নিঃশব্দ বাড়ির গোপন অতিথি - অধ্যায় ৯

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-71608-post-6109184.html#pid6109184

🕰️ Posted on December 29, 2025 by ✍️ viryaeshwar (Profile)

🏷️ Tags:
📖 417 words / 2 min read

Parent
কুন্দর বসাকের জীবন একসময় ছিল সোনায় মোড়া। মুর্শিকাবির ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় তার নামে ছিল বড়ো বড়ো গোডাউন, ট্রাকের লাইন, কাপড়ের পাইকারি ব্যবসা। ত্রিশের কোঠায় পৌঁছেই সে হয়ে উঠেছিল লাখ টাকার মালিক। লোকে বলত, “কুন্দর বসাকের হাতে যা ধরে তাই সোনা হয়।” তার কথা ছিল শান্ত, চোখে একটা গভীর তীক্ষ্ণতা, যেন সবকিছু আগে থেকেই হিসেব করে নেয়। ব্যবসায় তার পার্টনার ছিল রফিক মিয়া—একই এলাকার লোক, বন্ধুর মতো সম্পর্ক। দুজনে মিলে ব্যবসা বড় করেছে, একসাথে খেয়েছে, একসাথে হেসেছে। কুন্দরের স্ত্রী মারা গিয়েছিল অনেক আগে, সন্তান হয়নি। তার জীবনের সবটুকু ছিল ব্যবসা আর রফিকের পরিবারের সাথে আত্মীয়তা। রফিকের একমাত্র মেয়ে ফাইজাকে কুন্দর নিজের মেয়ের মতোই দেখত। ফাইজা তখন মাত্র সাত বছরের। কিন্তু একদিন সব উল্টে গেল। রফিক মিয়া গোপনে কুন্দরের সই নকল করে ব্যাংক লোন নেয়, গোডাউনের মাল অন্য নামে বিক্রি করে, আর সব টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেয়। কুন্দর যখন বুঝতে পারে তখন তার নামে শুধু ঋণ আর ফাঁকা গোডাউন। ব্যাংকের লোক এসে সব জব্দ করে নেয়। বাড়িঘর বিক্রি হয়ে যায় ঋণ শোধ করতে। কুন্দর একদিনে পথে বসে। যে লোককে সে ভাইয়ের মতো বিশ্বাস করেছিল সেই তাকে ঠকিয়েছে। রাতের পর রাত সে ঘুমাতে পারে না। তার মনে শুধু একটা কথা ঘুরতে থাকে—প্রতিশোধ। প্রথমে সে চেষ্টা করেছিল আইনের পথে যেতে। কিন্তু রফিকের টাকার জোরে মামলা ঝুলতে থাকে, সাক্ষী কেনা হয়ে যায়। কুন্দর বুঝে যায়, এ পথে তার কিছু হবে না। তার মধ্যে একটা অন্ধকার জন্ম নেয়। সে আর আগের শান্ত কুন্দর থাকে না। তার চোখে আগুন জ্বলে। এক রাতে সে রফিকের বাড়িতে ঢোকে। রফিক তখন ঘুমোচ্ছে। কুন্দরের হাতে ছিল একটা ছোট ছুরি—যেটা সে ব্যবসার দিনে কাগজ কাটতে ব্যবহার করত। সে রফিকের গলায় ছুরি চালিয়ে দেয়। রফিকের চিৎকার করার আগেই সব শেষ। কিন্তু ঘরে তখনও ফাইজা জেগে ছিল। সে সব দেখে ফেলে। কুন্দরের মনে তখন কোনো দয়া ছিল না। সে ভাবে, এই মেয়েকে রেখে গেলে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাবে। সে ফাইজাকে কোলে তুলে নেয় আর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। তার মনে একটা অদ্ভুত চিন্তা—রফিক যেভাবে তার সব কেড়ে নিয়েছে, সেভাবে সে রফিকের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কেড়ে নেবে। ফাইজা তার কাছে হয়ে ওঠে প্রতিশোধের হাতিয়ার। এরপর কুন্দর পালিয়ে বেড়ায়। তার চেহারা বদলে যায়—দাড়ি রাখে, চোখে একটা ভয়ংকর ছায়া পড়ে। সে আর ব্যবসায়ী কুন্দর নয়। সে হয়ে ওঠে এক পলাতক খুনি। কিন্তু তার মধ্যে এখনো সেই পুরোনো হিসেবি মন কাজ করে। সে জানে কীভাবে লুকোতে হয়, কীভাবে মানুষকে ভয় দেখাতে হয়। ফাইজাকে সে নিজের মেয়ের মতো রাখে না—বরং তার কাছে রাখে একটা ঢাল হিসেবে। যাতে কেউ সন্দেহ না করে। কিন্তু তার মনের ভেতর প্রতিশোধের আগুন কখনো নিভে না। সে যেখানেই যায়, সেখানে তার অতীতের ছায়া তাকে তাড়া করে। আর সেই ছায়ার নাম—প্রতিশোধ।
Parent