রাহুলের বন্ধু রোহন ও তার মা - অধ্যায় ১৮

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-69900-post-6224991.html#pid6224991

🕰️ Posted on May 30, 2026 by ✍️ magicianshuvo (Profile)

🏷️ Tags: None
📖 383 words / 2 min read

Parent
রোহনের কথা শুনে তিনজনেই একদম চুপ হয়ে গেল। ঘরের ভিতরে শুধু টিভির নিচু ভলিউম আর তাদের ভারী শ্বাসের আওয়াজ। দরজার বাইরে থেকে আবার পায়ের আওয়াজ এল — ধীরে ধীরে, ইচ্ছে করে। যেন কেউ দরজার খুব কাছে দাঁড়িয়ে কান পেতে শুনছে। সুজাতা ফিসফিস করে বলল, “রোহন… জানালা দিয়ে দেখ তো কে?” রোহন আলতো পায়ে জানালার কাছে গিয়ে পর্দা সরিয়ে বাইরে তাকাল। লিফটের করিডরটা অন্ধকার। শুধু একটা হলুদ বাল্ব জ্বলছে। কাউকে দেখা গেল না। কিন্তু সে স্পষ্ট অনুভব করল — কেউ একজন দরজার একদম পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ছায়াটা খুব অল্প দেখা গেল। রিনা আন্টির মুখ ফ্যাকাশে। “আমার আত্মীয়টা… সে কি আবার এসেছে? নাকি অন্য কেউ?” ঠিক তখনই দরজায় তিনবার আলতো করে নক হলো। টক… টক… টক… কেউ কথা বলছে না। শুধু নক। সুজাতার হাত কাঁপছিল। সে রোহনের দিকে তাকিয়ে নীরবে জিজ্ঞাসা করল — খুলবে কি না। রোহন মাথা নেড়ে না বলল। আবার নক। এবার একটু জোরে। টক টক টক! রাহুলের ফোনটা আবার বেজে উঠল। রোহন ফোনটা সাইলেন্ট করে দিল, কিন্তু স্ক্রিনে রাহুলের নাম জ্বলছে। রিনা আন্টি কাঁপা গলায় বলল, “যদি তোর বাবা আগে চলে আসে? নাকি কেউ পুলিশকে খবর দিয়েছে?” সুজাতা হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “আমি দেখছি।” রোহন তার হাত চেপে ধরল, “মা, না।” কিন্তু সুজাতা দরজার কাছে গিয়ে চোখের আড়ালে উঁকি দিয়ে দেখল। কয়েক সেকেন্ড পর সে ফিরে এসে ফ্যাকাশে মুখে বলল, “কেউ নেই… করিডর খালি।” কিন্তু ঠিক তখনই তাদের ফ্ল্যাটের ঠিক পাশের রিনা আন্টির ফ্ল্যাটের দরজা খোলা আর বন্ধ হওয়ার আওয়াজ হলো। তারপর আবার নীরবতা। রোহনের গলা শুকিয়ে গিয়েছিল। “রিনা আন্টি… আপনি কি আজ বিকেলে আপনার আত্মীয়কে কিছু বলেছেন? কোনো ডিটেল?” রিনা আন্টি মাথা নিচু করে বলল, “আমি কিছু বলিনি… কিন্তু সে বলছিল, সে নাকি গতকাল রাতে একটা মেয়ের চিৎকার শুনেছে যেটা… খুব অদ্ভুত লাগছিল। আর ছেলের গলাও শুনেছে। সে তোমাদের ফ্ল্যাট নম্বর জানে।” হঠাৎ টিভির আলো নিভে গেল। লোডশেডিং। পুরো ফ্ল্যাট অন্ধকার হয়ে গেল। শুধু মোবাইলের আলোয় তিনজনের মুখ আবছা দেখা যাচ্ছে। বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। জোরে জোরে বৃষ্টির ফোঁটা জানালায় আঘাত করছে। সুজাতা কাঁপা গলায় বলল, “রোহন… বাবা আসার আগে আমাদের কিছু একটা করতে হবে। যদি কেউ সন্দেহ করে…” ঠিক তখনই রোহনের ফোনে একটা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ এল। অজানা নম্বর থেকে। মেসেজটা খুলতেই শুধু লেখা: “আমি সব দেখেছি আর শুনেছি। কথা বলতে চাই। এখনই।” সাথে একটা ছবি। ছবিটা অন্ধকার করিডরের, কিন্তু তাদের ফ্ল্যাটের দরজা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। রিনা আন্টি হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরল। সুজাতা ফিসফিস করে বলল, “এখন কী করবি রোহন?”
Parent