নিষিদ্ধ বসন্ত - অধ্যায় ৫

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-73419-post-6191282.html#pid6191282

🕰️ Posted on April 22, 2026 by ✍️ Avi9695 (Profile)

🏷️ Tags:
📖 545 words / 2 min read

Parent
ফারিয়া — জলের নিচের নীরব স্রোত ফারিয়াকে দেখলে প্রথমে মনে হয় সে যেন একটা শান্ত, গভীর পুকুর। গাঢ় শ্যামলা রং, ঢেউ খেলানো লম্বা চুল যা কাঁধ ছাড়িয়ে পিঠে ছড়িয়ে পড়ে, আর চোখ দুটো এত গভীর যে তাকালে মনে হয় কোনো অদৃশ্য স্রোত টেনে নিচ্ছে। সে কথা কম বলত, কিন্তু যখন বলত, তার কথাগুলো যেন পানির নিচ থেকে উঠে আসা পাথরের মতো স্পষ্ট আর ভারী হয়ে পড়ত।  তার শরীরটা ছিল স্লিম, কামিজের উপর দিয়ে বুকের সাইজ খুব একটা বুঝা যায় না। কিন্তু তার চলাফেরায় একটা স্বাভাবিক ভারসাম্য ছিল — যেন সে সবসময় নিজেকে সামলে চলছে। কিন্তু তাও নিতম্বের দুলদলানি চোখ এড়ায় না। এটা মনে হয় সেলওয়ার পড়লে যেকোনো মেয়েরই এভাবে দোলে। নাকি ওর নিতম্ব একটু বেশি নড়াচড়া করে জানিনা। পাশের লেকের ঢেউয়ের সাথে যেন তাল মিলিয়ে দুলছে নিতম্বটা।  ফারিয়া হোস্টেলে থাকত, কিন্তু তার মনটা সবসময় বাড়ির দিকে থাকত। তার বাবা সরকারি চাকরি করতেন, মা একটা ছোট প্রাইভেট কলেজে শিক্ষকতা করতেন। বাড়িতে ছোট ভাই আর বোন ছিল। বাড়িটা ছিল মিরপুরের একটা সাধারণ ফ্ল্যাট — ছোট, কিন্তু সবসময় গমগম করত। সকালে বাবা-মা দুজনেই বেরিয়ে যেতেন, ভাই-বোন কলেজে যেত, আর ফারিয়া হোস্টেল থেকে ফোন করে তাদের খোঁজ নিত। সে বলত না যে সে নিজেকে একা অনুভব করে। সে শুধু হাসত, বই পড়ত, আর ছোট ছোট ডায়েরিতে লিখত। তার লেখাগুলো ছিল তার নিজের জন্য — কোনো কবিতা, কোনো ছোট গল্প, কখনো কখনো শুধু একটা লাইন যা কেউ পড়েনি। ফারিয়ার সাথে আমার বন্ধুত্বটা একটু গভীর  হয়েছিল লেকের ধারে এক সন্ধ্যায়। সে একদিন হঠাৎ করে বলল, “রাহাত, একটু হাঁটবি?” সেদিন বাকিরা কেউ কেউ চলে গিয়েছিল কেউ কেউ আসে নি। আমরা লেকের পাড় ধরে হাঁটছিলাম। সে প্রথমে কিছু বলেনি। শুধু হাঁটছিল। তারপর আস্তে আস্তে বলল যে তার ভাইয়ের পড়াশোনায় একটু সমস্যা হচ্ছে। সে নিজেই কলেজের ফর্ম জমা দিতে যাচ্ছিল। তার কথায় কোনো অভিযোগ ছিল না। সে শুধু বলল যে বাড়িতে সবাই খুব খুশি, কিন্তু সে নিজের ভিতরে কিছু চেপে রাখে। সে সবসময় সবাইকে খুশি দেখতে চায়, কিন্তু নিজের মনের কিছু অংশ সে কাউকে দেখায় না। সেই সন্ধ্যায় সে তার পরিবারের কথা আরও খুলে বলল। বাবা সকালে বেরিয়ে যান, মা কলেজ থেকে ফিরে রান্না করেন, ভাই-বোন খেলে বেড়ায়। বাড়িতে হাসি-ঠাট্টা লেগেই থাকে। কিন্তু ফারিয়া বলল, “সবাই যখন হাসে, তখন আমি মনে মনে ভাবি —আমি কি কোনো ভাবে আমার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হিয়ে যাচ্ছি৷ আমাকে অত বেশি মনে করেনা আব্বু আম্মু যতটা ভাই-বোনদের করে। আমি কি দূরে থাকলেই ভাল? এতে কি সবাইকে খুশি রাখা যাবে?” তার কথায় কোনো দুঃখ ছিল না। শুধু একটা গভীর, শান্ত চিন্তা ছিল। সে তার লেখার কথা বলল। সে ছোট ছোট ডায়েরিতে লিখে রাখে তার মনের কথা। কখনো কখনো সে আমাকে বলত, “আমার লেখা পড়বি?” আমি পড়তাম। তার লেখায় একটা নীরব গভীরতা ছিল — যেন সে পানির নিচে লুকিয়ে থাকা স্রোতের কথা লিখছে। ফারিয়ার সাথে বন্ধুত্বটা ছিল খুব শান্ত, কিন্তু সেই শান্তির নিচে একটা গভীর স্রোত বয়ে চলছিল। ও যেমন শান্ত ওর শরীরটাও সেরকম। মনে হত এই শান্ত শরীরে একটু নাড়া দিলেই সব অশান্ত করে দিবে যেভাবে ঝড় আসলে শান্ত পরিবেশ কে নাড়িয়ে দেয়।  সে তার ছোট ছোট প্রয়োজনে আমাকে সাথে নিয়ে যেত। কখনো ভাইয়ের বই কিনতে, কখনো লেকের ধারে হাঁটতে। সে কখনো বলত না যে সে আমাকে বিশ্বাস করে। সে শুধু পাশে হাঁটত, আর তার চুপচাপ উপস্থিতিটাই বলে দিত যে সে আমার সাথে নিজেকে একটু একটু করে খুলে দিচ্ছে। ফারিয়া ছিল সেই মেয়ে যার মধ্যে পুরো একটা নীরব আকাশ লুকিয়ে ছিল। আর সেই আকাশটা ধীরে ধীরে আমার দিকে খুলে যাচ্ছিল।
Parent