নিষিদ্ধ বসন্ত - অধ্যায় ৩৮

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-73419-post-6203028.html#pid6203028

🕰️ Posted on May 7, 2026 by ✍️ Avi9695 (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1098 words / 5 min read

Parent
ক্যাম্পাস লাইফ আবার শুরু হয়েছে। কিন্তু এবার আর সেই পুরনো ছন্দে নয়। সকালে ক্লাসে বসে প্রফেসরের লেকচার শুনছিলাম। পেনটা হাতে নিয়ে নোট নিচ্ছিলাম। কাগজের উপর কালির দাগ পড়ছিল, কিন্তু আমার মাথার ভিতরে অন্য কথা ঘুরছিল। “ফারিনের সেই বৃষ্টির রাত… সাদিয়ার ভিডিও কল… মিলির নাইটির নরমতা…” এসব চিন্তা আসছিল, কিন্তু আমি জোর করে মাথা ঝেড়ে ফেলে লেকচারে মন দিচ্ছিলাম। ক্লাস শেষ হলে লাইব্রেরিতে গেলাম। টেবিলের এক কোণে বসে নোটস গুছাতে শুরু করলাম। পুরনো নোটগুলো খুলে নতুন করে সাজালাম। একটা অধ্যায় শেষ করে পরের অধ্যায়ে চলে গেলাম। কাগজের গন্ধ, বইয়ের পাতা ওলটানোর শব্দ — এগুলো আমাকে কিছুক্ষণের জন্য স্বাভাবিক করে তুলছিল। কিন্তু মাঝে মাঝে ফোনটা ভাইব্রেট করলে বুকটা কেঁপে উঠছিল। দুপুরে ক্যান্টিনে গিয়ে চা খেলাম। বন্ধুরা চারপাশে বসে গল্প করছিল। আমি হাসছিলাম, কথা বলছিলাম, কিন্তু মনে হচ্ছিল আমি দুটো জগতে বাস করছি। একটা জগতে আমি সেই সাধারণ ছাত্র রাহাত — যে নোটস করে, ক্লাস অ্যাটেন্ড করে, পরীক্ষার প্রিপারেশন নেয়। আরেকটা জগতে আমি সেই অন্য রাহাত — যে রাতের অন্ধকারে গোপন আকাঙ্ক্ষার আগুন জ্বালিয়ে রাখে। বিকেলে লাইব্রেরিতে ফিরে আবার নোটস নিলাম। একটা বড় অ্যাসাইনমেন্ট ছিল। কম্পিউটারে বসে টাইপ করতে করতে মনে হচ্ছিল — এই কাজগুলোই আমাকে স্বাভাবিক রাখছে। যদি এগুলো না থাকত, তাহলে হয়তো পুরোপুরি হারিয়ে যেতাম। রাতে হোস্টেলের ঘরে ফিরে বই খুলে বসলাম। পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আমি জোর করে চোখ খুলে রাখছিলাম। “আজ থেকে স্বাভাবিক থাকব,” নিজেকে বারবার বলছিলাম। কিন্তু মনের এক কোণে জানতাম — এই স্বাভাবিকতাটা শুধু একটা মাস্ক। পরের দিনগুলো এভাবেই কাটছিল। ক্লাস, লেকচার, নোটস, লাইব্রেরি, অ্যাসাইনমেন্ট। বাইরে থেকে দেখলে আমি সেই একই রাহাত। কিন্তু ভিতরে ভিতরে একটা অশান্তি চলছিল। পড়াশোনায় মন বসছিল, কিন্তু মাঝে মাঝে চিন্তাগুলো এসে পড়ছিল। তখন আমি আরও জোরে পেন চেপে ধরে নোটস লিখছিলাম। যেন এই কালির দাগগুলোই আমাকে স্বাভাবিক রাখতে পারে। দিনের বেলায় আমি ওদের সাথে ফ্রেন্ডলি সময় কাটাই। কখনো ক্যান্টিনে চা খেতে খেতে হাসাহাসি চলে। কখনো বটগাছের নিচে বসে গল্প করি। ফারিন তার বোল্ড হাসি নিয়ে সবাইকে জড়িয়ে রাখে। সাদিয়া চুপচাপ বসে থাকে, কিন্তু তার চোখে একটা নরম চাহনি থাকে। মিলি তার লেখার কথা বলে, কখনো কখনো তার নতুন লেখা পড়ে শোনায়। ফারিয়া আর ঐশীও থাকে — সবাই মিলে সাধারণ বন্ধুত্বের ছন্দে সময় কাটে। মাঝে