পদ্ম নাগের বিষ - অধ্যায় ১০

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-58620-post-5406785.html#pid5406785

🕰️ Posted on November 9, 2023 by ✍️ Henry (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1676 words / 8 min read

Parent
পিকলু হাঁক দিল--- মা তোমার ফোন। রমা স্নানে ঢুকেছিল। এই তো কদিন আগে ভারী বৃষ্টি না যেতে যেতেই আবার তীব্র রোদ। বৈশাখ মাস আসার আগেই এই বৃষ্টি দেখে পীযুষ বলেছিল অকাল বৃষ্টি। এ বৃষ্টিতে কোনো লাভ হবে না। ঠিক তাই। কি তাপ কি তাপ! এখনো তো দিন দশেক বাকি বৈশাখের। এর মধ্যেই এত গরম। যেন গা পুড়ে যায়। সারাদিন এসি চলে ঘরের ভিতর। কিন্তু রান্না ঘরে তো উপায় নেই। শাওয়ার বন্ধ করে রমা সাড়া দিল----কার ফোন? ----স্কুল থেকে মনে হয়। স্কুল থেকে বলতেই মনে পড়ল পিকলুর। সঙ্গে সঙ্গে বললে---- এই রে! ভুলে গেছি। নোটিস দিয়েছিল স্কুলে, যাঃ। বাথরুম থেকেই বিরক্তি প্রকাশ করে রমা বলল----ফোনটা ধর। পিকলু একরাশ টেনশনে বিব্রত হয়ে বলল---যদি প্রিন্সিপ্যাল স্যার হয়। ----ভুল করলে তো বকা খেতেই হবে। রমা ভেজা গায়েই সায়ার উপর বুকে তোয়ালেটা চাপিয়ে বেরিয়ে এলো। কটমট করে তাকালো ছেলের দিকে। ফোনটা ধরতেই স্কুল অফিস থেকে জানালো আজ পেরেন্ট-টিচার মিটিংয়ের কথা। পিকলুর স্কুলের আজ ফাউন্ডেশন ডে। এজন্য ছুটি বলেই পিকলু ঘরে। আজই পেরেন্ট-টিচার মিটিং। উটকো ঝামেলা এসে জুটলো রমার ঘাড়ে। এমনিতে তীব্র গরম। বাইরে চোখ ঝলসে যাওয়া রোদ। যদিও সময়টা বিকেল চারটা দিয়েছে, তবু কোনো মতে রমার ইচ্ছে করছে না আজ বেরোতে। একবার ভেবেছিল পিকলুর বাবাকে বলবে। চারটের দিকে যখন, কলেজ থেকে যদি সময় বার করতে পারে। পীযুষ কখনোই ছেলের স্কুলের এসব উটকো ঝামেলায় ঢোকে না। রমাকে করতে হয়। ফোন করে কোনো লাভ হবে না। ফাঁকা থাকলেও পীযুষ নির্ঘাত একটা বাহানা করবে। অগত্যা রমাকেই যেতে হবে। চাঁপা ঢুকতেই সে জানালা দিয়ে দেখলো রোদের তীব্রতা এখনো আছে। এখন তিনটে বাজে। পিকলুর স্কুলটা বালিগঞ্জে। আধ ঘন্টা তো লাগবেই। পাঁচটার দিকে পীযুষ এসে যাবে। তাই বেরোনোর আগে চাঁপাকে বলল---তোর দাদা এলে চা দিস। আর পিকলুর তবলা স্যার আসবে। ওনাকে চা জলখাবার দিস। ভুলে যাসনা যেন। চাঁপা মাথা নাড়লো। একবার মুগ্ধতার চোখে তাকালো রমার দিকে। রমা একটা হ্যান্ডব্লক প্রিন্টেড হালকা সিল্কের শাড়ি পরেছে। খুব একটা গরম হয় না এতে। শাড়িটার রঙ কমলা। ওর ফর্সা গায়ে ঠিক যেন বিচ্ছুরিত সূর্যাস্তের আভা। চাঁপার চোখে মুগ্ধতা ধরা পড়ল। মোহিত