নিয়োগ বিয়োগ (পর্ব - ১৫) - অধ্যায় ১৫

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-70321-post-6107345.html#pid6107345

🕰️ Posted on December 27, 2025 by ✍️ prshma (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1028 words / 5 min read

Parent
পর্ব ১৫   শরীর কিছুটা ভালো বোধ করায় বিমলেশ বলে ওঠে, “অনুপমা ………… হ্যাঁ হ্যাঁ অনুপমা।“   বিমলেশের মুখে অনুপমা নাম শুনে সেই ঘরে উপস্থিত প্রত্যেকেই আশ্চর্যচকিত হয়ে ওঠে। বেশ কিছুক্ষণ নীরবতার পর শেষমেশ সুনীল সেনই সেই নীরবতা ভেঙে বিমলেশকে প্রশ্ন করেন, “অনুপমা ? কে অনুপমা ? তোর চেনা কেউ নাকি ? অনুপমা বলে কারুর কথা তো আমার মনে পড়ছে না।“   “সুনীল কাকু হ্যাঁ হ্যাঁ অনুপমা, আমি একশো শতাংশ নিশ্চিত যে সেটা অনুপমাই ছিল। কিন্তু তা কি করে সম্ভব ?”   “কি বলছিস ? তোর কথার কোন মানেই আমি বের করতে পারছি না। কি হয়েছিল আর ঠিক কি বা কাকে দেখেছিলি একটু পরিষ্কার করে বলতো আমাদের।“   “সুনীল কাকু তোমার আমার বন্ধু অমরেশকে মনে আছে ?”   “হ্যাঁ বিলক্ষণ আছে, তোর প্রাণের বন্ধু।“   “তোমার ওর বউয়ের কথা মনে আছে ? তুমি তো ওর বৌভাতে আমন্ত্রিত ছিলে।“   “হ্যাঁ হ্যাঁ গেছিলাম তো, মনে আছে আমার, তবে বৌমার নামটা আমার আর ঠিক মনে নেই। তবে ওর কথা মনে পড়লে মনটা কষ্টে ভরে ওঠে। মেয়েটা এক্সিডেন্টে পড়ে বেঘোরে প্রাণটা খোয়াল। করুন ভবিতব্য।“ বলে একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়লেন সুনীল সেন।   “ওর নাম ছিল অনুপমা”।   “ম ম ……… মানে ? কি উল্টোপাল্টা বকছিস তুই ? ও তো মারা গেছে এক বছর হয়ে গেছে বলে জানি।“   “কিন্তু কাল রাতে নদীর পাড়ে আমি ওকেই দেখেছি ……………… আমি নিশ্চিত এই ব্যপারে।“   “ধুত, অসম্ভব হতেই পারেনা। একে তো নদীর পাড় তার ওপর রাতের বেলা। আবার কাল অমাবস্যাও ছিল। আলো আঁধারিতে কি দেখতে গিয়ে কি দেখেছিস কে জানে। আসলে এই কদিন ধরে তোর ওপর দিয়ে অনেকটা ধকল গেছে তাই হয়তো কিছু hallucinate করেছিস। আজকের দিনটা কোন কাজ না করে একটু শুয়ে বিশ্রাম নে দেখবি মাথা আর মন দুটোই হালকা হয়ে যাবে।“   “আমার কথা বিশ্বাস করছ না কেন বলতো।“   ইউনিয়নের নেতা দীপক গুরুং এবার বললেন, “আচ্ছা সাব আপনি যাকে দেখেছেন তার চেহারা কেমন ছিল কিছু মনে আছে আপনার ?”   “হ্যাঁ পুরোই মনে আছে, অনুপমার সাথে এতবার দেখা হয়েছে আমার আর যার সাথে বহুবার দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে তার চেহারা মনে থাকবে না ?” এই কথা বলতে বলতেই বিমলেশের মনে পড়ে যে ওর মোবাইল ফোনেই তো বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তোলা ওদের চারজনের মানে বিমলেশ, মাধুরিলতা, অমরেশ ও অনুপমার বেশ কিছু ছবি আছে। ঠিক সেরকমই একটা ছবি ফোনের গ্যালারিতে সার্চ করে নিজের ফোনের স্ক্রিনে বড় করে দীপক গুরুং, সুনীল সেন ও সেই সময় সেই ঘরে উপস্থিত সবাইকে দেখাল বিমলেশ।   