — মানুষ চলে গেলে এসব আর জানা যায় না। ⸻ রতন মাথা নেড়ে চুপ করে গেল। ⸻ কিন্তু তার ভেতরে যেন কেউ ফিসফিস করে বলল— “জানা যায়…” ⸻ সে চমকে উঠল। ⸻ চারদিকে তাকাল। ⸻ কেউ না। ⸻ কিছু না। ⸻ শুধু নিজের হৃদস্পন্দন। ⸻ আর গভীর রাত। ⸻ সেই রাতে প্রতিমার ঘুম ভেঙে গেল। ⸻ কেন ভাঙল, তিনি বুঝতে পারলেন না। ⸻ হয়তো কোনো শব্দে। ⸻ হয়তো নিছকই। ⸻ তিনি চোখ খুললেন। ⸻ ঘর অন্ধকার। ⸻ রমাপদ ঘুমোচ্ছেন। ⸻ রতনের খাটও দেখা যাচ্ছে। ⸻ সব স্বাভাবিক। ⸻ তবু… কিছু একটা যেন ঠিক নেই। ⸻ প্রতিমা ধীরে ধীরে উঠে বসলেন। ⸻ তারপর খেয়াল করলেন। ⸻ রতন ঘুমিয়ে আছে। ⸻ কিন্তু… ⸻ সে যেন কিছু বলছে। ⸻ খুব আস্তে। ⸻ ফিসফিস করে। ⸻ ঘুমের মধ্যেই। ⸻ প্রতিমা ভালো করে শোনার চেষ্টা করলেন। ⸻ শব্দগুলো স্পষ্ট না। ⸻ তবু মনে হলো— রতন কারও সঙ্গে কথা বলছে। ⸻ একতরফা না। ⸻ যেন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। ⸻ তার বুকের ভেতর ঠান্ডা একটা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল। ⸻ তিনি ধীরে ধীরে ছেলের কাছে এগিয়ে গেলেন। ⸻ আর ঠিক তখনই… রতন খুব আস্তে একটা শব্দ উচ্চারণ করল। ⸻ একটা নাম। ⸻ এত আস্তে যে পুরোটা বোঝা গেল না। ⸻ শুধু প্রথম অক্ষরটা। ⸻ “নি…” ⸻ তারপর থেমে গেল। ⸻ আবার নীরবতা। ⸻ প্রতিমা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। ⸻ তারপর ধীরে ধীরে ফিরে এলেন। ⸻ নিজেকে বোঝালেন— স্বপ্ন দেখছে। এর বেশি কিছু না। ⸻ তবু সেই রাতে আর তার ঘুম এল না। ⸻ আর গ্রামের অন্যপ্রান্তে… কার্তিক তার দাদুর ভেজা খাতাটা আবার খুলেছিল। ⸻ বেশিরভাগ লেখা নষ্ট। ⸻ কালি ছড়িয়ে গেছে। ⸻ কিন্তু একটা পাতায় এখনও কয়েকটা শব্দ পড়া যায়। ⸻ খুব কষ্টে। ⸻ খুব অস্পষ্টভাবে। ⸻ “…গণ্ডি…” “…বট…” “…নিরঞ্জ…” ⸻ তারপর বাকিটা মুছে গেছে। ⸻ কার্তিক শব্দটার দিকে তাকিয়ে রইল। ⸻ “নিরঞ্জ…” ⸻ এটা কি কোনো নাম? ⸻ নাকি অন্য কিছু? ⸻ সে জানত না। ⸻ কিন্তু বহু দূরে, অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা বটগাছটার শিকড়ের নিচে চাপা পড়ে থাকা এক বিস্মৃত নাম যেন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল। ⸻ অনেকদিন পরে। খুব অনেকদিন পরে। কারও মুখে তার ছায়া আবার উচ্চারিত হয়েছে।
Parent