মায়ের সাথে মাছ ধরা। - অধ্যায় ১৮
মা- বালাইষাট কেন মানুষ খুন করবি, আমরা সুখে থাকবো সেই ব্যবস্থা করবি।আমি তোর মুখের দিকে তাকিয়ে অনেক সুখের আশায় বেঁচে আছি সোনা অমন কথা একবারের জন্য মুখে আনবি না, তুই কাছে না থাকলে আমি কি নিয়ে থাকব, তুই আমার সব, বলে চোখের জল ফেলল।
আমি- মায়ের চোখ মুছিয়ে দিয়ে বললাম তুমি কি ভাবছ আমি তো কথার কথা বললাম। আমার পাগলি মা নাকি তুমি।
মা- হ্যা সোনা আমি যে পাগল হয়ে গেছি, গত দুই দিন ধরে আমার মনের মধ্যে অনেক চিন্তা, কি করে কি করবি তুই আমার কাছে থাকবি তো সেই সব চিন্তা, তুই কাছে থাকলে আমার কত ভালো লাগে, তোকে বলে বোঝাতে পারবনা বাবা, আমাকে ছেরে জাবিনা তো।
আমি- না মা তুমি আমার সব, তুমি আমার জগত, আমার সত্যিকারে সঙ্গী আমি সব সময় তোমার সঙ্গ পছন্দ করি মা। বাড়ি আসার পর থেকে মানে মাছ ধরতে যাওয়ার পরে আমি বুঝতে পেরেছি, তুমি কত কষ্ট করে আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছো, কি করেছ আমার জন্য, এবার যে তোমার পাওয়ার পালা মা, অনেক দিয়েছ আমাকে এবার আমি দেব তোমাকে। চাকরি করে তোমাকে অনেক সুখে রাখব মা।
মা- চাকরি পাস না পাস সে নিয়ে আমার আখেপ নেই, তুই যা কামাই করছিস আরো কর কিন্তু আমাকে তোর সাথে রাখবি তো। সেই কথা দে আমাকে।
আমি- মা কি যে বল তোমাকে আমি আমার বুকের ভেতর রাখতে চাই, মানে আমার সাথে খুব কাছে রাখতে চাই মা বললাম না তুমি আমার জগত, তুমি না থাকলে আমার জগত অন্ধকার মা।
মা- হ্যা সোনা আমি তোর কাছে থাকবো, খুব কাছে তোর কাছে থাকাই আমার উদ্দেশ্য, অন্য কিছু না সোনা। তোর মাকে একটু ভালবাসিস তাতেই হবে।
আমি- মা আমি তোমাকে কত ভালবাসি কি করে বোঝাবো, তুমি বুঝতে পারছ কেন তোমার কাছে থাকি পাশে থাকি, তোমার বোঝা উচিত।
মা- বুঝি সোনা কিন্তু তবুও মন মানেনা, দেখিস তো তোর বাবা কেমন মানুষ আমার একদম খোঁজ রাখেনা, এভাবে বাচা যায় তুই বল।
আমি- মা বাবাকে ভুলে যাও আমি আছি আমার কাছে থাকবে, তোমার কোন অভাব রাখব না। আমি তো সব বুঝিনা তুমি আমাকে বলবে কি লাগবে, একবার মন খুলে বলবে দ্যাখ আমি পারি কিনা, আমি তোমার সব আশা পুরন করব এই কথা দিলাম এই খোলা আকাশের নীচে বসে, কখনো আমাকে বলতে ইতস্ত করবে না, আমি সব করব মা, অসম্ভব কে সম্ভব করব।যদি কোন নিষিদ্ধ কাজ করতে হয় তাও করব কিন্তু তোমাকে অসুখী থাকতে দেব না মা।
মা- ঠিক আছে সোনা জানি তুই পারবি সে নিয়ে আমার কোন চিন্তা নেই, রাত অনেক হলনা এবার যাবি। কটা খেতে হবে তো বেশ গরম পরছে আকাশের অবস্থাও ভালো না।
আমি- মা এখানে বসে কথা বলতে ভালই লাগছিল, যাবে তবে চল হ্যা রাত বেশ হয়েছে চল তাহলে বলে মায়ের হাত ধরে রওয়ানা দিলাম।
মা- কতদিন পরে এভাবে নিরিবিলি বসে কথা বললাম।
আমি- মা এর আগে কবে এভাবে বসে কথা বলেছে আর কার সাথে বসে কথা বলেছ।
মা- মনে নেই তবে আজ মনটা অনেক ভাল লেগেছে তোর সাথে কথা বলে এভাবে তো কথা কারো সাথে বলা হয়না, বাড়িতে একাই থাকতাম তোর বাবা তো নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, আমি কি করি সে খেয়াল কোনদিন রাখত না। তোরা যখন ছোট ছিলি তখন কাজে ব্যাস্ত থাকতাম কিন্তু তোর দিদির বিয়ে হওয়ার পরে তুই কলকাতা চলে যেতে একদম একা হয়ে গেছিলাম। কতবছর পর আজ আমার ভালো লাগছে।
আমি- মা বলেছিনা এখন থেকে তোমাকে অনেক সময় দেব আমি, এই একমাস তো সব সময় তোমার কাছে থাকবো। আচ্ছা মা একটা কথা বলবে তুমি কি কারো সাথে প্রেম করেছ।
মা- কি বলছিস তুই
আমি- দ্যাখ মা আমাকে বন্ধু ভাবতে পার, আর আমাকে বলতে পার তুমি আমার মা, আমাকে প্রান খুলে বলতে পার আমি কিছু মনে করব না। বিয়ের আগে হতেই পারে।
মা- তার আগে বল তোর কেউ আছে কি। যে আমার বৌমা হবে।
আমি- না মা সে সৌভাগ্য আমার হয়নি, এখনকার মেয়ে আমার ঠিক ভালো লাগেনা, কাউকে দেখে মনে লাগেনি তাছাড়া গরীবের ছেলে কে আমাকে ভালবাসবে তুমি বল।
মা- দরকার নেই আমি দেখে আনবো সুন্দর টুকটুকে বৌমা।
আমি- মা দরকার নেই আমার শুধু তুমি কাছে থাকলেই হবে।
এর মধ্যে সমীর কিরে কি থাকলেই হবে, চল তোদের খুজতে এসেছি মা বলল ওরা কোথায় গেছে ডেকে নিয়ে আয় এক সাথে খাবো। চল ভাই এখানে এসেছিস ভাবতেই পারিনাই।
মা- হ্যা চল বাবা রাত অনেক হল।
সবাই গিয়ে খেতে বসলাম, খেতে খেতে কাকিমা বলল দেখেছিস ওরা মা ছেলে কতসুন্দর গল্প করছে আর তুই আমাকে একদম সময় দিস না তোর বাবা সারাদিন ব্যবসা নিয়ে ব্যাস্ত থাকে আর আমি একা একা থাকি। দিদির কপাল ভালো এমন ছেলে জন্ম দিয়েছে।
সমীর- মা বেশী হয়ে যাচ্ছে বিজয় কয়দিন হল বাড়ি এসেছে আর আগে তো বাইরেই ছিল।