আর সেই ছবি দেখানো মাত্রই একটি জোর গলার আওয়াজ পাওয়া গেল। “আমি একে চিনি মালিক।“   এই শুনে ঘরের মধ্যে যেন একটি ছোটখাটো ভুমিকম্প হয়ে গেল। বিমলেশ এক ঝাঁপ মেরে বিছানা থেকে নেমে জিজ্ঞেস করল, “কে ? কে চেনো একে ? কে বললে ?”   জানা গেল তারই বাগানের একজন দারোয়ান অনুপমার ছবি দেখে তাকে চিনতে পেড়েছে। বিমলেশ উদগ্রীব হয়ে তাকে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকে অনুপমা সম্পর্কে। তাকে নানা রকম প্রশ্ন করার পর জানা যায় যে এই মেয়েটির যার ছবি তার মালিক বিমলেশ তাদেরকে দেখিয়েছে সেই মেয়েটির নাম ঝিমলি ও সে তাদের বাগানেরই এক মহিলা কর্মচারী লছমির সাথে থাকে। সে তাকে চেনে কারণ তারা একই কর্মচারীদের আবাসনের বাসিন্দা।   এই তথ্য পাওয়া মাত্রই বিমলেশ বাগানের ম্যানেজার রমেনকে নির্দেশ দেয় ঠিক এক ঘণ্টা পরে বাগানের অফিসে যেন এই লছমিকে একবার আসতে বলা হয় ও তার সাথে সেই সময় যেন সেও সেখানে উপস্থিত থাকে। সুনীল সেন ও দীপক গুরুংকেও বিমলেশ সেই সময় তার সাথে থাকার অনুরোধ করে।   বিমলেশের নির্দেশ মত ঠিক এক ঘণ্টা পরে লছমিকে সাথে নিয়ে তাদের চা বাগানের অফিসে বিমলেশের ঘরে উপস্থিত হন ম্যানেজার রমেন রায়। সেই মুহূর্তে ঘরে উপস্থিত আরও তিন জন ব্যক্তি, বিমলেশ মিত্র, সুনীল সেন ও দীপক গুরুং। এই লছমি ছিল বাগানের এক বেশ পুরানো কর্মচারী, বয়স ষাট ছুঁইছুঁই। বাগানের এতজন শীর্ষকর্তাদের একসাথে দেখে কিছুটা ভয়ে কুঁকড়ে যায় লছমি। মনে নানারকম দুশ্চিন্তা গ্রাস করে। বিমলেশের বিচক্ষণ চোখে লছমির আড়ষ্ট ভাবটা ধড়া পরে অতি সহজেই। তাই তার আড়ষ্টতা ও দুশ্চিন্তা কাটানোর উদ্দেশ্যে তাকে লক্ষ্য করে বিমলেশ বলে, “আসুন আসুন লছমিজি।“ ও নিজের সামনে রাখা একটি খালি চেয়ার দেখিয়ে তাকে বসতে অনুরোধ করে।   লছমিকে সহজ করে তোলার উদ্দেশ্যে তার সাথে তার কাজ নিয়ে নানান এদিক সেদিকের কথা বলার পর বিমলেশ চোখের ইশারায় রমেনকে অনুপমা সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে বলে। রমেন তাকে প্রশ্ন করে ও জানতে পারে যে সত্যিই লছমির সাথে ঝিমলি নামে একজন থাকে। রমেন প্রথম দিকে কিছু প্রশ্ন করার পর বিমলেশ লছমিকে নিজের মোবাইল ফোনে থাকা অনুপমার ছবি দেখায় ও ঝিমলি সম্বন্ধে অনুসন্ধান শুরু করে।   