হয়ে দেখতে লাগলো তার মালকিনের দীর্ঘ চুলের খোঁপা, টকটকে ফর্সা গায়ের রঙ, মসৃন ত্বক। অথচ চাঁপা কখনো রমাকে সাবান শ্যাম্পু ব্যাতিত ত্বক বা চুলের বিশেষ যত্ন নিতে দেখেনি। চাঁপা বুঝতে পারে এটা বৌদির জন্মগত। এর আগে মুখুজ্জেদের বাড়িতে কাজ করেছে সে, মুখুজ্জে বাড়ির মালকিন রমার চেয়ে বয়স কম, দেখতে শুনতেও ভালো। চোখে শসা দিয়ে কিসব ক্রিম মেখে বসে থাকে। নিয়ম করে পার্লার যায়। অথচ রমার সে সবের বালাই নেই। মুখুজ্জে গিন্নির সেই উগ্র রূপ ভালো লাগেনি চাঁপার। রমা বৌদির মধ্যে একটা আলাদা শ্রী আছে, যেটা আশ্চর্য্যজনক কিছু নয়, কিন্তু সবার চেয়ে আলাদা। চাঁপাকে অনেকক্ষন ধরে তাকিয়ে থাকতে দেখে রমা বললে----একটু কুঁচিটা ধরে দিবি চাঁপা। চাঁপার অবশ্য ভাবনার ছেদ পড়েনি। রমার শাড়ির কুঁচি ধরেও সে তখন ভাবছে বৌদি তার চেয়ে বারো বছরের বড়। পাশাপাশি হাঁটলে বয়সের ফারাক বোঝা যায়। তবু লোকে মুগ্ধ হয়ে বৌদিকেই দেখবে। বৌদি চাইলে এখনো দিব্যি দাদাকে লুকিয়ে একটা প্রেম করতে পারে। পরক্ষনে ভাবলো, ধ্যাৎ বৌদিকে নিয়ে সে কিসব আবোল তাবোল ভাবছে। তার এই বৌদিটি যে তেমন নয় সে বিলক্ষণ জানে। তাছাড়া দাদাও কম কিসের, এখন না হয় বয়স বাড়ছে বলে, সামনে চুলে পাক ধরেছে সামান্য ক'টা। কিন্তু এখনো তো দাদাকে বেশ লাগে। বৌদির সাথে খাসা মানায়। দাঁতে নখ কেটে থু করল চাঁপা। মনে মনে বলল নজর না পড়ুক কারো এমন লক্ষী-নারায়ণের সংসারে। রমা শাড়িটা পিন করে বলল---চাঁপারে দেখনা লক্ষীটি, আমার হাত ঘড়িটা কোথায়। সকলের জিনিস টিকটিক করে গুছিয়ে রাখে রমা। নিজের বেলা অযত্ন। আসলে এই হাতঘড়িটা রমা বাইরে বেরোলেই কেবল পরে। এটা ওর কলেজ জীবন থেকেই সেই একই রকম আছে। ওর বাবার স্মৃতি। কলেজে পড়তে এলে বাবা কিনে দিয়েছিল ওকে। কাছাকাছি বাজার করতে বা কেনাকাটা করতে হাতঘড়ি লাগে না। পীযুষ সঙ্গে থাকলেও নয়। কিন্তু খুব দরকারী কোনো কাজ, যেখানে সময় নির্দিষ্ট আছে, সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে হবে, তখন হাত ঘড়িটার প্রয়োজন আছে। তাই যে এটার কোথায় স্থান হয় সে আর মনে থাকে না। রমা বেরোতেই চাঁপার মনে পড়ল সে যে আজ বৌদিকে উত্তমের বিষয়ে বলবে ভেবেছিল! বৌদি ফিরতে ফিরতে সন্ধে হবে। তখন দাদা থাকবে। তখন সে সব বলতে তার লজ্জা করবে। এ তার জীবনের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। একটা স্বচ্ছন্দ সময় চাই। তারচেয়ে পরে একদিন না হয় সময় ও সুযোগে বলা যাবে। যশোর রোড থেকেই ট্যাক্সি নেবে ঠিক করেছিল