মধ্যে গ্রুপ স্টাডি হয়। কখনো লাইব্রেরির এক কোণে, কখনো ক্যান্টিনের পাশের টেবিলে। আমরা ছয়জন বসে নোটস শেয়ার করি, অ্যাসাইনমেন্ট আলোচনা করি। ফারিন সবাইকে তাড়া দেয়, “এই অধ্যায়টা পড়ে ফেল, পরীক্ষায় আসবে!” সাদিয়া চুপচাপ নোটস দেখায়। মিলি তার লেখক মন নিয়ে কখনো কখনো বলে, “এই টপিকটা যদি গল্পের মতো লিখি কেমন হয়?” আমি হাসি, সবার সাথে কথা বলি, নোটস শেয়ার করি। বাইরে থেকে দেখলে আমরা শুধু একটা সাধারণ বন্ধুর গ্রুপ। কিন্তু আমার মনে সবসময় একটা ছোট্ট টানাপোড়েন চলে। যখন মিলি আমার পাশে বসে নোটস দেখায়, তার হাতটা আমার হাতের খুব কাছে এসে যায়। যখন সাদিয়া আমার দিকে তাকিয়ে হাসে, তার চোখে সেই কাল রাতের ছায়া থাকে। আমি জোর করে মনকে পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনি। নোটস লিখি, লেকচার শুনি, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিই। এই কয়েকটা দিন আমি নিজেকে বোঝাই — “আমি স্বাভাবিক থাকব। পড়াশোনা করব। বন্ধুত্বটা শুধু বন্ধুত্বই রাখব।” কিন্তু রাতে যখন একা হোস্টেলের ঘরে ফিরি, তখন সবকিছু আবার ভেসে ওঠে। তখন আমি বই খুলে বসি, যেন এই বইগুলোই আমাকে স্বাভাবিক রাখতে পারে। ক্যাম্পাস চলছে। ক্লাস চলছে। নোটস চলছে। গ্রুপ স্টাডি চলছে। আর আমি চলছি — দুটো জগতের মাঝখানে। আজ লাইব্রেরির দোতলার একটা নির্জন কোণে আমরা ছয়জন বসেছি। বড় টেবিলের চারপাশে চেয়ার টেনে নিয়ে বই খুলে বসা। ফারিন সবার সামনে বসে নোটস গুছিয়ে রাখছে। তার হাতের গতি দ্রুত, চোখে সেই চেনা লিডারের ভাব। সাদিয়া তার পাশে বসে চুপচাপ একটা অধ্যায় পড়ছে। মিলি আমার ডান পাশে, তার লম্বা চুলটা একপাশে সরিয়ে নোটবুকে কিছু লিখছে। ফারিয়া আর ঐশী উল্টোদিকে বসে আছে। আমি একটা বড় নোটবুক খুলে পেন নিয়ে বসেছি। আজকের টপিক ছিল “Organizational Behavior”। প্রফেসর যে অধ্যায়টা দিয়েছেন, সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছিলাম। ফারিন প্রথমে শুরু করল, “দেখ, এই Motivation Theory-টা খুব ইম্পর্ট্যান্ট। Maslow’s Hierarchy of Needs-এর পর Herzberg’s Two-Factor Theory আসে। রাহাত, তুই কী ভাবিস?” আমি মাথা তুলে বললাম, “আমি মনে করি Herzberg-এর Hygiene Factor আর Motivator Factor-এর মধ্যে পার্থক্যটা খুব স্পষ্ট। ক্যাম্পাস লাইফে দেখ, স্যালারি বা সিকিউরিটি না থাকলে কেউ পড়তে আসবে না। কিন্তু আসল মোটিভেশন আসে যখন কেউ নিজের কাজে অর্থ খুঁজে পায়।” মিলি আমার কথা শুনে মাথা নেড়ে বলল, “ঠিক বলেছিস। আমি যখন লিখি, তখন টাকা বা গ্রেডের জন্য লিখি না। লেখার মধ্যে একটা আনন্দ পাই। সেটাই আমার Motivator।” সাদিয়া চুপচাপ শুনছিল। তারপর আস্তে করে বলল, “আমার কাছে এটা অন্যরকম। আমি যখন পড়ি, তখন মনে হয় এটা আমার একমাত্র নিরাপদ জায়গা। বাইরের সব ঝামেলা ভুলে যাই।” আমরা