রাহুলের বন্ধু রোহন ও তার মা - অধ্যায় ২৫

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-69900-post-6225188.html#pid6225188

🕰️ Posted on May 30, 2026 by ✍️ magicianshuvo (Profile)

🏷️ Tags: None
📖 397 words / 2 min read

Parent
অরুণ খাসির মাংস নিয়ে বাড়ি ফিরল প্রায় দেড়টার সময়। প্রায় দেড় কেজি ভালো খাসির মাংস, কিছু হাড়সহ। সুজাতা মাংস দেখে খুশি হয়ে বলল, “এটা ভালোই হয়েছে।” রান্নাঘরে সুজাতা কোমরে আঁচল বেঁধে রান্নায় লেগে গেল। রোহন রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখছিল। অরুণ সোফায় বসে টিভি দেখছিল। সুজাতা প্রথমে মাংস ভালো করে ধুয়ে নিল। তারপর বড় কড়াইতে তেল দিয়ে গরম করল। তেল গরম হতেই তাতে বড় বড় পেঁয়াজের কুচি, রসুন-আদা বাটা, আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে ভাজতে লাগল। পেঁয়াজ ভাজার স্বাদু গন্ধ পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ল। এরপর সে মাংসের টুকরোগুলো দিয়ে দিল। জোরে জোরে নাড়তে লাগল। মাংসের সাথে হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, গরম মশলা আর দই মাখিয়ে দিল। “উফ… গন্ধটা কী সুন্দর বেরোচ্ছে!” রোহন বলল। সুজাতা হেসে বলল, “তুই একটু ধনে পাতা কেটে দে।” মাংস ভাজা ভাজা হয়ে গেলে সে গরমজল  দিয়ে ঢেকে দিল। চুলোর আঁচ মাঝারি করে দিয়ে ঢাকনা দিয়ে রেখে দিল। মাঝে মাঝে নাড়ছিল। ধীরে ধীরে মাংসের গন্ধ, মশলার গন্ধ আর তেজপাতা-দারচিনির সুগন্ধ পুরো ফ্ল্যাট ভরিয়ে দিল। প্রায় চল্লিশ মিনিট পর সুজাতা ঢাকনা খুলে দেখল। মাংস নরম হয়ে এসেছে, গ্রেভি ঘন হয়েছে। সে শেষে এক চামচ গরম মশলা আর ধনে পাতা ছড়িয়ে দিয়ে নামিয়ে দিল। টেবিলে গরম গরম ভাত, খাসির মাংস, শসার রায়তা আর লেবু সাজানো হলো। তিনজনে একসাথে খেতে বসল। মাংসের টুকরো মুখে দিতেই নরম আর মশলায় মাখামাখি। অরুণ প্রশংসা করে বলল, “আজ অনেকদিন পর ভালো রান্না হয়েছে।” সুজাতা হাসল। কিন্তু তার চোখে সামান্য উদ্বেগ ছিল। খাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর, বিকেল চারটে নাগাদ। রোহন নিচে নেমে শ্যামলের কেবিনের কাছে গেল। শ্যামল চেয়ারে বসে ছিল। রোহনকে দেখে সে উঠে দাঁড়াল। “রোহন বাবু… এসেছ?” রোহন চারপাশ দেখে নিয়ে নিচু গলায় বলল, “আমরা কথা বলেছি। তোমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য আমরা সাহায্য করব। প্রথম দফায় এক লাখ টাকা দিতে পারব। বাকিটা পরে দেখা যাবে। কিন্তু একটা শর্ত আছে।” শ্যামল উৎসুক হয়ে বলল, “কী শর্ত?” রোহন শক্ত গলায় বলল, “যা যা রেকর্ডিং করেছ, সব ডিলিট করতে হবে। আর কোনোদিন এই নিয়ে কথা তুলবে না। আমাদের ব্যাপারে কেউ কিছু জানবে না।” শ্যামল মাথা নেড়ে বলল, “আমি কথা দিচ্ছি। আমি শুধু আমার মেয়েকে বাঁচাতে চাই। আর কিছু চাই না।” রোহন একটু থেমে বলল, “কাল সকালে টাকাটা দিয়ে দেব। কিন্তু সাবধান। আমার বাবা যদি কোনো সন্দেহ করে, তাহলে অনেক সমস্যা হবে।” শ্যামল বলল, “আমি খুব সাবধানে থাকব। আর… গতকাল রাতের পর থেকে আমি আর কোনো রেকর্ডিং করিনি।” রোহন মাথা নেড়ে উপরে চলে এল। বাড়িতে ফিরে সে সুজাতাকে সব বলল। সুজাতা চিন্তিত মুখে বলল, “টাকাটা দিয়ে দিলে ভালো। কিন্তু এরপরেও যদি কোনো সমস্যা হয়…”
Parent