রমা। একটাও ট্যাক্সির দেখা নেই। দুটো বাস গেল, যারা বালিগঞ্জ হয়ে যাবে। কিন্তু বাসগুলোতে বেশ ভিড়। এসময় আবার স্কুল-কলেজ অফিস ফেরতের সময়। হঠাৎ করে একটা কালো রঙের সেডান গাড়ি এসে দাঁড়ালো পাশে। জানালার কাচ নামিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসা অনিমেষ রায় বললে----বৌদি, যাচ্ছেন কোথায়? চমকে উঠল রমা। বলল---ছেলের স্কুলে যাচ্ছি, ভাই। 'ভাই' শব্দটা ইচ্ছে করেই বলল রমা। তাছাড়া ভাবলো ভাই বলবে না তো কি বলবে। বয়সে তো রমার চেয়ে ছোট হবে চার পাঁচ বছরের। অনিমেষ বললে---স্কুলটা কোথায়? ----বালিগঞ্জ সাউথ পয়েন্ট। ----ওঃ ভালোই তো হল। আমি তো ওদিকেই যাচ্ছি। চলে আসুন। স্মার্টলি জানালো অনিমেষ। রমা অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে গেল। এখন তো সরাসরি না বলাটা ছোটলোকের মত আচরণ হবে। গাড়ির দরজাটা খুলে দিল অনিমেষ। রমা ভাবলো অনেকবারই তো হয়েছে পীযুষের বন্ধু বিপ্লবের স্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেছে রমা, বিপ্লব ওর গাড়িতে রমাকে বাড়ি ছেড়ে দিয়ে এসেছে। তবে যদিও বিপ্লবের ব্যাপারটা আলাদা। বিপ্লব পীযুষের দীর্ঘদিনের বন্ধু। ওদের পরিবারের সাথেও দীর্ঘ সময়ের সম্পর্ক। সেক্ষেত্রে অনিমেষ রায় তো আর রমাদের পরিবারের সাথে এত সুপরিচিত নয়। এই যা প্রতিবেশীটুকু। তাছাড়া এই স্বল্প বয়সী ছেলেটার বদনাম আছে। মহিলাদের প্রতি অনিমেষের দুর্বলতা টুকটাক শোনা যায়। সেদিনই রমার বাড়ি এসে কেমন গায়ে পড়ে অযাচিত কিছু অপ্রাসঙ্গিক কথা বলছিল। রমার সামান্যক্ষণ থমকে থাকায় অনিমেষ বিব্রত বোধ করল কিনা বোঝা গেল না। ও বলল--কি হল, বৌদি? আড়ষ্ঠতা বোধ করছেন? রমা উঠে বসল গাড়িতে। বললে---কেন ভাই আড়ষ্ঠতা কিসের। তোমাকে তো প্রথম দেখছি না। রমাকে বসতে হল অনিমেষের ড্রাইভিং সিটের পাশে। ভেতরে এসি চলছে। মৃদু শব্দে গান বাজছে, কিছু একটা ইংরেজী গান। বেজায় শুনতে খারাপ। রমাই বলল প্রথম----তুমি যাচ্ছ কোথায়? ----বালিগঞ্জ পেরিয়ে অ্যাক্রোপলিসের দিকে। ওখানে আমার একটা ফ্ল্যাট কেনার কথা আছে। ওটাই দেখতে যাচ্ছি। ---কেন লেক টাউনের বাড়িটা কি বেচে দিচ্ছ? ----না না। বেচব কেন? কলকাতা শহরে সবকিছুর যা দাম বাড়ছে, তাতে দু একটা ফ্ল্যাট কিনে রাখা ভালো। পীযুষ দা'কে বলে একটা কিনে রাখুন। ঠিকঠাক দামে পাইয়ে দিব। রমা চুপ করে রইল। মনে মনে ভাবল ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। সুযোগ পেলেই অনিমেষ রায়ের মতো প্রোমোটাররা জমি বাড়ির কথা শোনায়। সিগনালের