সবাই একসাথে আলোচনা করছিলাম। কখনো ফারিন কোনো পয়েন্ট লিখে দিচ্ছে, কখনো মিলি তার লেখক মন নিয়ে উদাহরণ দিচ্ছে। আমি নোটস নিচ্ছিলাম। মাঝে মাঝে সাদিয়া আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। ফারিয়া আর ঐশীও মাঝে মাঝে কথা বলছে। টেবিলের উপর বই, নোটস, হাইলাইটার আর কফির কাপ ছড়িয়ে আছে। কখনো কখনো কেউ হাসছে, কেউ চুপ করে শুনছে। আমি মাঝে মাঝে তাদের দিকে তাকাই। ফারিনের উজ্জ্বল চোখ, সাদিয়ার নরম চাহনি, মিলির লাজুক হাসি — সবকিছু দেখে মনে হয় আমরা সত্যিই শুধু বন্ধু। কিন্তু আমার মনের এক কোণে জানি, এই স্বাভাবিকতার নিচে আরেকটা গল্প চলছে। গ্রুপ স্টাডি শেষ হওয়ার পর আমরা সবাই উঠলাম। ফারিন বলল, “কাল আবার একই সময়ে। এবার আরও ভালো করে প্রিপেয়ার করব।” ক্লাসের দিনগুলো এখন আমার কাছে একটা নিয়মিত ছন্দ হয়ে গেছে। সকাল নয়টায় ক্লাস শুরু হয়। আমি সাধারণত পাঁচ-দশ মিনিট আগে পৌঁছে যাই। আজও তাই। ক্লাসরুমে ঢুকে দেখি বেশিরভাগ সিট খালি। আমি পিছনের দিকের একটা সারিতে বসলাম। জানালা দিয়ে সকালের নরম আলো এসে পড়ছে। কয়েক মিনিট পর প্রফেসর স্যার ঢুকলেন। তিনি মধ্যবয়সী, চশমা পরা, সবসময় একটা ফাইল নিয়ে আসেন। আজকের টপিক ছিল “Organizational Behavior” এর অংশ — “Motivation and Leadership”। স্যার ব্ল্যাকবোর্ডে লিখলেন: Maslow’s Hierarchy of Needs → Herzberg’s Two-Factor Theory → Expectancy Theory তারপর শুরু করলেন লেকচার। তাঁর গলা স্পষ্ট, ধীর, কিন্তু খুব গভীর। “আজ আমরা দেখব, একজন কর্মচারী কেন কাজ করে। শুধু টাকার জন্য? নাকি আরও কিছু? Maslow বলেছেন, মানুষের চাহিদা পাঁচটা স্তরে বিভক্ত। নিচের স্তর পূরণ না হলে উপরের স্তরে যাওয়া যায় না। কিন্তু Herzberg বলেন, শুধু চাহিদা পূরণ করলেই চলবে না। কিছু জিনিস আছে যা শুধু অসন্তুষ্টি দূর করে (Hygiene Factors), আর কিছু জিনিস আছে যা আসল মোটিভেশন দেয় (Motivators)।” আমি পেন নিয়ে নোটস লিখতে লাগলাম। কাগজের উপর কালির দাগ পড়ছে। স্যারের প্রতিটা কথা মাথায় গেঁথে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। মাঝে মাঝে চোখ তুলে দেখছিলাম — ক্লাসের অন্য ছেলেমেয়েরা কেউ কেউ মনোযোগ দিয়ে শুনছে, কেউ কেউ ফোন দেখছে। স্যার আবার বললেন, “এখন আসুন Expectancy Theory-তে। Vroom বলেছেন, মানুষ তখনই কাজ করে যখন সে বিশ্বাস করে — তার পরিশ্রমের ফল সে পাবে, আর সেই ফল তার কাছে মূল্যবান। এটা ক্যাম্পাস লাইফেও প্রযোজ্য। তোমরা পড়ছ কেন? শুধু গ্রেডের জন্য? নাকি নিজের ভবিষ্যতের জন্য?” আমি নোটস লিখতে লিখতে মনে মনে হাসলাম। এই প্রশ্নটা আমার কাছে আজ অনেক বড় হয়ে গেছে। আমি পড়ছি কেন? ভবিষ্যতের জন্য? নাকি এই পড়াশোনাটাই আমার একমাত্র স্বাভাবিক জায়গা, যেখানে আমি নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারি?
Parent