মহাবীর্য্য ভাণ্ডার (নবকাহিনী শ্যামলবাবুর আখ্যান প্রকাশিত) - অধ্যায় ৮
অনেক অনেক ধন্যবাদ মিত্র। অচিন্ত্যের কাহিনী শেষ অবধি তোমার মন জয় করিতে পারিয়াছে ইহাই মহাবীর্য্যের পরম সৌভাগ্য। বিশ্বাস কর যে কাহিনী তোমাকে উৎসর্গ করা হইয়াছে তাহার প্রতি আমাকে নেকনজর দিতেই হইবে।
ত্রিশক ও ত্রূবীরের সহিত যুদ্ধটা অবশ্য আরেকটু বেশী হইলে ভাল হইত, শব্দের ক্ষেত্রে আরেকটু শিথিল হইলে পাঠক আরেকটু ভাল হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিত ইহা আমি জানি। আমাদিগের দেবু ভাই তো প্রকাশ্যেই কহিয়া দিয়াছেন, ভাষার কারুকার্য্যের আধিক্যে একটু গুরুপাক রান্না করিয়া ফেলিয়াছি। তবে, কাঁচা হাত তো! লেখা পাকিতে একটু সময় লাগিবে বৈ কী! আশা করিতেছি, যত দিন যাইবে লেখনী আরেকটু পাকিবে। বেশ কিছু স্থলে অনেকে ইহাও কহিয়াছেন যে, ঊর্যামান আদতে কী? কেমন করিয়া উহার প্রাপ্তি ঘটে? এসব বিষয়ে আলোকপাত করিলে ভালো হইত! আশা করি পরের পর্ব্বের রচনায় সেসব সম্পর্কে আলোচনা করিতে পারিব।
বিম্বিসার যদিও এই কাহিনীর নায়ক নহে, ইতিহাসের বিম্বিসারের আদলে এই কাহিনীর বিম্বিসার নির্ম্মিত হইলেও মগধের বিম্বিসার আর আমার কাহিনীর বিম্বিসার এক নহেন। কিন্তু, মগধের সেই বিম্বিসার দ্বারা অনুপ্রাণিত হইয়াই এই বিম্বিসারকে আনিয়াছি।
তোমার অঙ্কিত ছবিটী বড়ই সুন্দর। তোমার আঁকা সব ছবিই বড়ই সুন্দর হয়। বহুগুণে গুণী করিয়া জগদীশ তোমায় বসুন্ধরায় পাঠাইয়াছেন আর সেই গুণীর মিত্র আমি! ইহা তো ভাবিলে আমার গায়ে কাঁটা দিতেছে। এই গসিপিতে আসিয়া বোধকরি ইহাই আমার সবচাইতে বড় প্রাপ্তি।
তুমি কিন্তু কথা দিয়াছিলে আমাকে একটী প্রচণ্ড রুদ্ধশ্বাস ভয়ের কাহিনী বলিবে! একটু সময় বাহির করিয়া লিখিতে থাক, কোন তাড়া নাই শুধু এটুকু কহিব তবে শীত যাইবার আগেই লিখিয়া দিও। ভূত কিন্তু শীতেই বেশি কাঁপন দেয়।
পরের পর্ব্বে তোমার আঁকা ওই ছবির উচিৎ ব্যবহার করিব।