বিমলেশ লছমির কাছে জানতে চায় যে ঝিমলি তার কাছে কতদিন ধরে আছে। উত্তরে লছমি জানায়, “সাব, আমরা তো মাঝে মাঝে জঙ্গলে শুকনো কাঠ আনতে যাই তো সেরকমই প্রায় বছরখানেক আগে একবার জঙ্গল থেকে কাঠ আনতে গিয়ে আমি ওকে প্রথম দেখতে পাই। মেয়েটা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ভ্রান্তের মত এদিক সেদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। আমিই ওকে আমার সাথে করে আমার ঘরে নিয়ে আসি। প্রথমে ভেবেছিলাম প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে ওকে রেখে দিয়ে চলে আসব কিন্তু পরে মেয়েটার করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে ওকে আর ছাড়তে পারিনি। বার বার মাথায় এসেছে আমি যদি ওকে এই অবস্থায় একা ছেড়ে দি তাহলে জঙ্গলের শেয়াল কুকুরদের খপ্পর থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও মানুষরূপী শেয়াল কুকুরগুলো ওকে ছিঁড়ে খাবে।“   “আপনি সত্যিই মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন লছমিজি।“ বলে বিমলেশ রমেনকে নির্দেশ দেয় “রমেন তুমি এই মাস থেকে লছমিজির মায়না দিগুন করে দাও।“    সুনীল কাকুর উদ্দেশ্যে সে বলে, “শুনলে লছমিজি কি বললেন ?  এক বছর আগে উনি ঝিমলিকে পেয়েছিলেন সিকিমের এই অঞ্চলের জঙ্গলে আর সেই এক বছর আগেই অনুপমা ও তার বাবা মা এই সিকিমের জঙ্গলেই এক্সিডেন্টে প্রাণ হারান, অঙ্ক কিন্তু অনেকটাই মিলে যাচ্ছে।“   বিমলেশ আবার লছমির কাছে জানতে চায়, “আচ্ছা লছমিজি, ঝিমলি আপনাকে নিজের সম্পর্কে, নিজের পরিবার, বন্ধুবান্ধব সম্পর্কে কিছু বলে না ?“   “না সাব, বিশেষ কিছুই বলেনা। প্রথম প্রথম তো কিছুই বলতো না তবে ইদানীং দুই একটা কথা হঠাৎ হঠাৎ করে বলে ওঠে। যেমন এখন বলে যে ওর বাড়ি কলকাতায় কিন্তু কলকাতার কোথায় তা বলতে পারেনা, নিজের নাম বা বাবা মায়ের নামও কিছুই বলতে পারেনা, আসলে মেয়েটার সাথে নিশ্চয়ই খুবই খারাপ কিছু একটা ঘটেছে যার কারণে ওর পুরানো কথা হয়তো ঠিকমত মনে পড়েনা।“   বাড়ি কলকাতায় কথাটা শুনেই বিমলেশ আরও উৎসাহিত হয়ে লছমিকে অনুরোধ করে একটু ভালো করে মন দিয়ে ভেবে জানাতে যে, “ঝিমলি কি আর কখনও কোন কথা বলেছে নিজের বা নিজের কোন পরিচিত মানুষের সম্পর্কে ?”   বেশ কিছুক্ষণ ভাবার পর লছমি বিমলেশকে জানায় যে, “হ্যাঁ, আর একবার ও আরেকজনের কথা বলেছিল।“   “কে সে ? কার কথা বলেছিল ঝিমলি ?” উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে প্রশ্ন করে বিমলেশ।   “আরেকটা মেয়ের নাম বলেছিল একবার, মেয়েটাকে নাকি ও নিজের বোনের মতন ভালোবাসে, কি যেন নামটা বলেছিল মেয়েটার …………………… কি যেন ছিল ……………………… লতা …………… লতা …………………… হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়েছে ‘মাধুরিলতা’।   (ক্রমশ)
Parent