কাছে দাঁড়িয়ে গেল গাড়িটা। বিরক্তির ছাপ দেখা গেল অনিমেষের মুখে। অনিমেষের গায়ের রঙ ফর্সারই দিকে। পীযুষেরই মত। তবে সিনেমার হিরোদের মত একটা চেহারা আছে। খুব লম্বা চওড়া নয়, আবার জিম করা পেশীবহুলও নয়। বরং ছিমছাম চেহারার একটা ছেলে। বয়সটা পঁয়ত্রিশের দিকে, তাই রমা ওকে লোক না বলে ছেলে হিসেবে ভাবাই পছন্দ করে। ডেনিম জিন্স আর কলার লেস নেভি ব্লু শার্ট পরেছে। হাতে একটা গোল্ডেন ব্রেসলেট, মাথায় চুলের ওপরে কালো রোদ চশমা তোলা। সবুজ আলো জ্বলতেই অনিমেষ বলল---বৌদি কি বাড়িতে নিজে রান্না বান্না করেই পীযুষ দা'কে খাওয়ান। ---কেন করব না ভাই? বিয়ে করো তোমারও বউ রান্না করে খাওয়াবে। অনিমেষ শব্দ করে হাসলো। বলল---তা ঠিক। কথায় আছে যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। আর বৌদির তো এমনিতেই চুলের বাহার খুব সুন্দর। রান্না নিশ্চই খুব সুন্দর হবে। কবে খাওয়াচ্ছেন বলুন। মৃদু হাসলো রমা। বললে-----একদিন তুমি সঙ্গে করে বউ নিয়েসো। দুজনকে একসাথে খাওয়াবো। ---বিয়েটা একটা বার্ডেন বুঝলেন বৌদি। এই বার্ডেন নেওয়াটা আমার পক্ষে কঠিন কাজ। ----বার্ডেন যে সেটা তুমি কি করে বুঝলে? বিয়েটা করো। তবে দেখো সব ঠিক সুন্দর হয়ে গেছে। তোমার পীযুষ দাকে দেখে কিছু শেখো। ---পীযুষ দা'র মত কি সবাই সৌভাগ্যবান হয় বৌদি। যার সুন্দর একটি বউ আছে। প্রতিদিন ভালো রেঁধে খাওয়ায়। অনিমেষ রায়ের এই গায়ে পড়া বিষয়টাই বড্ড বিচ্ছিরি লাগে রমার। এই ফ্লার্টবাজি জিনিসটা একেবারে পছন্দ হয় না রমার। এর আগে বাড়িতে এসেও এমন করে কথা বলছিল ছেলেটা। এ ধরণের গায়ে পড়া হ্যাংলা ছেলে একদম পছন্দ করে না রমা। রমা মনে করে শুধু সিনেমার নায়কদের মত কিংবা কার্তিক ঠাকুর মার্কা হলেই পুরুষ মানুষ হয় না। পুরুষ মানুষ হতে হলে তার ব্যক্তিত্ব থাকা চাই, তার হিউমার থাকা চাই। হয়ত একজন স্বল্প বয়স্ক পুরুষ যখন তার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে সেটা যে কোনো রমার বয়সী নারীর ভেতরে ভেতরে খারাপ লাগে না, তবু এমন দিদির বয়সী মহিলার সাথে এই কলির কেষ্ট ধরনের ছেলেটির ফ্লার্টিং মোটেই আকর্ষণীয় নয়। রমা একবার ভাবলো যদি তার বিয়ে না হত, অনিমেষের চেয়ে কম বয়স হত, তবে কি সে অনিমেষের প্রতি আগ্রহ দেখাতো? রমা আপন মনে বলে উঠল মোটেই নয়। রমার পছন্দে এমন ছেলে কখনোই আসতো না। রমার পছন্দ স্বল্প কথার ছেলে। যে কথায় কথায় গায়ে পড়ে প্রশংসা করে না। যেটুকু বলে সেটুকু বুদ্ধিদিপ্ত, তাতে হিউমার থাকে। যার চেহারায় এমন সিনেমার কমনীয়তা নয় বরং একটা পৌরুষ থাকে। দাম্পত্য জীবনের সতেরো বছরেও পীযুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিত্ব এখনো হারিয়ে যায়নি। ও অহেতুক কতগুলো আপ্রাসঙ্গিক কথা বলে না। পীযুষের হিউমার তো ওর বন্ধু মহলেও প্রশংসিত। স্বামী হিসেবে রমারও গর্বের কারণ। পীযুষকে যখন প্রথম দেখেছিল রমা, কোঁকড়া চুলে ওর ইতিউতি খোঁচা খোঁচা দাড়ি বেশ লেগেছিল। রবীন্দ্র সরোবরের কাছে আসতেই রমা বলল---বাম দিকে চলো ভাই। অনিমেষ গাড়িটা টার্ন নেবার পর বললে---বৌদি আমায় এই 'ভাই' বলে না ডেকে অনিমেষ বলে তো ডাকতে পারেন। 'ভাই' ডাকটা যে অনিমেষের পছন্দ হয়নি সেটা রমা বুঝতে পেরে হেসে উঠল, বলল---তোমার বয়সটা বোধ হয় আমার চেয়ে বেশ কম। ----আপনি যে আমার চেয়ে বড় হবেন সে কথা জানি। কিন্তু তা বলে ভাই। অনিমেষ কুণ্ঠিত বোধ করে বলল কথাটা। ---তোমার বয়স কত। ---থার্টি ফোর প্লাস। ----তাহলে তো তোমার আমাকে দিদি বলেই ডাকা উচিত। আমার থার্টি নাইন। দিদি না বলতে পারলে রমা দি বোলো। রাতে ঘুমোনোর আগে অনিমেষের সাথে যা যা কথোপকথন ঘটেছে পীযুষকে জানালো রমা। তা শুনে পীযুষ হো হো করে হেসে উঠল। বললে---তা বলে তুমি ওকে ভাই বলে ডাকবে! রমা হাসতে হাসতে বললে---ভাগ্যিস পিকলুকে দিয়ে দাদা বলাইনি। বাচ্চা ছেলে একটা, কি না কি বলে! পীযুষ সিগারেট ধরিয়ে বললে---রমা তুমি একটা তোমার এডমায়ারার হারালে। এরপরে লজ্জায় ও আর এ মুখো হবে না। ---এডমায়ারার না ছাই। এ পাড়ায় অনেক মহিলাদের প্রতিই ওর দুর্বলতা আছে। ঠিক বয়সে বিয়ে না করলে পুরুষ মানুষের এমনটা হয়। রমা বিছানাটা টানটান করতে করতে কথাটা বলল। ---এত খবরের খোঁজ পাও কোথা থেকে? এসবের মাধ্যম নিশ্চই তোমার চাঁপা? চাঁপার মা সরলা আগে এ পাড়ার সেনগুপ্তদের বাড়িতে কাজ করত। এখনো ও বাড়িতে ওর যাতায়াত আছে। সেনগুপ্তদের বাড়িটা ঠিক অনিমেষ রায়ের বাড়ির পাশেই। রমা বিছানা রেডি করে বললে---শুয়ে পড়ো। রাত অনেক হয়েছে। কাল তো আবার তোমার ছাত্ররা আসবে। ছাত্রদের কথা বলতেই পীযুষের মনে পড়ল। বললে---রমা, কাল ভোরে একটু চাঁপাকে সাথে নিয়ে পরিষ্কার করে দিও ল্যাবটা। ---চাঁপা! তোমার ঐ ল্যাবে সে কখনো ঢোকে। আমারও কেমন ভয় লাগে আজকাল। ঐ নতুন গোখরোটাকে যে এনে রেখেছো, কেমন ফোঁসফাঁস করে। ---বন্দীদশায় ফোঁস ফাঁস ছাড়া ঐ জীবের কিচ্ছু করার ক্ষমতা নেই। খামোকা ভয় পাও তোমরা। কেমন সোনালী রঙ দেখেছো ওর। রমা পীযুষের পাশে দেহটা এলিয়ে দিয়ে বললে---বেড সুইচটা বন্ধ করে দাও। ++++++
Parent